Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রিমিক মাঝি: আইএসএফ-এর ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার পৌঁছল কলকাতা হাইকোর্টে। উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রায়দান স্থগিত রেখেছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। ফলে আপাতত ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে আইএসএফ-এর দাবি এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত—দুইয়ের ভবিষ্যৎই আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে (Calcutta High Court)।
প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে কমিশনের যুক্তি (Calcutta High Court)
শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী যুক্তি দেন, সাধারণ নির্বাচন এবং উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের বিষয়টি একভাবে দেখা যায় না। তাঁর বক্তব্য, কোনও প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেই নির্দিষ্ট প্রতীকের ওপর তাঁর অধিকার তৈরি হয় না। কমিশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, কোনও প্রতীক কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়।
এই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, যদি একই প্রতীকের জন্য দু’টি আবেদন আসে, তাহলে কমিশনের দায়িত্ব কী? কোনও একটি আবেদন গ্রহণ করে অন্যটিকে প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ থাকা প্রয়োজন কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে শুনানিতে।
‘দু’টি আবেদন থাকলে সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী?’ (Calcutta High Court)
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, কোন বিধানের ওপর ভিত্তি করে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে, তা রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট করতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, নির্বাচনের আগে যদি একটি দলকে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়ে থাকে, তাহলে একই প্রতীকের জন্য অন্য আবেদনটি কেন বিবেচনায় নেওয়া হয়নি, তারও ব্যাখ্যা প্রয়োজন। বিচারপতি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষকে আদালতের সামনে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে হবে। একই প্রতীক নিয়ে একাধিক দাবি থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ ছিল, সেই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
ঋত শিবিরের বক্তব্যেও প্রশ্ন (Calcutta High Court)
ঋত শিবিরের হয়ে আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য দাবি করেন, ‘খাম’ প্রতীকটি শুধুমাত্র উপনির্বাচনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে বিচারপতি স্পষ্ট করেন, প্রতীক বরাদ্দের সময় যে ভিত্তি দেখানো হয়েছিল, শুনানির পর্যায়ে এসে তার বাইরে নতুন যুক্তি তৈরি করা যায় না।
আইএসএফ-এর পাল্টা দাবি (Calcutta High Court)
আইএসএফ-এর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য নির্বাচন কমিশনের যুক্তির বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেরই অংশ হিসেবে উপনির্বাচনকে দেখা উচিত এবং সাধারণ নির্বাচনে আইএসএফ-এর প্রতীক ছিল ‘খাম’। তাই উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই প্রতীক কীভাবে বাতিল করা যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আরও পড়ুন: SRFTI: SRFTIতে ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনাকে ঘিরে তিনটি মামলা পুলিশি অভিযোগে একাধিক ধারা
তবে প্রতীক ইতিমধ্যেই অন্য পক্ষকে বরাদ্দ হয়ে যাওয়ায় এই পর্যায়ে আদালত কতটা হস্তক্ষেপ করতে পারে, সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও শুনানিতে উঠে আসে। সব পক্ষের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর বিচারপতি চূড়ান্ত শুনানি শেষ করলেও রায় ঘোষণা করেননি। ফলে এখন আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে ‘খাম’ প্রতীককে ঘিরে চলা এই আইনি লড়াই।



