Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১৯২১ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের গবেষণাপত্রই পরবর্তীকালে পুনর্লিখন, পুনর্বিন্যাস ও ব্যাপক পরিবর্ধনের মাধ্যমে ‘ও-ডি-বি-এল’-এর রূপ নেয় (Suniti Kumar Chatterjee)। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক উদ্যোগে এই বৃহৎ গ্রন্থ প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করে। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ১৯২৬ সালে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। দুর্ভাগ্যবশত সেই সময় আশুতোষ মুখোপাধ্যায় প্রয়াত হলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রন্থটির গুরুত্ব উপলব্ধি করে সুনীতিকুমারকে ‘ভাষাচার্য’ অভিধায় ভূষিত করেন।

নব্য ভারতীয় আর্য ভাষার ইতিহাস (Suniti Kumar Chatterjee)
‘ও-ডি-বি-এল’-এর প্রকৃত মাহাত্ম্য এখানেই যে এটি কেবল বাংলা ভাষার ইতিহাস নয়। বাংলা ভাষার বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অসমিয়া, ওড়িয়া, মৈথিলি, হিন্দি, গুজরাতি, মারাঠি-সহ প্রায় সমস্ত নব্য ভারতীয় আর্য ভাষার ইতিহাসের সুলুকসন্ধান এখানে করা হয়েছে। এই অর্থে গ্রন্থটি ভারতীয় আর্য ভাষার সামগ্রিক ইতিহাসগ্রন্থ হিসেবেও সমাদৃত। অনেক ভাষাবিজ্ঞানীর মতে, পৃথিবীর খুব কম ভাষারই ইতিহাস এত তথ্যসমৃদ্ধ ও বিশাল পরিসরে রচিত হয়েছে।
‘ও-ডি-বি-এল’-এর অনন্যতা (Suniti Kumar Chatterjee)
ভাষার ইতিহাস ও ধ্বনিতত্ত্ব এই দুই শাখার আলোচনায় ‘ও-ডি-বি-এল’ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। ধ্বনি পরিবর্তন, পদ পরিবর্তন ও তাদের নিয়মগুলি যে নিখুঁতভাবে এখানে নির্ধারিত হয়েছে, তা ঐতিহাসিক ভাষাতত্ত্বের ইতিহাসে প্রায় তুলনাহীন। যদিও অন্বয় বা বাক্যতত্ত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা নেই, তবু ধ্বনিতত্ত্ব ও রূপতত্ত্বে গ্রন্থটির অবদান বিশ্বমানের। এই কারণেই জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘নব্য-পাণিনি’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

স্বনিমতত্ত্বের যুগল আলোচনা (Suniti Kumar Chatterjee)
‘ও-ডি-বি-এল’-এ বর্ণিত ধ্বনিতত্ত্ব আধুনিক অর্থে কেবল বর্ণনামূলক ধ্বনিতত্ত্ব নয়; এটি একই সঙ্গে ধ্বনিতত্ত্ব ও স্বনিমতত্ত্ব। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত স্বনিমগুলির তালিকা যেমন দেওয়া হয়েছে, তেমনই সেগুলির উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাতত্ত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এই বিশ্লেষণ আজও গবেষণার মানদণ্ড হয়ে রয়েছে।
পরিবর্তন ও ‘ও-ডি-বি-এল’-এর অবস্থান (Suniti Kumar Chatterjee)
সোস্যুরের বর্ণনামূলক ভাষাতত্ত্ব, পরবর্তীকালে চমস্কির রূপান্তরমূলক ব্যাকরণ ভাষাবিজ্ঞানে নানা যুগান্তকারী তত্ত্বের আবির্ভাব ঘটেছে। আপাতভাবে এগুলি ঐতিহাসিক ও তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের প্রতিপক্ষ বলে মনে হলেও, ভাষার ব্যবহারগত দিককে গুরুত্ব দেওয়ার জায়গায় সবারই একটি মিল রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে ‘ও-ডি-বি-এল’ আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি ভাষার বিবর্তনকে জীবন্ত ও চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরে।
বহুভাষিক প্রভাব (Suniti Kumar Chatterjee)
গ্রন্থে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে যে বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় বা আর্য উপগোষ্ঠীর একটি শাখা। মাগধি অপভ্রংশ থেকে উদ্ভূত হলেও সংস্কৃত, প্রাকৃত, দ্রাবিড়ীয়, আরবি, ফারসি, পর্তুগিজ ও ইংরেজি এই বহুবিধ ভাষার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে। ধ্বনি, বর্ণমালা ও লিপির ইতিহাসও এখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলোচিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: Mid Day Meal Bihar: মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ৭০ পড়ুয়া, বিহারের স্কুলে চাঞ্চল্য!
তিন খণ্ডে বিস্তৃত এক ভাষা-ইতিহাস
‘ও-ডি-বি-এল’-এর প্রথম খণ্ডে ধ্বনিতত্ত্ব ও তুলনামূলক ভাষা বিশ্লেষণ, দ্বিতীয় খণ্ডে রূপতত্ত্ব, প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ, বিশেষ্য, সর্বনাম, শ্বাসাঘাত ও ছন্দ বিষয়ে বিশদ আলোচনা রয়েছে। ১৯৭১ সালে প্রথম প্রকাশের প্রায় ৪৫ বছর পরে তৃতীয় খণ্ড সংযোজিত হয়, যা মূলত দ্বিতীয় খণ্ডের সংশোধনী ও সংযোজনী হিসেবে কাজ করে।



