Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: দুর্গাপুজো এখনও বেশ কয়েকদিন দূরে। শরতের আকাশেও এখনও বর্ষার মেঘের আনাগোনা (Suvendu Adhikari)। মাঝেমধ্যেই বৃষ্টিতে ভিজছে শহর ও শহরতলি। কিন্তু পুজোর আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ যেন চড়তে শুরু করেছে। আর সেই উত্তাপের কেন্দ্রে এবার উঠে এসেছে বই, বুক স্টল এবং ‘দুর্গাপুজো’ বনাম ‘শারদোৎসব’ শব্দের বিতর্ক।
বিধানসভায় বুক স্টল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য (Suvendu Adhikari)
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি নিশানা করেন সিপিআইএমকে। পুজোর সময়ে বিভিন্ন জায়গায় বুক স্টল দেওয়া হলেও সেখানে ‘দুর্গাপুজো’র পরিবর্তে ‘শারদোৎসব’ লেখা হলে সেই স্টল করতে দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশেও তাঁর বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য সামনে আসার পরেই পাল্টা সরব হয়েছে সিপিআইএম। তাদের দাবি, বইয়ের স্টল বা সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহারের প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক নির্দেশিকা জারি করা আসলে মুক্ত চিন্তার পরিসরকে সংকুচিত করার চেষ্টা।
পুরনো পোস্ট তুলে পাল্টা জবাব শতরূপের (Suvendu Adhikari)
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পরই সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পুরনো পোস্ট সামনে আনেন। সেই পোস্টে দেখা যায়, ২০২২ সালের ষষ্ঠীর দিন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যবাসীকে ‘শারদ শুভেচ্ছা’ জানিয়েছিলেন। এই পুরনো পোস্টকে সামনে রেখেই বর্তমান মন্তব্যের সঙ্গে তাঁর অতীত অবস্থানের তুলনা টেনে কটাক্ষ করেছে বাম শিবির। অর্থাৎ, যে ‘শারদ’ শব্দকে ঘিরে এখন আপত্তির প্রশ্ন উঠছে, অতীতে সেই শব্দই শুভেচ্ছাবার্তায় ব্যবহৃত হয়েছিল, এই বক্তব্যই রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরতে চাইছে সিপিআইএম।

রবীন্দ্রনাথের ‘শারদ উৎসব’ দিয়ে পাল্টা বার্তা সেলিমের (Suvendu Adhikari)
বিতর্ক আরও অন্য মাত্রা পায় সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শারদ উৎসব’ বইয়ের প্রথম পাতার ছবি পোস্ট করেন। এর মাধ্যমে বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, ‘শারদ’ শব্দটি বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
‘বাংলা চলবে বাংলার নিয়মে’—মুস্তাফিজুর (Suvendu Adhikari)
সিপিআইএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমানও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর কটাক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী কি বিধানসভাকে বিজেপির কোনও মিটিং ভেবেছিলেন যে এই ধরনের ‘ফতোয়া’ দিতে হচ্ছে? তাঁর বক্তব্য, বাংলা চলবে বাংলার নিজস্ব নিয়মে। অন্যদিকে সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর আসল ভয় বইকে নয়, বরং বইয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মুক্ত চিন্তাকে।
আরও পড়ুন: Nabanna: মানা হচ্ছে না অগ্নি সুরক্ষা বিধি, কলকাতার ৯১৯ হোটেল-গেস্ট হাউস বন্ধের নির্দেশ নবান্নের

মহালয়ার আবহে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক
এই বিতর্কে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর বক্তব্যেও উঠে আসে মহালয়ার প্রসঙ্গ। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহালয়ার ঐতিহ্যবাহী আবহের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বোঝাতে চান, বাংলার উৎসব, সংস্কৃতি ও আবেগকে কোনও একটি রাজনৈতিক সংজ্ঞার মধ্যে বেঁধে রাখা যায় না। দুর্গাপুজো আসতে এখনও সময় বাকি। কিন্তু তার আগেই বুক স্টলকে কেন্দ্র করে ‘দুর্গাপুজো’ বনাম ‘শারদোৎসব’ বিতর্ক যে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, পুজোর মরশুম যত এগোবে, এই বিতর্কও কি ততই বাড়বে?



