Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মায়ের প্রসাদে মাছের মাথা, মাছ ভাজা, বাসন্তি পোলাও। রাজ্যজুড়ে আমিষ-বিতর্কের আবহে মন্দিরে বসেই মাছ খেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কালীঘাট মন্দিরে (Kalighat Temple) বসে পাঁচ রকমের মাছের সম্ভার দিয়ে সাজানো মায়ের প্রসাদ গ্রহণ করেন তিনি।
মা কালীর চরণে মাছ-ভোগ নিবেদন (Kalighat Temple)
কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্য তিথিতে বেনারসি শাড়ি, রক্তজবার মালা আর পুজোর ডালা হাতে কালীঘাট মন্দিরে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। আরতি করেন, অঞ্জলি দেন। পুজোর শেষে মাটিতে বসে পাতে তুলে নিলেন মাছের মাথা, বাসন্তী পোলাও আর ভেটকি-ইলিশের নানা পদ (Fish-Bhog)। দুর্গাপুজো ও ধর্মীয় উৎসবে আমিষ খাওয়া নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর, মুখ্যমন্ত্রীর মাছ-ভোগ গ্রহণ কি ‘বাগেশ্বর বাবা‘কে (Bageswar Baba) মোক্ষম জবাব?
আরও পড়ুন:Durga Puja: মদ খেয়ে মণ্ডপে ঠাকুর দেখা যাবে না, জারি নির্দেশিকা
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে (Kalighat Temple) দেবীর আরাধনায় শুভেন্দু অধিকারীর নামে সংকল্প করে বিশেষ পুজো দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছেতেই দেবীর ভোগে রাখা হয়েছিল রাজকীয় সব পদ। সুগন্ধি বাসন্তী পোলাও, মুগ ডাল, শুক্তো ও নানাবিধ সবজি। পাঁচ রকমের ভাজাবুজি ও পোস্ত-পনিরের পদ। আর মাছের সম্ভার। ইলিশ, চিংড়ি, ভেটকি, পার্শে এবং কাতলা-সহ পাঁচ রকমের মাছ। বিশেষ ভোগ ছিল কাতলা মাছের কালিয়া, মাছের মাথা, বলির নিরামিষ পাঠার মাংস, চাটনি ও পায়েস।
পুজোর নিয়ম সমাপন করে মন্দিরের চাতালেই সাধারণের মতো মাটিতে আসন পেতে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃপ্তি করে গ্রহণ করেন মা কালীর এই বিশেষ ‘আমিষ’ প্রসাদ।
বাগেশ্বর বাবা বিতর্কে জবাব? (Non-Veg Controversy)
বাঙালির ঐতিহ্য তিনি মুছতে দেবেন না! মুখে নয়, কাজেই প্রমাণ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি বাগেশ্বর বাবা সনাতন ধর্মে পুজোর সময়ে আমিষ ভক্ষণ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। সেই বিতর্কের আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটে (Kalighat Temple) আমিষ ভোগ খাওয়াকে একপ্রকার মোক্ষম জবাব হিসেবেই দেখছে সচেতন মহল। পুজো শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গেই উত্তর দেন।
আরও পড়ুন:CM Suvendu Adhikary: বাগেশ্বর বাবাকে অপমানের প্রতিবাদে এবার অ্যাকশন শুভেন্দুর
তিনি বলেন, ‘একজন সন্ত বা বাবা তাঁর ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করতেই পারেন। সেটা যার গ্রহণ করার ইচ্ছে তিনি করবেন, না হলে করবেন না। আমি নিজেও মহাঅষ্টমীর দিন কিংবা কার্তিক মাসে সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক আহার করি। কিন্তু বাঙালি হিসেবে দেবীকে নিবেদিত মাছ বা পাঁঠা বলির প্রসাদ গ্রহণ করা আমাদের প্রাচীন পরম্পরা।’ কালীঘাটের মন্দিরে (Kalighat Temple) মৎস ভক্ষন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ দুপুরেও মায়ের ভোগে থাকা মাছের মাথা আর বাসন্তী পোলাও খেলাম। সনাতন সংস্কৃতি জাগ্রত থাকবে এবং গেরুয়া ধ্বজ চিরকাল উঁচুতে উড়বে।’
বাঙালি সংস্কৃতিতে মা কালীকে মাছ-মাংস নিবেদন করার রীতি বহু পুরোনো। বাগেশ্বর বাবার (Bageswar Baba) বক্তব্যকে একপাশে সরিয়ে রেখে বাংলার এই চিরাচরিত লোকায়ত ও সনাতন ঐতিহ্যকেই প্রকাশ্যে অগ্রাধিকার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।


