Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলায় রবিবার সকালে ঘটে গেল এক ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা (TamilNadu)। একটি সি-ফুড প্রসেসিং কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শ্রমিকদের মধ্যে। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে অন্তত দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কমপক্ষে ৬৫ জন শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
হঠাৎ ঝাঁঝালো গন্ধ, তারপরই শুরু বিপর্যয় (TamilNadu)
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কর্মব্যস্ত রবিবার সকালে কারখানার শ্রমিকরা আচমকাই একটি তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ অনুভব করেন। প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না পেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক শ্রমিকের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিতে শুরু করে। অনেকের শ্বাস নিতে কষ্ট হতে থাকে। কারও মাথা ঘুরতে শুরু করে, আবার কেউ বমি করতে থাকেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বহু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে কারখানা কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে যে কোনও বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে।
কারখানাজুড়ে হুড়োহুড়ি, শুরু উদ্ধার অভিযান (TamilNadu)
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে দ্রুত কারখানার শ্রমিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। অসুস্থ শ্রমিকদের নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা চালু করা হয়। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছে। যাঁদের অবস্থা গুরুতর, তাঁদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
কোথায় ঘটেছে এই দুর্ঘটনা? (TamilNadu)
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালম এলাকার সেন্ট পিটার্স অ্যান্ড পাল সিফুড এক্সপোর্ট ফেসিলিটি নামে একটি সি-ফুড প্রসেসিং ইউনিটে। মূলত চিংড়ি ও সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য পরিচিত এই কারখানায় হিমায়ন ব্যবস্থার কাজে অ্যামোনিয়া গ্যাস ব্যবহার করা হয়। শিল্পক্ষেত্রে অ্যামোনিয়া একটি বহুল ব্যবহৃত রাসায়নিক হলেও নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি বাতাসে মিশে গেলে তা মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

প্রাথমিক তদন্তে কী উঠে এসেছে? (TamilNadu)
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, কারখানার একটি মেজার ভাল্ভ বা পরিমাপ নিয়ন্ত্রণকারী ভাল্ভ থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব নাকি অন্য কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই গ্যাস লিকের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি কারখানার নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অ্যামোনিয়া গ্যাস কেন এত বিপজ্জনক? (TamilNadu)
অ্যামোনিয়া একটি বর্ণহীন কিন্তু অত্যন্ত তীব্র গন্ধযুক্ত গ্যাস। শিল্পকারখানা, রেফ্রিজারেশন ইউনিট এবং রাসায়নিক উৎপাদন ক্ষেত্রে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। উচ্চমাত্রায় অ্যামোনিয়া গ্যাসের সংস্পর্শে এলে— শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে, চোখ ও নাকে তীব্র জ্বালা সৃষ্টি হয় মাথা ঘোরা ও বমি হতে পারে, ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রাণহানিও ঘটতে পারে, বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত চিকিৎসা না পেলে অ্যামোনিয়া বিষক্রিয়া প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শুরু তদন্ত (TamilNadu)
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তামিলনাড়ু সরকারের শীর্ষমহলে তৎপরতা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শোকপ্রকাশ রাজ্যপালের (TamilNadu)
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, তিরুভাল্লুর জেলার কান্নিগাইপেয়ার গ্রামের চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের ঘটনায় বহু শ্রমিকের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতদের পরিবারের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন: Beguner Malaikari: ভিন্ন স্বাদের বেগুন রেসিপি, জামাইষষ্ঠী স্পেশাল বেগুনের মালাইকারি!
শিল্প নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
এই দুর্ঘটনা আবারও শিল্পাঞ্চলগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবহৃত হয় এমন কারখানাগুলিতে নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং শ্রমিকদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।



