Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলা রাজনীতিতে জুতো, কালো পতাকা, বিক্ষোভ, স্লোগান এসব বহুদিনের পরিচিত প্রতিবাদের ভাষা ( TMC Egg Attack)। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন প্রবণতা চোখে পড়ছে। বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার বা বিতর্কে জড়িয়ে পড়া তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে জনতার একাংশের হাতে দেখা যাচ্ছে ডিম। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে তৃণমূল দেখলেই ডিম ছোড়া হচ্ছে কেন? হঠাৎ কি ডিমের দাম কমে গেল, নাকি এটি জনরোষ প্রকাশের নতুন প্রতীক?
সল্টলেকে লক্ষ্য করে ডিম বৃষ্টি ( TMC Egg Attack)
সম্প্রতি সল্টলেকে তৃণমূল নেতা জয় প্রকাশ মজুমদারকে নিয়ে তাঁর অফিসে তল্লাশি চালাতে আসে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। বাড়ি দখল ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জয় প্রকাশ মজুমদার বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ তাঁকে নিয়ে অফিসের সামনে পৌঁছতেই জমায়েত বিক্ষোভকারীদের একাংশ চোর-চোর স্লোগান দিতে শুরু করে। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর উদ্দেশে ডিম ছোড়া হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে জয় প্রকাশ মজুমদার নাকি পুলিশকে হাতজোড় করে অনুরোধ করেন, “আমি নামবো না”। এই ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
গড়ফায় কাউন্সিলরকে ঘিরে উত্তেজনা ( TMC Egg Attack)
এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল গড়ফায়। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর ওরফে রানাকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ ডিম নিক্ষেপ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে পুলিশ মাঝখানে মানবপ্রাচীর তৈরি না করলে জনতার ক্ষোভ আরও বড় আকার নিতে পারত। একের পর এক ডিম ছোড়া এবং তীব্র স্লোগানে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

অপমানের প্রতীক না জনরোষের বহিঃপ্রকাশ?
বিশ্ব রাজনীতিতে ডিম ছোড়া নতুন ঘটনা নয়। বহু দেশে কোনও জনপ্রতিনিধি বা বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে অপমান বা প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ডিম ছোড়ার পিছনে কয়েকটি মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে, ডিম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা একটি বস্তু। শারীরিকভাবে গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে এটি অপমানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বিক্ষোভকারীরা অনেক সময় নিজেদের ক্ষোভকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করতে এই পদ্ধতি বেছে নেন। ফলে ডিম এখানে খাদ্য নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
“সানডে হো ইয়া মানডে, রোজ খাও আন্ডে” ( TMC Egg Attack)
ভারতের বিখ্যাত বিজ্ঞাপন স্লোগান ছিল “সানডে হো ইয়া মানডে, রোজ খাও আন্ডে”। চিকিৎসকরাও বলেন, প্রতিদিন একটি ডিম শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে ডিমের ব্যবহার সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে ডিম খাওয়া মানে পাতে নয়, পিঠে বা গায়ে খাওয়া। এর স্বাদ, গন্ধ বা অনুভূতি কেমন তা বোধহয় সাম্প্রতিক সময়ে ডিমবৃষ্টির মুখে পড়া রাজনৈতিক নেতারাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন।
ডিমের বর্তমান বাজারদর কত? (TMC Egg Attack)
মজার বিষয় হলো, ডিম এখন আর খুব সস্তা খাদ্য নয়। বর্তমানে কলকাতার খুচরা বাজারে, সাধারণ মুরগির ডিম: প্রায় ৭–৮ টাকা প্রতি পিস দেশি মুরগির ডিম: প্রায় ১৫–১৮ টাকা প্রতি পিস ৩০টি ডিমের এক ট্রে (খাচি): প্রায় ২০০–২২৫ টাকা। অর্থাৎ রাজনৈতিক বিক্ষোভে ডিম ছোড়ার জন্যও এখন বেশ কিছু টাকা খরচ করতে হচ্ছে। তাই অনেকেই মজা করে বলছেন, “ডিমের দাম যতই বাড়ুক, ক্ষোভের দাম তার চেয়েও বেশি।”

বাংলার রাজনীতিতে ডিমের শিকার হওয়া পরিচিত মুখ
অভিষেক ব্যানার্জী: ২০২৬ সালের মে মাসে সোনারপুরে এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো, কাদা এবং পাথর নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
বাবুল সুপ্রিয়: ২০১৬ সালে আসানসোলে তাঁর কনভয়ের ওপর হামলার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। যদিও সেখানে মূলত পাথর নিক্ষেপের অভিযোগ ছিল, তবুও রাজনৈতিক সহিংসতার অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে এটি স্মরণ করা হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়লেও তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের বহুল স্বীকৃত ঘটনা খুব বেশি নথিভুক্ত হয়নি। তবে রাজনৈতিক প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি বহুবার ছিলেন।
সুকান্ত মজুমদার: তাঁকে ঘিরেও একাধিক রাজনৈতিক সংঘাত ও বিক্ষোভের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। যদিও ডিম নিক্ষেপের নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে তাঁর নাম সাধারণত জড়িত নয়।
আরও পড়ুন: TMC: সোনারপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে রাজারহাটে বিক্ষোভ, লাঠিচার্জ পুলিশের
রাজনৈতিক বার্তা নাকি জনতার হতাশা?
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদের অধিকার স্বীকৃত। তবে সেই প্রতিবাদ যখন ডিম, জুতো বা অন্য বস্তু নিক্ষেপের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, তখন তা রাজনৈতিক অসন্তোষের একটি প্রতীকী ভাষায় পরিণত হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি ইঙ্গিত করছে যে দুর্নীতি, তোলাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হচ্ছে। ডিম ছোড়া সেই ক্ষোভেরই দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠেছে।



