Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : চিন ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ ফের তীব্র আকার নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump Tariff War) ঘোষণা করেছেন, আগামী মাস থেকে চীনা পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। চীনের বিরল খনিজ (Rare Earth Minerals) রপ্তানিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়াতেই এই পদক্ষেপ নিতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে নতুন শুল্কনীতি (Trump Tariff War)
ট্রাম্প (Donald J. Trump) জানান, নতুন শতভাগ শুল্ক আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে(Trump Tariff War)। বর্তমানে চীনা পণ্যের উপর ৩০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে, অর্থাৎ নতুন নীতির ফলে মোট শুল্ক দাঁড়াবে ১৩০ শতাংশ।
একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন, একই তারিখ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার রপ্তানির উপরও আমেরিকা নিজস্ব নিয়ন্ত্রণনীতি চালু করবে।
চিনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান (Trump Tariff War)
চিনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প (Trump Tariff War) সামাজিক মাধ্যমে লেখেন—
“চিন এখন শত্রুভাবাপন্ন আচরণ করছে, তারা বিশ্বকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও জানান, যদি বেইজিং বিরল খনিজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রও শুল্কনীতিতে শিথিলতা আনতে পারে।

আরও পড়ুন : Google Doodle on Idli : কেন সকাল থেকে গুগল খুলতেই দেখা যাচ্ছে দক্ষিণী খাবার ইডলি? জানুন আসল কারণ
বিরল খনিজ রপ্তানিতে চিনের নতুন বিধিনিষেধ (Trump Tariff War)
চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় Rare Earth Minerals উৎপাদক(Trump Tariff War)। বৃহস্পতিবার বেইজিং ঘোষণা করেছে,
- পাঁচটি নতুন উপাদানে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হবে,
- ডজনখানেক পরিশোধন প্রযুক্তি (refining technology) রপ্তানির ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে,
- চীনা উপকরণ ব্যবহারকারী বিদেশি উৎপাদকদেরও নতুন অনুবর্তিতা নীতি (compliance rules) মেনে চলতে হবে।
এই সিদ্ধান্তকে মার্কিন প্রশাসন “বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টির কৌশল” হিসেবে দেখছে।
APEC সম্মেলন ঘিরে অনিশ্চয়তা
ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত এশিয়া-প্যাসিফিক ইকনমিক কো-অপারেশন (APEC) সম্মেলনের ফাঁকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক থেকেও তিনি সরে আসতে পারেন(Trump Tariff War)।
যদিও পরে তিনি জানান, বৈঠকটি এখনও বাতিল হয়নি, তবে হবে কি না তা অনিশ্চিত।
বাণিজ্যযুদ্ধের নতুন অধ্যায়
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে মাসের পর মাস ধরে চলা “ট্যারিফ ট্রুস” বা শুল্কবিরতি-র অবসান ঘটল এই ঘোষণায়(Trump Tariff War)। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপে শুধু প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাত নয়, বিশ্ববাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও মার্কিন পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলে বিরল খনিজ থেকে ইলেকট্রনিক পণ্য পর্যন্ত বহু শিল্পক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা শুধু আমেরিকা ও চীনের নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যকেও নাড়িয়ে দিতে পারে।


