Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ব অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা। দফায় দফায় আলোচনার পর অবশেষে কিছুটা শীতলতা এল আমেরিকা ও চিনের দীর্ঘস্থায়ী শুল্কযুদ্ধে (US China Tariff War)। সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর দুই পক্ষই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ৯০ দিনের জন্য একে অপরের পণ্যের উপর চাপানো শুল্কের হার ১১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
শুল্কে সাময়িক ‘যুদ্ধবিরতি’ (US China Tariff War)
সোমবার মার্কিন রাজস্বসচিব স্কট বেসান্ত এক বিবৃতিতে জানান, চিন ও আমেরিকা যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে পরবর্তী তিন মাস অর্থাৎ ৯০ দিনের জন্য অতিরিক্ত শুল্ক কার্যত স্থগিত থাকবে (US China Tariff War)। নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, এখন থেকে চিনা বাজারে মার্কিন পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক এবং আমেরিকার বাজারে চিনা পণ্যের উপর ৩০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর থাকবে।‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় আশার আলো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুরুটা হয়েছিল ফেন্টানাইল ঘিরে (US China Tariff War)
শুল্কযুদ্ধের সূচনা ঘটে ফেন্টানাইল নামক ব্যথানাশক ওষুধকে কেন্দ্র করে (US China Tariff War)। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, মার্কিন বাজারে বেআইনিভাবে এই প্রাণঘাতী ওষুধ প্রবেশ করছে চিন থেকে। তারই জেরে ট্রাম্প প্রশাসন একের পর এক শুল্ক আরোপ করতে শুরু করে—শুরুতে কানাডা, মেক্সিকো এবং পরে চিনের উপর। পরে এই শুল্কের আওতায় আসে ভারত-সহ আরও একাধিক দেশ।বিশেষত চিনা পণ্যের উপর শুল্ক আরোপে ছিল নজিরবিহীন কঠোরতা। ২০২৩ সালের শুরুতে চিনা পণ্যের উপর প্রথমে ২০ শতাংশ, পরে ৩৪ শতাংশ এবং শেষে আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চিনও একের পর এক মার্কিন পণ্যে উচ্চ হারে শুল্ক চাপায়।এই ধারাবাহিক শুল্ক চাপানোর পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত আমেরিকার বাজারে চিনা পণ্যের উপর মোট শুল্কের হার পৌঁছয় ১৪৫ শতাংশে, আর চিনা বাজারে মার্কিন পণ্যের উপর শুল্ক হয় ১২৫ শতাংশ(US China Tariff War)।

বাজারে ধাক্কা ও রাজনৈতিক চাপ (US China Tariff War)
শুল্কযুদ্ধ শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, প্রভাব ফেলতে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতি ও মার্কিন শেয়ার বাজারে (US China Tariff War)। ডাও জোন্স, ন্যাসড্যাক ও এসঅ্যান্ডপি সূচকে টানা পতন দেখা দেয়। বহু আমেরিকান ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিক ট্রাম্প প্রশাসনের এই কড়া বাণিজ্য নীতির বিরোধিতা করেন।ফলে চলতি বছরের শুরুতেই কিছুটা নমনীয় হন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, “চিনের পণ্যের উপর শুল্ক অনেকটাই কমানো হতে পারে, তবে তা একেবারে শূন্যে নামবে না(US China Tariff War)।”

জেনেভা বৈঠকের তাৎপর্য (US China Tariff War)
এই অবস্থায় গত সপ্তাহে জেনেভায় দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধি ও রাজস্ব আধিকারিকদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় (US China Tariff War)। শনিবার শুরু হওয়া আলোচনা রবিবার পর্যন্ত গড়ায়। ওই বৈঠকের ফলস্বরূপ সোমবার আসে শুল্ক কমানোর ঘোষণা।চিন ও আমেরিকার তরফে এ ধরনের যুদ্ধবিরতি এই প্রথম নয়, তবে এত বড় মাপের শুল্ক হ্রাস বা স্থগিতকরণ গত পাঁচ বছরে হয়নি। এই সিদ্ধান্তে পরিষ্কার, দুই দেশই কূটনৈতিক স্তরে কিছুটা নমনীয় হয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণের পথ ধরেছে।

আরও পড়ুন: Statue of Donald Trump : লড়াই, লড়াই, লড়াই চাই! প্রচারে হামলার স্মরণে ওভাল অফিসে ট্রাম্পের মূর্তি
স্বস্তির হাওয়া, তবে স্থায়ী নয় (US China Tariff War)
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ডঃ শার্লট গ্রিনবার্গের মতে, “এই সাময়িক বিরতি দুই দেশের জন্যই কৌশলগতভাবে দরকার ছিল (US China Tariff War)। আমেরিকার নির্বাচনী রাজনীতিতে চাপ, আর চিনের ধীরগতি অর্থনীতি—দুই দেশই কিছুটা সময় কিনেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে আগামী ৯০ দিনে আলোচনার গতি ও বিশ্ব রাজনীতির ওপর।” বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-র পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে।আমেরিকা-চিন শুল্কযুদ্ধের এই বিরতি বিশ্ব অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, পরিস্থিতি যে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, তা স্পষ্ট। ভবিষ্যৎ আলোচনায় যদি কোনো পক্ষ আগ্রাসী অবস্থানে ফিরে যায়, তাহলে পুনরায় উত্তেজনা ছড়াতে পারে। তবে আপাতত এই ৯০ দিনের শুল্ক স্থগিতাদেশ আন্তর্জাতিক বাজার, বিনিয়োগকারী ও রফতানিকারকদের জন্য একটি আশার আলো বয়ে আনছে(US China Tariff War)।


