Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত থেকে আমেরিকায় রফতানিকৃত পণ্যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আমেরিকার প্রশাসন (US Tariff Impact)। আগামী ২৭ অগস্ট থেকে এই নীতি কার্যকর হতে চলেছে। ট্রাম্প সরকারের এই নতুন শুল্কনীতি ইতিমধ্যেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় রফতানিকারক ও শিল্পমহলের কাছে। কারণ, এতে শুধু ব্যবসার ক্ষতি নয়, কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুল্ক বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব (US Tariff Impact)
ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের (FIEO) সভাপতি এসসি রালহান জানিয়েছেন, আমেরিকায় রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের জন্য এটি বড় ধাক্কা (US Tariff Impact)। ভারত থেকে আমেরিকায় রফতানিকৃত প্রধান পণ্যের তালিকায় রয়েছে দামি জহরত, গয়না, বস্ত্র, সামুদ্রিক মাছ, এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ। এই সব খাতই নতুন কর বসার ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।
রফতানিকারক সংস্থাগুলি বলছে, বাংলাদেশ, ভিয়েতনামের মতো দেশ থেকে আমেরিকায় পণ্যে কম শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা ভারতীয় রফতানির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ফলে এই দেশগুলি যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিযোগিতায় সুবিধা পাবে। ইতিমধ্যেই রফতানির বরাত কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন একাধিক সংস্থা।
২০২৪ সালের বাণিজ্য ঘাটতির প্রেক্ষাপট (US Tariff Impact)
আমেরিকার সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আমেরিকা ভারতে যে পরিমাণ পণ্য রফতানি করেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি পণ্য আমদানি করেছে ভারত (US Tariff Impact)। ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারতের পক্ষে ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৫৮ কোটি ডলার (প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকা)। শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
আরও পড়ুন: Putin India Visit : রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের চলতি মাসেই ভারত সফরে আসছেন পুতিন!
কোন কোন খাতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব? (US Tariff Impact)
১. সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী
ভারত থেকে আমেরিকায় ৬০ হাজার কোটি টাকার সামুদ্রিক মাছ রফতানি হয়, যার মধ্যে চিংড়ির ভাগই সর্বাধিক (US Tariff Impact)। ট্রাম্পের (Donald J. Trump) শুল্কনীতির ফলে এ খাতের ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবী ও কৃষকরাও প্রভাবিত হবেন বলে জানিয়েছেন SEA-এর সভাপতি পবন কুমার।
২. বস্ত্র শিল্প
তিরুপ্পুর, নয়ডা ও সুরতের মতো কেন্দ্রগুলিতে বস্ত্র রফতানি প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নতুন বরাত মিলছে না। সিআইটিআই সভাপতি সঞ্জয় জৈন জানিয়েছেন, পুরনো অর্ডারের পণ্য এখন ক্ষতি নিয়েই রফতানি করতে হবে।
৩. জহরত ও গয়না
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আমেরিকায় ৮৩ হাজার কোটি টাকার গয়না রফতানি করেছে ভারত। এখন সেই বাজার সংকুচিত হলে বিকল্প গন্তব্য হিসেবে ভারত নজর দিচ্ছে দুবাই ও মেক্সিকোর দিকে (US Tariff Impact)।
৪. গাড়ির যন্ত্রাংশ
এই খাতে ভারতের রফতানির অর্ধেক যায় আমেরিকায়। নতুন শুল্কনীতিতে এই খাতেও ৫০ শতাংশ রফতানির ক্ষতি হতে পারে।

ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ (US Tariff Impact)
বিশেষজ্ঞ সন্তোষ মিনা জানিয়েছেন, এখনও কিছুটা সময় রয়েছে আলোচনার (US Tariff Impact)। ২৪ অগস্ট আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি দল ভারতে আসছে। যদি আলোচনা ফলপ্রসূ হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের সম্ভাবনা আছে। তবে তিনি এটিকে ট্রাম্পের ‘আগ্রাসী কৌশল’ বলে অভিহিত করেছেন।

যদিও তথ্যপ্রযুক্তি, ফার্মা ও ইলেকট্রনিক্স খাত নতুন শুল্কের আওতায় পড়েনি, তবু এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় অর্থনীতিতে পরোক্ষভাবে ধাক্কা দিতে পারে। কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং রফতানি ঘাটতিতে এই চাপ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শ্লথ করতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্কনীতি ভারতীয় শিল্প ও রফতানিকারীদের জন্য এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ভারত এই সমস্যার কৌশলী সমাধান খুঁজে পায় কি না। অন্যথায়, এই সিদ্ধান্ত ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় রকম প্রভাব ফেলতে পারে।


