Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটার তালিকা হল সেই মৌলিক নথি, যার উপর দাঁড়িয়ে নাগরিকের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব (Uttar Pradesh)। সেই তালিকায় যখন একসঙ্গে কোটি কোটি নাম বাদ পড়ে, তখন তা নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থাকে না তা হয়ে ওঠে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। বিহারের পর উত্তরপ্রদেশে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ায় সেই বিতর্ক নতুন করে উসকে উঠেছে।

উত্তরপ্রদেশে কেন একই ছবি? (Uttar Pradesh)
বিহারে এসআইআর চলাকালীন যেমন হঠাৎ করে ভোটারের সংখ্যা কমে গিয়েছিল, উত্তরপ্রদেশেও প্রায় একই চিত্র দেখা গেল। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর জানা যায়, রাজ্য থেকে বাদ পড়েছে ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটার। এই বিপুল ছাঁটাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে এটি কি নিছক তালিকা শুদ্ধিকরণের ফল, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও গভীর কাঠামোগত সমস্যা?
সংখ্যার আড়ালে সামাজিক বাস্তবতা (Uttar Pradesh)
সবচেয়ে আলোচিত ও উদ্বেগজনক বিষয় হল, বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে ১ কোটি ৫৪ লক্ষই মহিলা। এর জেরে রাজ্যে মহিলা ও পুরুষ ভোটারের অনুপাত নেমে এসেছে ৮২৪:১০০০-এ। এই অনুপাত শুধু পরিসংখ্যানগত তথ্য নয়, এটি রাজ্যের লিঙ্গ-ভিত্তিক সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। গ্রামীণ ও আধা-শহুরে সমাজে আজও বহু মহিলা বিয়ের পর নিজের পরিচয়, ঠিকানা ও নথি হালনাগাদ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় সেই বাস্তবতার যথাযথ প্রতিফলন না ঘটলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নারীরাই।

কী বলছে নির্বাচন কমিশন? (Uttar Pradesh)
উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খসড়া তালিকায় রাজ্যে মোট ১২ কোটি ৫৫ লক্ষের বেশি বৈধ ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে, মহিলা ভোটার: ৫.৬৭ কোটি, পুরুষ ভোটার: ৬.৮৮ কোটি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মধ্যে সাহিদাবাদ অঞ্চলে লিঙ্গ অনুপাত সবচেয়ে বেশি কমেছে। এই তথ্য স্পষ্ট করছে, সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্যও এতে জড়িত।
বিয়ের পরে নাম কাটার জটিলতা (Uttar Pradesh)
নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বহু মহিলার নাম একাধিক জায়গায় ভোটার তালিকায় থেকে যাওয়ার কারণে সংশোধনের সময় একটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিয়ের পরে নতুন ঠিকানায় নাম তোলা হয়েছে, কিন্তু পুরনো এলাকায় নাম কাটেনি এই যুক্তি প্রশাসনিক দিক থেকে যৌক্তিক মনে হলেও প্রশ্ন থেকে যায় এই দ্বৈত নথিভুক্তির দায় কার? প্রশাসনের, না নাগরিকের? এবং সেই দায়ের খেসারত কেন মহিলাদেরই বেশি দিতে হচ্ছে?
‘ভূত ভোটার’ ও মৃতদের নাম (Uttar Pradesh)
খসড়া তালিকা অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৪৬.২৩ লক্ষ মৃত ব্যক্তি রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নাম থাকা ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার একটি পুরনো সমস্যা। এসআইআর প্রক্রিয়ায় এই ‘ভূত ভোটার’ বাদ পড়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক, তবে এত বড় সংখ্যাও প্রশাসনিক শৈথিল্যের দিকেই ইঙ্গিত করে।

আরও পড়ুন: Mumbai: মুম্বইয়ে ফের রিসর্ট রাজনীতি: বিএমসি জিততে প্রতিনিধিদের পাঁচতারা হোটেলে পাঠাল শিন্ডে শিবসেনা
উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যার চরিত্র
বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ২.১৭ কোটি স্থানান্তরিত ভোটার। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও জীবিকার খোঁজে রাজ্যের একাংশ মানুষের অন্যত্র চলে যাওয়া উত্তরপ্রদেশের দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে তাঁরা কি স্থায়ীভাবে রাজ্যের বাইরে চলে গিয়েছেন, না কি সাময়িকভাবে? যদি সাময়িক হয়, তবে তাঁদের ভোটাধিকার কীভাবে সুরক্ষিত হবে?



