Last Updated on [modified_date_only] by Megha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) যৌথ বিবৃতিতে সই করেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর সেই পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর(SCO)। এই পদক্ষেপের নেপথ্যে যুক্তি ব্যাখ্যা করে জয়শঙ্কর বলেন, যৌথ বিবৃতিতে সন্ত্রাসবাদের কোনও উল্লেখ করতে চায়নি এসসিও-র একটি দেশ।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা (SCO)
সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ভারতের অবস্থানকে দুর্বল করতে এসসিও-র যৌথ বিবৃতিতে নজর ঘোরাতে চাইছিল পাকিস্তান(SCO)। কিন্তু ভারত পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা এবং সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে। এই পরিস্থিতিতে এসসিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে যৌথ বিবৃতিতে সই করেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করার সময় রাজনাথ সিং স্পষ্ট বলেন, ‘আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থলগুলি আর নিরাপদ নয়। আমরা ভবিষ্যতেও এই জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করতে দ্বিধাবোধ করব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলি হল শান্তি, নিরাপত্তা এবং আস্থার ঘাটতি। ভারত বিশ্বাস করে, বহুপাক্ষিক সংলাপ এবং সহযোগিতার ব্যবস্থা তৈরি করা হলে তা দেশগুলির মধ্যে সংঘাত রোধে সাহায্য করতে পারে। কোনও দেশ, তা যত বড় এবং শক্তিশালীই হোক না কেন, একা সন্ত্রাসবাদকে মোকাবিলা করতে পারবে না।’

বিদেশমন্ত্রীর সমর্থন (SCO)
এই পদক্ষেপের পেছনের যুক্তি ব্যাখ্যা করে এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যে এসসিও গঠিত হয়েছিল(SCO)। রাজনাথ সিং যখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে গিয়েছিলেন।যখন বিবৃতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, তখন একটি দেশ বলেছিল যে তারা এগুলি উল্লেখ চায় না। রাজনাথ সিং-এর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা, আর সেটাই আপনি যৌথ বিবৃতিতে যখন উল্লেখের অনুমতি দিচ্ছেন না, তখন তিনি মেনে নিতে পারেননি… এসসিও সর্বসম্মতভাবে চলে। তাই রাজনাথ সিং স্পষ্টভাবে বলেছেন যে যদি বিবৃতিতে সন্ত্রাসবাদের উল্লেখ না থাকে, তাহলে আমরা এতে স্বাক্ষর করব না।’
আরও পড়ুন-Himachal Pradesh: মেঘ ভাঙা বৃষ্টি বিপর্যস্ত হিমাচল, জলের তোড়ে ভেসে মৃত ৫
নয়া দিল্লির কড়া পদক্ষেপ (SCO)
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে জানান, এসসিও-র সম্মেলনে কোনও যৌথ বিবৃতি গৃহীত হয়নি(SCO)। কিছু বিষয়ে কিছু দেশ ঐকমত্যে পৌঁছোতে পারেনি। ফলে ওই নথিটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘ভারত চাইছিল সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগের কথা ওই নথিতে উল্লেখ থাকুক। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট দেশ তা মেনে নিতে পারছিল না। সেই কারণেই বিবৃতিটি গৃহীত হয়নি।’ বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দু’মুখো আচরণের কোনও জায়গা নেই! সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির লড়াইয়ের বার্তা স্পষ্ট করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই লড়াইয়ে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যাঁরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দু’মুখো আচরণ করে, সেই দেশগুলির সমালোচনা করতে এসসিও-র কোনও দ্বিধা থাকা কাম্য নয়।’

আরও পড়ুন-Air India: ফের খবরে এয়ার ইন্ডিয়া! ব্যাঙ্ককগামী বিমানের ডানায় খড়; আটকে রইল ৫ ঘন্টা
যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ এসসিও সম্মেলন (SCO)
কোনও যৌথ বিবৃতি না দিয়েই চিনে শেষ হয়েছে এসসিও-র সম্মেলন(SCO)। পিটিআই জানিয়েছে, পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাস নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগের বিষয়ে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ ছিল না এসসিও-র নথিতে। সেই কারণেই ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেননি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এসসিও মূলত সদস্যরাষ্টগুলির ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করে। ঘটনাপরম্পরা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একাধিক ব্যক্তির থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পিটিআই জানিয়েছে, ওই বিবৃতিতে রাজনাথ অনুমোদন না-দেওয়ায় কোনও যৌথ বিবৃতি ছাড়াই এসসিও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সম্মেলন শেষ হয়।এদিকে এই সম্মেলনে পাকিস্তানের তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন খাজা আসিফ। তাঁর সামনেই রাজনাথ বলেন, ‘রাষ্ট্রসংঘের দ্বারা নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি)-র শাখা রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট পহেলগাঁও হামলার দায় স্বীকার করেছিল।’



