Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শীতের মরসুমে ঘন কুয়াশা ফের প্রাণ (Yamuna Expressway Accident) কেড়ে নিল। মঙ্গলবার ভোরে উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় একের পর এক গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন অন্তত চার জন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২৫ জন যাত্রী। দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে সাতটি বাস ও তিনটি যাত্রীবাহী গাড়ি।
হঠাৎ করেই কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যায় (Yamuna Expressway Accident)
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভোরের দিকে হঠাৎ করেই কুয়াশার (Yamuna Expressway Accident) ঘনত্ব বেড়ে যায়। সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। সেই অবস্থাতেই দ্রুতগতিতে আসা একাধিক বাস ও গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরপর একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের তীব্রতায় কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে এক্সপ্রেসওয়ে জুড়ে ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বাস ও গাড়ির ভিতরে আটকে পড়েন বহু যাত্রী। আতঙ্কে চিৎকার শুরু হয়ে যায়।
চার জনের মৃত্যু (Yamuna Expressway Accident)
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মথুরা (Yamuna Expressway Accident) জেলা পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঠানো হয় ১২টিরও বেশি দমকল ইঞ্জিন। পাশাপাশি আহতদের উদ্ধারে মোতায়েন করা হয় ১৪টিরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স। দীর্ঘ সময় ধরে চলে উদ্ধারকাজ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস ও গাড়ির ভিতর থেকে যাত্রীদের টেনে বার করে আনা হয়। মথুরার পুলিশ সুপার শ্লোক কুমার জানান, এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয়, আহতদের মধ্যে কারও অবস্থাই গুরুতর নয়। সকল আহতকে দ্রুত মথুরা, নয়ডা, কানপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। উদ্ধারকাজ প্রায় শেষের দিকে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন
জেলা শাসক চন্দ্রপ্রকাশ সিং এই দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আগুন নেভাতে দমকল বাহিনী, আহতদের উদ্ধার করতে স্বাস্থ্য দপ্তর এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ একযোগে কাজ শুরু করে। সকল আহত বর্তমানে বিপদমুক্ত বলে জানান তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগুন লেগে যাওয়ার কারণে কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে দমকল বাহিনীর তৎপরতায় দ্রুত আগুন নেভানো সম্ভব হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। অনেকে নিজের গাড়িতে করে আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেন।

আরও পড়ুন: IPL 2026: আইপিএল ২০২৬ মিনি নিলাম আজ, কবে থেকে শুরু?
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময়ের জন্য সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে দিল্লি-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়ে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত বাস ও গাড়িগুলি সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ শুরু করে পুলিশ। ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। একইসঙ্গে অক্ষত যাত্রীদের সরকারি গাড়িতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। প্রশাসন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, আপাতত উদ্ধার ও ত্রাণকাজই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ তদন্ত করে দেখা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে ঘন কুয়াশা, কম দৃশ্যমানতা এবং অতিরিক্ত গতিকেই দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর ঠিক একদিন আগেই দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতেও ঘন কুয়াশার কারণে প্রায় ২০টি গাড়ির সংঘর্ষে বড় দুর্ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় দুই পুলিশকর্মী-সহ চার জনের মৃত্যু হয়। পরপর এমন দুর্ঘটনায় শীতের মরসুমে কুয়াশার সময় ধীর গতিতে গাড়ি চালানো, ফগ লাইট ব্যবহার এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে ফের সতর্ক করল প্রশাসন।


