Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আর্জেন্টাইন মহাতারকার সফরকে ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। লিওনেল মেসি(Lionel Messi) মাঠ ছাড়তেই গ্যালারি থেকে বোতল ছোড়া থেকে শুরু করে, ঘটে ব্যানার ভাঙার ঘটনা । তারপর ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে ঢুকে রীতিমতো তাণ্ডব চালায় উন্মত্ত জনতা। এবার ভাঙচুরের অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।
যুবভারতীতে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার ৫ !(Lionel Messi)
জানা গিয়েছে নাগেরবাজার থেকে ওই দু’জনকে পাকড়াও করেছে দক্ষিণ বিধাননগর থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম সঞ্জয় দাস এবং অভিজিৎ দাস ও বাসুদেব দাস। পুলিশ সূত্রে খবর, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভাঙচুরের ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয় এই দু’জনকে। সেই সূত্র ধরেই নাগেরবাজার থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আটটি নির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর রুজু করেছে পুলিশ। সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়া, ইচ্ছাকৃত ভাবে সরকারি কর্মীকে আহত করা, কর্তব্যরত সরকারি কর্মীকে গুরুতর ভাবে জখম করা, গোলমাল পাকানোর মতো অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ধারাগুলি যুক্ত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে এবং শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগেও নির্দিষ্ট আইনের ধারায় এফআইআর রুজু হয়েছে।
আগেই গ্রেফতার মেসির গোট কনসার্টের মূল উদ্যোক্তা(Lionel Messi)
এর আগে মেসির(Lionel Messi) গোট কনসার্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যুবভারতী কাণ্ডে সবমিলিয়ে ছয়জন গ্রেফতার হয়েছে এখনও পর্যন্ত। এই ঘটনায় শতদ্রুর সংস্থার কর্তাদেরও তলব করা হয়েছে। কেবল শতদ্রুর সংস্থা নয়, শনিবার যুবভারতীতে যে বিভিন্ন সংস্থা দায়িত্বে ছিল, তলব করা হয়েছে সেই সংস্থার প্রতিনিধিদেরও। মোট ৬জনকে মঙ্গলবার থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। জল সরবরাহ, টিকিট বিতরণের মতো কাজের দায়িত্ব ছিল এই সংস্থাগুলির উপর। মেসির সফরের সময় তাঁদের কাজে কোনও গাফিলতি ছিল কিনা, সেই নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ওই ৬জন।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro: সঙ্গী আসেননি, মেট্রোর গেট আটকে দাঁড়িয়ে তরুণী!
মেসির সফর ঘিরে তাণ্ডব যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে
উল্লেখ্য, ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসির(Lionel Messi)কলকাতা সফর ঘিরে শনিবার দৃশ্যত তাণ্ডব চলে সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। মেসি, সুয়ারেজ়, ডি’পলেরা স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু প্রায় ২০ মিনিট সেখানে থাকার পরেই স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যান তাঁরা। যে সময়টুকু মেসিরা স্টেডিয়ামে ছিলেন, পুরো সময়টাই তাঁদের ঘিরে একটি জটলা হয়ে ছিল। সেই জটলার মধ্যে ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও। ওই জটলার কারণে গ্যালারি থেকে দর্শকেরা কেউই মেসিকে প্রায় দেখতেই পাননি। আর তার জেরেই মেসিরা স্টেডিয়াম ছাড়ার পরে জনতার রোষ আছড়ে পরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে গ্যালারিতে হোর্ডিং ছেঁড়া থেকে শুরু হয় ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ। তার পরে শুরু হয় বোতলবৃষ্টি।
গ্যালারি থেকে মাঠের দিকে একের পর এক বোতল উড়ে যেতে শুরু করে। ক্রমে সেই রোষ বৃদ্ধি পেতে থাকে। গ্যালারির চেয়ার ভেঙে চলে তাণ্ডব। তার পরে মাঠের ফেন্সিং ভেঙে চতুর্দিক থেকে ক্রুদ্ধ জনতার ভিড়ে দখল নেয় মাঠের। শনিবারের ওই তাণ্ডবের বহু ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমের পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিয়োগুলি ইতিমধ্যে নজরে এসেছে পুলিশের। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা শুরু হয়। ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই ৫ জনকে চিহ্নিত করে বিধাননগর পুলিশ। সেই মতো সোমবার সকালে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।


