Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আমেরিকার জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে(US Economy)। তবে খ্যাত বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারী রায় ডালিওর মতে, শুধু ঋণের এই বিশাল পরিমাণ নয়, বরং এর পেছনের ‘ঋণ চক্র’ (Debt Cycle) আরও বেশি উদ্বেগজনক।
ডালিওর মতে, মার্কিন অর্থনীতি তার বই ‘How Countries Go Broke: The Big Cycle’-এ বর্ণিত বিপৎসংকেতগুলো দেখাতে শুরু করেছে। বন্ডের সুদের হার (Bond Yields) বৃদ্ধি, ডলারের দুর্বলতা এবং বিশাল পরিমাণ নতুন ট্রেজারি বন্ডের জন্য ক্রেতা খোঁজার চ্যালেঞ্জ এর প্রধান লক্ষণ।
‘বিগ ডেট সাইকেল’ কীভাবে কাজ করে? (US Economy)
ডালিও ঋণব্যবস্থাকে মানবদেহের রক্ত সঞ্চালনের সাথে তুলনা করেছেন। ঋণ ততক্ষণ ভালো, যতক্ষণ তা আয় ও উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন ঋণ পরিশোধের খরচ আয়ের চেয়ে দ্রুত বাড়ে।
আমেরিকার বার্ষিক রাজস্ব প্রায় ৫.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, কিন্তু খরচ প্রায় ৭.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার। প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার কেবল সুদে যায় এবং ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়নের (Rollover) প্রয়োজন হয়।
তিনটি বিপজ্জনক পরিণতি
সুদের হার বৃদ্ধি: ঋণের জোগান চাহিদার চেয়ে বেশি হলে, ক্রেতা আকর্ষণ করতে সুদের হার বাড়াতে হবে। এতে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ আরও বেড়ে যায়।
টাকা ছাপানো ও মুদ্রাস্ফীতি: ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বন্ড কিনে সংকট মেটাতে গেলে ডলারের মান কমে এবং মুদ্রাস্ফীতি তীব্র হয়।
অর্থনৈতিক ‘হার্ট অ্যাটাক’: একপর্যায়ে ঋণের সুদের চাপ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খরচকে গ্রাস করে এবং ঋণ-অর্থনীতিতে অচলাবস্থা তৈরি করে(US Economy)।
আরও পড়ুন: Indian Arrest: আমেরিকায় বয়স্কদের ঠকিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগ: কানাডায় গ্রেফতার ভারতীয় যুবক
ডালিও মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। জাতীয় বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারলে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব(US Economy)। বিশ্বজনীন রিজার্ভ কারেন্সি হওয়ার কারণে ডলারের যে অনন্য সুবিধা রয়েছে, তা কেবল বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপরই টিকে থাকে। আস্থায় চিড় ধরলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এক বড় সংকট দেখা দিতে পারে।



