Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘যে রাধে, সে চুলও বাঁধে।’ সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের পরিচয় তৈরি করতে গেলে দামি ক্যামেরা, ঝাঁ চকচকে স্টুডিও কিংবা ব্র্যান্ডেড পোশাকই সব এমন ধারণা অনেকের (Pujarini Pradhan)। কিন্তু সেই ধারণাকেই ভুল প্রমাণ করেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের গ্রামের বধূ পূজারিণী প্রধান। স্যাঁতস্যাঁতে ঘর, অল্প আলো, সাধারণ সাজপোশাক এসবের মধ্যেই নিজের গল্প বলতে শুরু করেছিলেন তিনি। আর সেই গল্পই আজ পৌঁছে গিয়েছে মেটার মঞ্চে।
বিয়ের পর থেমে যায়নি পড়াশোনা (Pujarini Pradhan)
পড়াশোনার প্রতি বরাবরই আগ্রহ ছিল পূজারিণীর। স্নাতক পাশ করার পর বিয়ে হয়ে যাওয়ায় মাস্টার্সের পড়াশোনা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সংসার সামলানোর পাশাপাশি নিজের স্বপ্নকে অবশ্য তিনি বিসর্জন দেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ শুরু করার পর ফের মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন তিনি। এবার তাঁর বিষয় ইংরেজি।
ভাঙা ইংরেজি থেকেই আত্মবিশ্বাসের শুরু (Pujarini Pradhan)
পূজারিণীর কনটেন্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তাঁর ইংরেজিতে কথা বলা। প্রথম দিকে সেই ইংরেজি ছিল সাবলীল নয়, ছিল ভাঙা-ভাঙা। কিন্তু ভুলকে ভয় না পেয়ে প্রতিদিন নিজেকে উন্নত করেছেন। কখনও সদ্য দেখা সিনেমা নিয়ে আলোচনা, কখনও বইয়ের রিভিউ, আবার কখনও ঘরকন্নার টুকরো ছবি সবকিছুই নিজের স্বতন্ত্র ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন তিনি।
সাধারণ জীবনই হয়ে উঠল অসাধারণ (Pujarini Pradhan)
তাঁর ভিডিওতে নেই কৃত্রিম বিলাসিতা। গ্রামের পরিবেশ, সাধারণ রান্নাঘর, সংসারের কাজ এবং সহজ-সরল জীবনযাপনই তাঁর কনটেন্টের প্রাণ। আর এই বাস্তবতাই নেটদুনিয়ার দর্শকদের কাছে তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে দ্রুত বেড়েছে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা, সঙ্গে বেড়েছে উপার্জনও।
৫০ টাকার দুলেই ‘অনন্যা’ (Pujarini Pradhan)
সম্প্রতি মেটার একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন পূজারিণী। সেখান থেকে পোস্ট করা ভিডিওতে নিজের সাজের খরচও তুলে ধরেন তিনি। কানে ৫০ টাকার দুল, গলায় ১০০ টাকার হার, পায়ে ৫০০ টাকার জুতো সাধারণ এই সাজেই মঞ্চে হাজির হয়েছেন তিনি। আয় বাড়লেও বদলায়নি তাঁর জীবনযাপনের ধরন।

আরও পড়ুন: Taki Tourism Pollution: টাকির পর্যটনখ্যাতিতে কালো দাগ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ
সাফল্যের আসল সৌন্দর্য কোথায়?
পূজারিণীর গল্প তাই শুধুমাত্র একজন সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটরের সাফল্যের গল্প নয়। এটি নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার গল্প, অসম্পূর্ণ পড়াশোনাকে ফের শুরু করার গল্প এবং নিজের মতো করে স্বপ্ন দেখার গল্প। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, সাফল্যের জন্য সবসময় ঝাঁ চকচকে পর্দার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন সাহস, মেধা, পরিশ্রম এবং প্রতিদিন নিজেকে একটু একটু করে বদলে নেওয়ার মানসিকতা।



