Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অমল চক্রবর্তী, হুগলি: নদীর পাড়ে বাস, চিন্তা বারো মাস। বলাগড়ে (Balagarh Ganga Erosion) গঙ্গার ভাঙনে তলিয়ে গেছে নতুন পিচের রাস্তা, ৪০০ কোটির প্রজেক্টে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস মন্ত্রীর।
বালির বস্তা আর প্রতিশ্রুতির মাঝেই কাটছে দিন (Balagarh Ganga Erosion)
নদীর পাড়ে বাস, চিন্তা বারো মাস-এই প্রবাদই এখন (Balagarh Ganga Erosion) চরখয়রামারির বাসিন্দাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। বর্ষায় গঙ্গার ভাঙন ভয়ংকর রূপ নিয়েছে বলাগড়ে। ভিটেমাটি, জমি সব চলে গেছে নদীগর্ভে। কয়েক মাস আগে তৈরি হওয়া নতুন পিচের রাস্তাও এখন গঙ্গার জলে তলিয়ে গেছে। যেকোনও সময় গঙ্গার জল ঢুকে পড়তে পারে বাড়ির উঠোনে। কখন শেষ সম্বলটুকুও ভেসে যায়, সেই আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটছে গ্রামবাসীদের। বালির বস্তা আর প্রতিশ্রুতির মাঝেই দিন কাটছে চরখয়রামারির মানুষের। তাঁদের দাবি একটাই, রাজনীতির বার্তা নয়, এবার চাই গঙ্গার ভাঙন থেকে স্থায়ী মুক্তি।
নতুন করে ভাঙ্গন (Balagarh Ganga Erosion)
জানা গেছে, কয়েক মিটার এলাকা জুড়ে ফের নতুন (Balagarh Ganga Erosion) করে ভাঙন শুরু হয়েছে। রাস্তা না থাকায় এখন অন্যের জমির উপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। গঙ্গার পাড় বরাবর নিচ দিয়ে যাওয়া পানীয় জলের পাইপলাইনেও ফাটল ধরেছে। ফলে পানীয় জলের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
একসময় এখানে রানীনগর, দুর্লভপুর ও গৌরনগর এই তিনটি মৌজা ছিল। তার মধ্যে দুটি মৌজা এখন পুরোপুরি গঙ্গার গর্ভে। বর্তমানে টিকে আছে দুর্লভপুর এবং রানীনগরের কিছু অংশ। আগে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষের বসতি থাকলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০০ থেকে ৩১৫ পরিবারে। জীবিকা হারিয়ে অনেকে এখন দিনমজুর বা ক্ষেতমজুরের কাজ করছেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য (Balagarh Ganga Erosion)
- চরখয়রামারির বাসিন্দা অসীম ঘোষাল বলেন, “দুমাস আগেই তৈরি হওয়া রাস্তা নদীতে তলিয়ে গেছে। যাতায়াতের সমস্যার সঙ্গে পানীয় জলেরও সমস্যা। প্রশাসন বহুবার ডাম্পিং, খাঁচা বেঁধে বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সবই জলে চলে যাচ্ছে। ডবল ইঞ্জিনের সরকারের কাছে আমরা চাই স্থায়ী সমাধান, কংক্রিটের বাঁধ।”
- শিউলি সরকার বলেন, “সন্তানদের নিয়ে রাতে ঘুম হয় না। বাঁধ হওয়ার পর ভেবেছিলাম আর ভাঙবে না। কিন্তু আবার ভেঙে গেল। অন্য জায়গায় জমি কেনার সামর্থ্য নেই। তাই বাধ্য হয়ে এখানেই থাকতে হচ্ছে। বিজেপি সরকারের কাছে আশা, তারা বিষয়টি ঠিক করে দেবে।”
- স্থানীয় বাসিন্দা সরস্বতী ঘোষাল বলেন, “যেভাবে গঙ্গা ভাঙছে তাতে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। খেলার মাঠটাও চলে গেছে। সরকার বদলায় কিন্তু পরিস্থিতির বদল হয় না। বস্তা দিয়ে কাজ হবে না। পাকা কংক্রিট করে দিক।”

- স্থানীয় বাসিন্দা সুপ্রিতি মণ্ডল বলেন, “একটু করে ভাঙে আর একটু একটু করে পিছিয়ে যাই। এবার ভাঙলে যাব কোথায়? বালির বস্তা বা বাঁশের খাঁচা দিয়ে আর হবে না। এবার কংক্রিটের চাই।”
ভাঙন নিয়ে সরব সাংসদ
উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের পর হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে গঙ্গা ভাঙন নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তারপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের তিন সদস্য গুপ্তিপাড়া ফেরিঘাট থেকে লঞ্চে করে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। সঙ্গে ছিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও স্থায়ী ব্যবস্থা হয়নি বলে অভিযোগ। গুপ্তিপাড়া, চাঁদরা, চাঁদরা কলোনি, সুখড়িয়া, জিরাটের চরখয়রামারি, মিলনগড়, সোমড়া এলাকাতেও ভাঙনের জেরে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।
বিধায়কের বক্তব্য
এ বিষয়ে বলাগড়ের বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুমনা সরকার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন গুপ্তিপাড়া থেকে হাওড়ার উলুবেড়িয়া পর্যন্ত পুরো প্রকল্প রেডি করা হয়েছে। তাতে ৪০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা যেতে পারে। কিছু প্রসিডিউর বাকি আছে। গঙ্গার ভাঙন থেকে আমরা খুব শীঘ্রই মানুষকে মুক্তি দিতে পারব।”

আরও পড়ুন: Political Duet Goes Viral: ‘গুরুদক্ষিণা’র গানে একসঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল, পান্ডুয়ার মঞ্চের ভিডিও ভাইরাল
বিগত বাম ও তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে সুমনা বলেন, “বাংলার বুকে ৩৪ বছর ও ১৫ বছরের সরকার ছিল। যিনি এমপি আছেন তাঁর উচিত ছিল গুরুত্ব দেওয়া। তাঁরা কেন দেখেননি জানি না। বিরোধীরা কুৎসা অপপ্রচার করছে। বিগত সরকার ভাঙন রোধ করেনি, উল্টে গঙ্গা থেকে বালি-মাটি চুরি হয়েছে। আমরা সেটা রুখেছি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমরা করে দেব।”


