Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: তরুণ প্রজন্মকে শুধুমাত্র ভোটের সময় কাছে টানার কৌশল হিসেবে দেখলে চলবে না—এমনই বার্তা দিলেন বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty)। তাঁর কথায়, ইঞ্জিনিয়ারিং-সহ বিভিন্ন শিক্ষাক্ষেত্রের তরুণ-তরুণীরা ভোটের জন্য ভরসা চাওয়া কোনও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ নন। তাঁরা সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই তাঁদের দাবি, প্রশ্ন এবং অধিকারকে রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
‘প্রশ্ন করা ও অধিকার চাওয়া স্বাভাবিক’ (Sujan Chakraborty)
সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্যে উঠে এসেছে শিক্ষিত তরুণ সমাজের স্বাভাবিক মানসিকতার কথা। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া করতে চান, নতুন কিছু বুঝতে চান, প্রশ্ন করতে চান এবং নিজেদের অধিকার অর্জন ও আদায় করতে চান। এই প্রশ্ন করার মানসিকতাকে কোনওভাবেই নেতিবাচক চোখে দেখা উচিত নয়। বরং একটি গণতান্ত্রিক সমাজে তরুণ প্রজন্মের প্রশ্নই ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করে।
ইতিহাসের সংগ্রামে তরুণদের ভূমিকার কথা স্মরণ (Sujan Chakraborty)
তরুণদের ভূমিকা বোঝাতে ইতিহাসের প্রসঙ্গও টেনে আনেন সুজন চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, যুগে যুগে কম বয়সি ছেলে-মেয়েরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামে সামিল হয়েছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামেও তরুণ প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাই আজকের তরুণদের প্রশ্ন, আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেই মনে করেন তিনি।
শিক্ষা, কাজ ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব (Sujan Chakraborty)
সুজনের মতে, রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা। তাঁরা যে প্রশ্নই তুলুন না কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তরুণদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তাঁদের বিভিন্ন রাজনৈতিক তকমা দেওয়া গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে স্বাস্থ্যকর নয় বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।
বিজেপি-আরএসএসকে নিশানা (Sujan Chakraborty)
এই প্রসঙ্গেই আরএসএস, বিজেপি এবং শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে সরব হন সুজন চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, তরুণদের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারার কারণেই তাঁদের নানা ভাবে ‘দাগিয়ে’ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—তরুণদের রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে তাঁদের শিক্ষা, অধিকার ও ভবিষ্যৎকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
আরও পড়ুন: Abhishek Banerjee PA: সুমিত রায়ের আগাম জামিন শুনানিতে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’ নিয়ে সরব সুপ্রিম কোর্ট
‘মানুষ বিবেচনাতেই রাজনীতি’
শেষ পর্যন্ত তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে রাজনীতির উদ্দেশ্য। সুজন চক্রবর্তীর কথায়, শুধুমাত্র ভোটের অঙ্ক মাথায় রেখে সবকিছু বিচার করা উচিত নয়। মানুষের প্রয়োজন, অধিকার এবং ভবিষ্যৎকে সামনে রেখেই রাজনীতির পথ নির্ধারিত হওয়া উচিত। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—‘ভোট বিবেচনাতে সব জিনিস হয় না, মানুষ বিবেচনাতে রাজনীতি।’ তরুণ প্রজন্মের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের প্রশ্নকে সম্মান করা এবং শিক্ষা ও কাজের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিই যে তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সুজন চক্রবর্তী।



