Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরবিদায় জানালেন বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি (Lionel Messi Retirement)। দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের যবনিকা টেনে রোসারিওর এই কিংবদন্তি বুট তুলে রাখলেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭টি ম্যাচ খেলে ১২৫টি গোল এবং ৬৮টি অ্যাসিস্টের অনন্য নজির গড়ে নীল-সাদা জার্সি গায়ে চাপানোর অধ্যায় শেষ করলেন তিনি।
বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপ জয় (Lionel Messi Retirement)
মেসির দুই দশকের আন্তর্জাতিক যাত্রার সবচেয়ে উজ্জ্বল রত্ন নিঃসন্দেহে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়। লুসাইল স্টেডিয়ামের সেই রূপকথার ফাইনালে তাঁর জাদুকরী পারফরম্যান্স দীর্ঘ ৩৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বমুকুট এনে দিয়েছিল। কোপা আমেরিকা জয় এবং দেশের হয়ে প্রতিটি সাফল্যই তাঁর বর্ণময় কেরিয়ারকে এক পূর্ণতা দিয়েছিল।
অবসর নিয়ে আবেগপ্রবণ মেসি (Lionel Messi Retirement)
অবসরের ঘোষণা দিতে গিয়ে আবেগে ভেসেছেন লিও। দীর্ঘ চিন্তাভাবনা ও হৃদয়ের সঙ্গে লড়াই করে তবেই তাঁকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি জানান, এই বিদায় তাঁকে এখনও ভীষণভাবে কষ্ট দেয়, কিন্তু জীবনের নির্দিষ্ট সময়ে এসে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই জরুরি। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে প্রতিটি ম্যাচেই তিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন এবং দেশের মানুষকে মুখে হাসি ফোটাতে নিজের শেষ বিন্দু পর্যন্ত লড়াই করেছেন।
নতুন প্রজন্মকে জায়গা দেওয়া (Lionel Messi Retirement)
নিজের বিদায়ের পেছনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে মেসির ভাবনায়। তাঁর মতে, আজ আর্জেন্টিনার ফুটবলে একঝাঁক তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসছেন, যাঁদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার মঞ্চ তৈরি করে দেওয়া প্রয়োজন। নতুনদের হাতে জাতীয় দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই বলে মনে করছেন তিনি। দেশের জার্সিতে তাঁর আর নতুন করে দেওয়ার কিছু অবশিষ্ট নেই বলেই অকপটে স্বীকার করেছেন মেসি।
ফিরে আসার ইতিহাস (Lionel Messi Retirement)
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘটনা মেসির জীবনে এটি প্রথম নয়। এর আগে ২০১৬ সালে টানা তিনটি বড় ফাইনালের হতাশার পর তিনি সাময়িকভাবে অবসর নিয়েছিলেন। তবে দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আবেগ ও ভালোবাসার টানে তিনি সেই সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে এনেছিলেন। সেই প্রত্যাবর্তনই পরবর্তীতে তাঁকে কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক সাফল্যের ঠিকানায় পৌঁছে দিয়েছিল।
ব্যক্তিগত শোক
নিজের অবসরের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেসি (Lionel Messi Retirement) জানান, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারের মাত্র দু’দিন পরেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি, তাঁর প্রিয় বাবা হোর্হে মেসির প্রয়াণের পর জীবনের দর্শন এবং অগ্রাধিকার অনেক বদলে গেছে। ব্যক্তিগত শোক এবং সুদীর্ঘ লড়াইয়ের ক্লান্তি মিলিয়েই আজ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ালেন লিওনেল মেসি। তাঁর এই বিদায়ে বিশ্ব ফুটবলের একটি দীপ্তিময় ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, যা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।



