Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাঙালি মানেই দুর্গাপুজো, আর দুর্গাপুজোয় কবজি ডুবিয়ে পেটপুজো হবে না, তা হতেই পারে না! সম্প্রতি বাংলায় এসে সেই বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়েই ‘নিদান’ দিয়ে বড়সড় বিতর্কে জড়িয়েছেন মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান সন্ত পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী (Bageshwar Baba)। দুর্গাপুজোয় আমিষ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বাঙালির ক্ষোভের মুখে পড়েন ‘বাগেশ্বর বাবা’। কিন্তু যে বাবা বাঙালিকে ধর্মের পাঠ দিচ্ছেন, তাঁর এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। উঠছে জমি দখল থেকে শুরু করে গুলি চালানোর মতো একাধিক অভিযোগ!
‘বাগেশ্বর বাবা’র বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় (Bageshwar Baba)
মধ্যপ্রদেশের ছত্তরপুর জেলার গঢ়া গ্রামের বাগেশ্বর ধামের পাশেই কোড়া গ্রাম। সেখানেই নাকি বাবার ধামের তরফ থেকে গুরুকুল ও গোশালা তৈরি হচ্ছে। আর অভিযোগ এখানেই—স্থানীয়দের দাবি, এই প্রকল্পের জন্য গ্রামবাসীদের ভয় দেখিয়ে, হুমকি দিয়ে জলের দরে জমি বেচতে বাধ্য করা হচ্ছে। রাজি না হলে? উত্তর খুব সোজা, রাতারাতি জেসিবি এনে আর পিলার পুঁতে জবরদখল করা হচ্ছে জমি! ‘মন থেকে দিলে দাও, নাহলে জমি ঠিকই নিয়ে নেব’ গ্রামবাসীদের এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: ‘১১ হাত’-এর বিতর্কে শেষমেশ ক্ষমাই চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী
অভিযোগ আরও গভীরে। সম্প্রতি ওই এলাকায় জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে গুলি চলার ঘটনায় গ্রেফতার হন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর (Bageshwar Baba) ভাই শালিগ্রাম গর্গ। গুলিবিদ্ধ মোতিলাল কুশওয়াহার বিস্ফোরক দাবি, ‘আগে বোনেদের বিয়ের সময় ওদের মাত্র এক একর জমি ছিল, আর আজ দুই ভাইয়ের নামে নথি ঘাঁটলে প্রায় এক হাজার একর জমি বেরোবে!’ অভিযোগ, পুলিশে নালিশ জানাতে গেলেও মেলে প্রাণনাশের হুমকি। এমনকী স্থানীয় রাস্তা দখল করে রাখার অভিযোগও উঠেছে বাগেশ্বর ধামের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন:Durga Puja 2026: পুজোর অষ্টমীতে রাজ্যে বন্ধ মদের দোকান, বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
বিতর্কের ঝড় উঠতেই দায় ঝেড়ে ফেলার পথ বেছে নিয়েছেন বাবাজি। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর দাবি, ভাইয়ের সঙ্গে নাকি তাঁর এখন আর কোনও সম্পর্কই নেই! তবে তাঁর পরিবারের এই রাজত্ব বিস্তার এবং জমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি তিনি। পরোপকার আর ধর্মের বুলি আওড়ানো বাগেশ্বর বাবার (Bageshwar Baba) এই ‘অন্ধকার দিক’ সামনে আসতেই এখন দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। যে সন্ত অন্যের খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাঁর নিজের সাম্রাজ্যের এই বেআইনি দখলাভিযান বন্ধ করবে কে? উঠছে প্রশ্ন।


