Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের (Gargi Banerjee) এক সনাতনী সমাবেশে এসে বাগেশ্বর বাবা আমিষ সম্পর্কে বলেন ‘গন্দা গন্দা’ খাবার। যারা আমিষ খান তারা ‘পাখণ্ডি’. কথাতেই আছে আপ রুচি খানা। যার যা রুচি, তিনি তাই খাবেন, এই নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায় সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করা যায়না। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন অনেকেই। তার মধ্যে অন্যতম হলেন ব- তে বাঙালি সংগঠনের সম্পাদক গার্গী ব্যানার্জি । কে টিভি বাংলার তরফ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কড়া ভাষায় তিনি এর প্রতিবাদ জানান।
গার্গী ব্যানার্জি বলেন, “প্রথমত হলো, এই বাগেশ্বর এর আগডুম-বাগডুম এই ধরনের গজিয়ে ওঠা বাবারা যারা ধর্মের নামে তাদের বিভিন্ন ধান্দা চালায়, কখনো তাদের বিভিন্ন মহিলা-ঘটিত কেসেস আছে, তার নিজের ভাই একজন আসামি; তিনি এসে বাঙালির দুর্গাপূজা নিয়ে, আমিষ খাওয়া নিয়ে কী বললেন, সেটাতে সত্যিই কোনো বাঙালিরই কিছু আসে-যায় না, আমারও আশা করি আসে-যায় না।

কিন্তু সেই বাগেশ্বর নামক বাবাটিকে যখন বাঙালির ভোটে জিতে আসা সরকার জামাই আদরে আমাদের ট্যাক্সের টাকায় দু-হাত তুলে নাচতে নাচতে মন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং তাকে আহ্বান জানান, এবং যখন তিনি বাঙালিদের এই নোংরা কথা বলেন তখন তারা সেখানে হেসে গড়িয়ে পড়ে—সেটার থেকে লজ্জা আর সেটার থেকে নির্লজ্জতা, অশিক্ষা, সেটার থেকে বড় ইতরপনা আর কিছু হয় বলে মনে হয় না। কারণ গোটা ভারতবর্ষে অন্য কোনো জাতি হলে ওই বাবার বাবাবাজি এবং যত রকম ভণ্ডামি ওই মঞ্চেই বার করে দিত।”
বিজেপিকে সরাসরি কটাক্ষ (Gargi Banerjee)
তিনি আরও বলেন, “কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা (Gargi Banerjee) যাদের হাতে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়েছি, তারা দু-হাত তুলে এই বাবাদের বলছে যে বাবাকে নাকি পশ্চিমবঙ্গের ধাম বানাতে হবে! যেখানে পশ্চিমবঙ্গের রাস্তায় কয়েকশো পুলিশের চাকরি পাওয়ার জন্য ছেলেমেয়েরা হাঁসফাঁস করছে, ৫০০ চিকিৎসকদের—৫০০ শিক্ষকদের মাইনে বাড়ানোর বিষয়ে চারবার ঘোষণা হলো, এখনো অব্দি কিছু হয়নি, যেখানে চাকরি বা আয়ের ব্যবসার কোনো জায়গা নেই, এবং আপনারা জানেন যে ৪০টা ফুড লাইসেন্স যা বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে সিংহভাগই বাঙালি মালিকানাধীন আমিষ দোকান।”
বাঙালির পেটে লাথি (Gargi Banerjee)
“অর্থাৎ, আরএসএস প্লাস বিজেপি এবং এই বাগেশ্বর (Gargi Banerjee) বাবাদের টিম—এরা বলে বোঝাতে চায় যে আমিষ একটা জঘন্য খাবার, এটি খেলে এটিতেই সমস্ত ভেজাল, এবং যারা পশ্চিমবঙ্গে আমিষ বেচে না, যারা বাগেশ্বর বাবাদের রাজ্যের লোক, তারা যারা পনির, ঢোকলা, রাজমা-চাউল বেচে—তাদের খাবারগুলোই খাঁটি। এই কথা বলে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির পেটেই সবার আগে লাথি মারা হচ্ছে।”
বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদের বিষয় সম্পর্কে তিনি বলেন, “আর এছাড়া তো গরিব বাঙালি, হকার বাঙালি-তাদের তো অনেক আগেই বুলডোজ করা হয়েছে। সেই বুলডোজার আবার বাগেশ্বর বাবাদের জাতির লোকজন যে অঞ্চলে থাকে, অর্থাৎ বড়বাজার—সেখান অব্দি পৌঁছায় না। এবং আমাদের মহামান্য একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি, শমীক বাবু, তিনি বলেছেন যে সেই গুপ্তারা না থাকলে বাঙালিরা নাকি বেঁচেই থাকত না!”

“যাই হোক, দুর্ভাগ্য এটাই যে এনারা নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে বাঙালিকে বহিরাগতদের দ্বারা অপমান করাচ্ছেন, বহিরাগতদের ফেলে যাওয়া থুতু বাঙালিকে চাটতে বাধ্য করছেন। আমরা বহুবার বলেছি যে বিজেপির থেকে ভয়ঙ্কর বাঙালি-বিদ্বেষী দল আর নেই, এবং এরা বাঙালি, বাংলা এবং বাংলার যা কিছু নিজস্ব সংস্কৃতি-সেটা খাদ্যাভ্যাস হোক বা অন্যান্য যেকোনো সংস্কৃতি-তা ধ্বংস করতেই এসেছেন। এবং বাঙালি হয়তো সেটা আজকে বুঝতেও পারছে।”


