Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: অধ্যাপক আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে বিধানসভায় শোকপ্রস্তাবের উপর আলোচনায় উঠে এল তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক (Asish Banerjee)। একাধিক বিধায়ক তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং তাঁর স্বভাবের কথা স্মরণ করেন। একইসঙ্গে তাঁর মৃত্যু ঘিরে কিছু প্রশ্ন ও বিতর্কের কথাও আলোচনায় উঠে আসে।

তাপস রায়ের স্মৃতিতে বিনয়ী ও স্বল্পভাষী আশীষ (Asish Banerjee)
তাপস রায় বলেন, আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তিনি যাবেন। তাঁর স্ত্রী তাঁকে ফোন করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তাপস রায়ের কথায়, বিধায়ক হওয়ার আগে থেকেই আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। তাঁর স্মৃতিতে আশীষ ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, ডাউন টু আর্থ এবং স্বল্পভাষী একজন মানুষ। তবে রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাপস। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল সরকারের সময় বিভিন্ন কমিটিতে কারা ছিলেন, সেই বিষয়টি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
‘অন্যায় দেখেও প্রতিবাদ করতে পারেননি’
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, প্রথম দিনই আশীষবাবু অনেকগুলি বই নিয়ে এসেছিলেন এবং পরে সেগুলি লাইব্রেরিতে ফেরত দিয়ে গিয়েছিলেন। ঋতব্রতর বক্তব্যে আরও উঠে আসে, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে সংবাদমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য এবং পরবর্তীকালে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা। তিনি দাবি করেন, আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় তিনজনের কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং তাঁর নিযুক্ত ডেপুটিদের কাজ যাতে বহাল থাকে, সেই বিষয়েও চিন্তা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্যায় দেখলেও অনেক সময় তিনি প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি।
নওশাদ সিদ্দিকীর প্রশ্ন—মৃত্যু ঘিরে কি তদন্ত দরকার? (Asish Banerjee)
আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী তাঁর বক্তব্যে আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, গত পাঁচ বছরে তিনি আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে শাসক-বিরোধী ধরনের কোনও সম্পর্ক দেখেননি।

তবে তাঁর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে বিতর্কের প্রসঙ্গ। নওশাদ বলেন, যেহেতু তাঁর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত। তাঁর এই বক্তব্য শোকপ্রস্তাবের আলোচনায় রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ করে।
শোভন দেবের স্মরণে উঠে এল ‘চিঠি’র প্রসঙ্গ (Asish Banerjee)
শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়ও আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা স্মরণ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি চিঠির প্রসঙ্গ। বিশেষ করে, রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিষয় ভবিষ্যতে যেন সামনে না আসে—এই ধরনের বক্তব্য চিঠিতে ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শোভন দেবের কথায়, এতদিন ধরে আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে তিনি কোনও খারাপ কথা শোনেননি। ফলে তাঁর মৃত্যু এবং রেখে যাওয়া বক্তব্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
শংকর ঘোষের স্মৃতিতে ‘ব্যতিক্রমী’ উপাধ্যক্ষ (Asish Banerjee)
বিরোধী দলের বিধায়ক শংকর ঘোষ বলেন, আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে এমন পরিণতি তাঁদের প্রত্যাশিত ছিল না। গত বিধানসভায় বিরোধী দলের বিধায়ক হিসেবে তিনি আশীষবাবুর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

উপাধ্যক্ষ এবং প্রিভিলেজ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শংকর ঘোষের দাবি, বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুললেও অনেক সময় আশীষবাবু সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যেতেন। তাঁর মতে, পরিস্থিতির কারণে হয়তো সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো অবকাশ তাঁর কাছে ছিল না।
রাজনৈতিক পরিবেশ ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ছায়া (Asish Banerjee)
আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিবেশের প্রসঙ্গ। তাপস রায়ের বক্তব্যে যেমন বীরভূমের তৎকালীন নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা এসেছে, তেমনই শংকর ঘোষের কথায় উঠে এসেছে বিধানসভার অভ্যন্তরে বিরোধী কণ্ঠস্বরের ভূমিকা। বক্তাদের বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেউ দেখেছেন শান্ত, ভদ্র ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে, আবার কেউ তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সীমাবদ্ধতার দিকটিও তুলে ধরেছেন। ফলে শোকপ্রস্তাবের আলোচনা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
আরও পড়ুন: Kalighat Trinamool: লক্ষ্মীবারে নতুন ঘর পেলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়করা
মৃত্যুর পরও থেকে গেল একাধিক রাজনৈতিক প্রশ্ন
আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু বিধানসভায় শোকের আবহ তৈরি করলেও আলোচনার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশ্ন। তাঁর ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক ভূমিকা, তৎকালীন পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া বক্তব্য—সব মিলিয়ে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে আলোচনা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
শংকর ঘোষের বক্তব্যে উঠে আসে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য সচেষ্ট হওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন বলেও আলোচনায় উল্লেখ করা হয়। ফলে আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে শোকপ্রস্তাব একদিকে যেমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণ, অন্যদিকে তেমনই রাজনীতির পরিবেশ, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও মানসিক চাপ নিয়েও নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।



