Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অভ্রদীপ দাস: গভীর রাতে অতনু দাসের বাড়িতে ভবানীপুর (Congress Leader Arrest) থানার পুলিশ গ্রেফতারের প্রতিবাদে সরব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার
বাগেশ্বর ধামের পীঠাধীশ্বর ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গভীর রাতে গ্রেফতারের ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে বিক্ষোভ দেখানোর কারণে দলের নেতাকে গ্রেফতার করা হলেও, বাঙালি সমাজ সংস্কৃতি ও দুর্গাপুজো নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন একই ধরনের পদক্ষেপ করছে না।
কেন পুলিশি পদক্ষেপ? (Congress Leader Arrest)
দলীয় সূত্রে দাবি ভবানীপুর এলাকায় ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর (Congress Leader Arrest) ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতনু দাসের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ করা হয়। এরপর গভীর রাতে ভবানীপুর থানার পুলিশ তাঁর বাড়িতে পৌঁছয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার ২৭/৬৬ ক্ষেত্রমোহন নস্কর রোডের বাসভবনে পুলিশ যায় এবং পরবর্তীতে অতনু দাসকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন (Congress Leader Arrest)
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের তরফে (Congress Leader Arrest) পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলের বক্তব্য গভীর রাতে একজন রাজনৈতিক কর্মীর বাড়িতে পুলিশ যাওয়া এবং তাঁকে গ্রেফতার করার ঘটনায় প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই গ্রেফতার, সেটি নিয়ে কংগ্রেসের দাবি-তাঁরা প্রতিবাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছিলেন।
সভাপতির তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই গ্রেফতারের পর পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক প্রেস বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন রাজ্যে দমন পীড়নের নীতি চালু হয়েছে। তাঁর দাবি তথাকথিত বাবা বাগেশ্বরের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এবং তাঁর ছবি পোড়ানোর অভিযোগেই অতনু দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুভঙ্কর সরকারের প্রশ্ন বাঙালিদের সম্পর্কে কটূক্তি এবং বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে অপমান করার অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে, তাঁর বিরুদ্ধে কেন প্রশাসন একইভাবে ব্যবস্থা নেয়নি। একইসঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্য গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকদের অধিকার। বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রক্ষার দাবিতে যাঁরা আন্দোলন করছেন তাঁদের সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না বলেও দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে শুভঙ্কর সরকার আরও বলেন, এই ধরনের ‘দমন-পীড়ন নীতি’র সামনে কংগ্রেস মাথা নত করবে না। তিনি অতনু দাসের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন মূলত দুটি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে, প্রকাশ্য বিক্ষোভে ছবি পোড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের আইনানুগ পদক্ষেপ; অন্যদিকে, কংগ্রেসের অভিযোগ—একই ধরনের অভিযোগে অন্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ভূমিকা যথেষ্ট কঠোর নয়।
এদিকে অতনু দাসের গ্রেফতারকে সামনে রেখে কলকাতায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরে প্রতিবাদে সরব হয়েছে।


