Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি (Nandigram)। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি এই আসনে প্রার্থী করেছে প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানী রথকে। মঙ্গলবার তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার পরই নন্দীগ্রামে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা। বুধবার একাধিক মন্দিরে পুজো দিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।

নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি (Nandigram)
নন্দীগ্রামের সিদ্ধিনাথ মন্দির ও জানকিনাথ মন্দিরে পুজো দেন হাসিরানী রথ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চণ্ডীপুরের বিজেপি বিধায়ক পীযূষকান্তি দাস-সহ জেলা নেতৃত্ব, দলীয় কর্মী ও সমর্থকেরা। পুজো দেওয়ার পর দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি এবং নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেন।
কদমতলা থেকে মিছিল (Nandigram)
হলদিয়া মহকুমা শাসকের দফতরে আজই মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা হাসিরানী রথের। তাঁর সঙ্গে থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ মন্ত্রী, বিধায়ক এবং বিজেপির রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে হলদিয়ার কদমতলায় আয়োজন করা হয়েছে ‘বিজয় সংকল্প সভা’। সেখান থেকেই প্রায় এক কিলোমিটার শোভাযাত্রা করে প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চন্দ্রনাথের স্মৃতি, সহানুভূতির সমীকরণ (Nandigram)
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মে মাসে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের সহযোগী ও আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। তাঁর মা হাসিরানী রথও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বিজেপির টিকিটে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাই হাসিরানীকে প্রার্থী করার পিছনে চন্দ্রনাথের স্মৃতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আবেগ ও সহানুভূতির সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিজেপির একাংশ।
শেষ মুহূর্তে একাধিক নামকে পিছনে ফেলে হাসিরানী
প্রার্থী হিসেবে হাসিরানী রথের পাশাপাশি অঞ্জন ভারতী, মেঘনাদ পাল ও প্রলয় পালের মতো স্থানীয় বিজেপি নেতাদের নামও আলোচনায় ছিল। রেয়াপাড়ার বিধায়ক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে বৈঠকেও প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত প্রয়াত সহযোগীর মায়ের হাতেই দলীয় প্রতীক তুলে দিল বিজেপি।

প্রার্থী হওয়ার পর হাসিরানী রথ বলেন, দল তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তিনি তা যথাযথ মর্যাদায় পালন করবেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর বক্তব্য, সকলকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে নন্দীগ্রামের উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। ফলে উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে আবেগ, সংগঠন এবং রাজনৈতিক শক্তির ত্রিমুখী সমীকরণ যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা বলাই যায়।



