Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ এবং ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা (Naushad Siddiqui)। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে একদিকে যেমন নানা ধরনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসছে, অন্যদিকে বিষয়টি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কতটা স্বাস্থ্যকর, সেই প্রশ্নও উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের মতামত জানালেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
‘আমি তৃণমূলের বিরোধী, কিন্তু খুশি নই’ (Naushad Siddiqui)
নওশাদ বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্তকে ঘিরে অনেকেই ট্রোল করছেন, নানা মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ আবার বলছেন, তৃণমূলের কর্মকাণ্ডের ফল হিসেবেই আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর ধরে যে প্রতীক তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা ব্যবহার করে আসছেন, সেটি এখন ব্যবহার করতে না পারার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে নওশাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও প্রতীক ফ্রিজ হওয়ার ঘটনায় তিনি উল্লসিত নন। তাঁর কথায়, তিনি তৃণমূলের রাজনৈতিকভাবে বিরোধী ছিলেন এবং এখনও রয়েছেন। দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও তিনি তীব্র বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু তার পরেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিক থেকে বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন না।
‘গণতন্ত্রের জন্য ভালো লক্ষণ নয়’ (Naushad Siddiqui)
নওশাদের মূল বক্তব্য, একটি রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা গণতন্ত্রের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। তিনি বিষয়টির সঙ্গে এসআইআর প্রসঙ্গেরও তুলনা টানেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটারদের বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে ভোট করানোর অভিযোগ যেমন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছিল, তেমনই একটি দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টিও ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
‘নিয়ম মেনে যার প্রাপ্য, তাকেই দেওয়া উচিত ছিল’ (Naushad Siddiqui)
প্রতীক নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে নওশাদের বক্তব্য, নিয়ম অনুযায়ী যে পক্ষের দাবি প্রতিষ্ঠিত হবে, প্রতীক তাদেরই দেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, যদি ঋতব্রত শিবিরের প্রতীক পাওয়ার অধিকার থাকে এবং তারা নিয়মের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তাহলে তাদের হাতে প্রতীক তুলে দেওয়া উচিত ছিল। আবার যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরেরই সেই অধিকার থাকে, তাহলে তাদেরই প্রতীক দেওয়া উচিত।
কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। নওশাদের আশঙ্কা, আজ একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যতে তার প্রভাব অন্য রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রেও পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: UPI Transaction Charges: ১৫ অক্টোবর থেকে UPI-তে নতুন নিয়ম, কত টাকা চার্জ জানুন
রাজনৈতিক বিরোধিতার বাইরে গণতন্ত্রের প্রশ্ন
সবশেষে নওশাদ স্পষ্ট করে দেন, তাঁর বক্তব্য ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত। তৃণমূলের বিরোধিতা করলেও একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয়, প্রতীক এবং সাংগঠনিক অধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাকে তিনি গণতন্ত্রের বৃহত্তর প্রশ্ন হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য স্বাস্থ্যকর নয় এবং এমন ঘটনা না হওয়াই কাম্য ছিল।



