Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রততী সরকার: মাসিক বা পিরিয়ডসের (Periods Pain) ব্যথা ভীষণ সাধারণ বিষয়। মেয়েদের মাসিক চক্রের এটি একটি স্বাভাবিক অংশ। বেশিরভাগ মেয়েই পিরিয়ডসের সময় এই ব্যথার সম্মুখীন হয়। এই সময় পেটে ব্যাথা, কোমরে ব্যথা, পেট ফোলা কিংবা বমি বমি ভাব – এগুলি অনেক মেয়ের কাছেই পরিচিত সমস্যা। এই বিষয়গুলি মেয়েদের দৈনন্দিন জীবনেও অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে। যদিও কিছু ঘরোয়া উপায় এর মাধ্যমেও এই অস্বস্তির থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
কোথায় কোথায় হয় পিরিয়ডসের ব্যাথা? (Periods Pain)
সাধারণত পেট, পা, কোমরে কিছুক্ষন পর পর (Periods Pain) এই ব্যাথা অনুভব হয়। মনে হয় পেটের ভিতরে কেউ কামড়ে ধরছেবা পায়ে খিঁচ ধরছে। এ ছাড়াও সব সময় অসম্ভব যন্ত্রনা অনুভব হয়। তবে প্রতি মাসে একই রকমের ব্যথা অনুভব হয় না। কোনো মাসে এই এই ব্যথা থেকে মারাত্মক, কোনো মাসে আবার ব্যথায় থাকে না। কখনও কখনও পিরিয়ডস না থাকলেও ব্যথা থাকে তলপেটে।
কতক্ষন থাকে এই ব্যথা? (Periods Pain)
মাসিক শুরু হবার সময় থেকেই ব্যথা শুরু হয় (Periods Pain) মেয়েদের। তবে কিছু কিছু মেয়ের ক্ষেত্রে এই ব্যথা আরো আগে শুরু হয়। এই ব্যথা সাধারণত থাকে ৪৮ থেকে ৭২ ঘন্টা তবে ব্লিডিং ফ্লো এর ওপরও ব্যথা ডিপেন্ড করে। ফ্লো বাড়লে ব্যথাও বাড়ে। মেয়েদের প্রথম মাসিকের শুরুর দিকে ব্যথা বেশি থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্যথা কমতে থাকে। সন্তান জন্ম দেবার পর অনেকের পিরিয়ডসের ব্যথা কমে যায়।
পিরিয়ডসের ব্যথা কমানোর উপায় (Periods Pain)
পিরিয়ডসের ব্যথা পুরোপুরি ভাবে (Periods Pain) কমানো যায় না। তবে সাময়িক ভাবে মুক্তি পেতে অনেক মেয়েই অনেক রকম পদ্ধতি ব্যবহার করেন।
সেঁক নিন
গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময় ওষুধের থেকেও গরম জলের সেঁক অনেক বেশি কার্যকরী।
কিভাবে নেবেন সেঁক ? একটি হট ব্যাগ তোয়ালে কিংবা গামছা দিয়ে মুড়িয়ে পেটের ওপর রাখতে পারেন। ইলেক্ট্রনিক হিটিং ব্যাগও ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া কাঁচের বোতলে গরম জল নিয়ে সেটিকেও তোয়ালে বা গামছা জড়িয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
কয়েক টুকরো আদা খান (Periods Pain)
আদা পিরিয়ডসের ব্যথা কমাতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন। পিরিয়ডসের শুরুর আগে থেকেই কাঁচা আদার কুঁচি খাওয়া শুরু করতে পারেন। অথবা গরম জল বা চায়ের সাথেও ফুটিয়ে খেতে পারেন। এ ছাড়া আদাকে শুকনো করে তার গুঁড়ো বানিয়ে রেখে সেটা গরম জলের সাথে মিশিয়ে খেলে তা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
ব্যায়াম করুন
পিরিয়ডসের ব্যথা কমানোর একটি সবথেকে ভালো উপায় হলো ব্যায়াম। নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করলে এই সময় পেটের ব্যথা অনেকখানি কম থাকে। সাঁতার, হাঁটা, সাইকেল চালানো ছাড়াও যোগা এবং ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করা যেতে পারে। তবে পিরিয়ডসের সময় ব্যায়াম করার ইচ্ছা না থাকলে শুধুমাত্র হাঁটা চলাও করা যেতে পারে।
পেট ম্যাসাজ করুন
তলপেট এবং তার আশপাশের অংশ গুলো হালকা হাতে ম্যাসাজ করলে অনেকটা ব্যথার উপশম হয়। অনেক সময় নারকেল তেল দিয়ে পেট ম্যাসাজ করলে পেট ঠান্ডা হয়, যা পেটের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
রিল্যাক্স করুন
চেষ্টা করুন এই সময় মানসিক দুশ্চিন্তা না করতে। এক্ষেত্রে মেডিটেশন অনেকটা সাহায্য করে।
হালকা গরম জলে স্নান
হালকা গরম জল দিয়ে স্নান করলে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি শরীর রিল্যাক্স করতেও সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: Delhi Weather: দিল্লি থেকে আগেভাগেই বিদায় বর্ষার, ভাঙল ২৩ বছরের রেকর্ড
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
- ব্লিডিং ফ্লো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে,
- ব্যথা যদি যন্ত্রণার ওষুধ খেয়েও না কমে
- ৭ দিনের বেশি পিরিয়ডস থাকলে
পরামর্শ
এই সময় পরিমান মতো জল খাওয়া উচিত। ব্যথা অসহ্য হলে অবশ্যই গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এই তথ্য শুধুমাত্র সচেতনতার জন্য। যেকোনও চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


