Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হাইকোর্টে সাময়িক স্বস্তি জেল হেফাজতে থাকা নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের (Milan Pradhan)। বৃহস্পতিবার মিলন প্রধানের রক্ষাকবচের আবেদনের মামলার শুনানিতে মিলন প্রধানের আইনজীবী আদালতকে জানান, আবারও নতুন করে মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই কথা শুনেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য পরিষ্কার নির্দেশ দেন, আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। দায়ের হওয়া নতুন মামলাতেও মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা যাবে না এবং নতুন করে কোনও মামলায় তাঁকে গ্ৰেফতার দেখানো যাবে না বলেও বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট।
অয়ন ভট্টাচার্য্য অভিযোগ করেন (Milan Pradhan)
বৃহস্পতিবার শুনানিতে মিলন প্রধানের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য্য আদালতে এসেছি অভিযোগ করেন, ‘গত শুনানিতে রাজ্য আদালতকে জানিয়েছিল মিলন প্রদানের বিরুদ্ধে ছিল সেগুলি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এবং একটি মামলায় মিলন প্রধানের নাম নেই। আদালতকে এই সংক্রান্ত বক্তব্য এবং নির্দেশ নথিভুক্ত রয়েছে। কিন্তু তা অমান্য করা হয়েছে। তারপরও তাঁকে আরও একটি নতুন মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। সেই মামলাতেই নিম্ন আদালত ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর নির্বাচন। তাঁকে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এরই আদালতের কাছে আবেদন করেন মিলন প্রধানের আইনজীবী(Milan Pradhan)।
রাজদীপ মজুমদার আদালতকে বলেন (Milan Pradhan)
তার জবাবে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতকে বলেন, ‘হাইকোর্টে শুনানির আগেই ওই মামলাতে গত ১৯ তারিখ মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২১ তারিখ বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয় এবং ২২ সেপ্টেম্বর সেই মামলার শুনানি হয়। তাই মামলাকারীর আইনজীবী যা বলছেন, তা ভুল।’
আইনজীবীর উদ্দেশ্য বলেন (Milan Pradhan)
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশ্য বলেন, ‘এই আদালতে রাজ্যের আইনজীবী বলেছিলেন, যে মামলায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটি ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা বিচারাধীন নেই। তারপরেও পাঁচটি মামলা ছাড়া অন্য একটি নতুন মামলায় কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল?এর আগে রাজ্য জানিয়েছিল নতুন মামলায় পদক্ষেপ করা হবে না। আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে, যদি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা বিচারাধীন থেকেও থাকে, তা হলে আপাতত সেই মামলাগুলোতে কোনও পদক্ষেপ করা উচিত নয়। চারটি মামলায় জামিনের আবেদন করা হয়েছে। বাকি ছ’টি মামলায় কোনও পদক্ষেপ করবেন না। তাছাড়া ২০২১ সালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও কেন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার করা হল?’
রাজ্যের অতিরিক্ত এজি বলেন
তার জবাবে রাজ্যের অতিরিক্ত এজি বলেন, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো পূর্বতন রাজ্য সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। তাদের ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু উপনির্বাচনের আগে এখন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘আদালতের কাছে এমন কোনও নথি নেই, যার ভিত্তিতে নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে, কংগ্রেস প্রার্থীর প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট কার্যকর ছিল। তাঁর প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট কার্যকর করা নিয়ে রাজ্যের বক্তব্য আদালত গ্রহণ করছে না।’ এরপরই বিচারপতি ভট্টাচার্য্য নির্দেশ দেন, আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। এমন কী, নতুন মামলাতেও তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আদালতের এই নির্দেশে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেলেন জেলবন্দি কংগ্রেস প্রার্থী।



