Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: লাদাখের সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং পরিবেশ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ সোনাম ওয়াংচুকের অনশন ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনার আবহ তৈরি হয়েছে (Sonam Wangchuk)। তাঁর অনশন দীর্ঘায়িত হওয়ার পরও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনও উদ্যোগ বা আলোচনার বার্তা না আসায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ড. বি. আর. আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী ও কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ ও স্লোগান কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের মূল দাবি, সরকার যেন দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধানে এগিয়ে আসে এবং সোনাম ওয়াংচুকের উত্থাপিত বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।
)
বিধানসভায় বিষয়টি তোলার চেষ্টা (Sonam Wangchuk)
বিক্ষোভস্থলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, বিষয়টি বিধানসভায় উত্থাপন করার চেষ্টা করা হলেও সেই সুযোগ মেলেনি। তিনি বলেন, “বিধানসভায় আমরা এই বিষয়টি উত্থাপন করতে চেয়েছিলাম। শিক্ষার স্বার্থে যে আন্দোলন চলছে, সেই অনশন ১৯ দিন অতিক্রম করেছে। কোনও দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দেশবাসী পাশে দাঁড়ায়, কিন্তু সরকার এখনও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা অফ অর্ডারে বিষয়টি তুলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু স্পিকার বলতে দেননি। জানানো হয়েছে, সোমবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যাবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই আন্দোলনকে শুধু একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে নয়, জনস্বার্থের বিষয় হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে বিরোধী শিবির।
‘প্রতিবাদে কান না দিলে চলবে না’ (Sonam Wangchuk)
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, কোনও ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনার সময় যদি তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে তাঁর প্রতিবাদকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, “তাঁকে নিয়ে সিনেমা হলে আলোচনা হবে, কিন্তু তিনি যখন প্রতিবাদ করছেন, তখন সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না—এটা হতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন এবং প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন। শিক্ষার স্বার্থে তিনি যে বিষয়গুলি তুলে ধরছেন, সেই দাবিগুলির বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত।” কুণাল ঘোষের বক্তব্যে কেন্দ্রের প্রতি দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বানই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

‘শুধু নিজের জন্য নয়, ছাত্রদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই’
বিক্ষোভে উপস্থিত আলিফা আহমেদ বলেন, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কোনও ব্যক্তিগত দাবি নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষা করা। তিনি বলেন, “NEET-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য ছাত্রছাত্রীরা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে। সোনাম ওয়াংচুক নিজের স্বার্থে নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রতিবাদ করছেন। আমরা চাই সরকার আলোচনার পথ খুঁজে বের করুক এবং দ্রুত এই অচলাবস্থার অবসান ঘটাক।”
স্পিকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন (Sonam Wangchuk)
বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান, অধিবেশনের কার্যসূচিতে শোকপ্রস্তাব ও অন্যান্য নির্ধারিত কাজ ছিল। তিনি বলেন, “আজকের কার্যসূচিতে অবিচুয়ারি এবং অন্যান্য নির্ধারিত কাজ ছিল। আমি প্রত্যাশা করেছিলাম, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ম মেনেই আলোচিত হবে।” তবে বিরোধীদের অভিযোগ, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্পিকারের আরও উদ্বেগ প্রকাশ করা উচিত ছিল।

আরও পড়ুন: PoK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গণবিক্ষোভ: উত্তাল মুজফফরাবাদ, চরমে উত্তেজনা
আলোচনার দাবি জোরালো
সোনাম ওয়াংচুকের অনশন যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং শিক্ষা মহলের একাংশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের দাবি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি অনশন কোনও শুভ লক্ষণ নয়। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই সরকারের দায়িত্ব।



