Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: টেস্ট ক্রিকেট যখন দিন-রাতের ফরম্যাট বা টি-টোয়েন্টির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের আড়ালে কিছুটা ম্লান হয়ে যাচ্ছিল (Rohit-Virat)। ঠিক তখনই লাল বলের ক্রিকেটে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটেছিল বিরাট কোহলির হাত ধরে। শুধু ব্যাটের ধার নয়, ড্রেসিংরুমে ক্ষুরধার আগ্রাসন এবং প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করার মানসিকতা ইনজেক্ট করে দিয়েছিলেন কোহলি। ঘরের মাঠেই হোক কিংবা বিদেশের স্যাঁতসেঁতে বাউন্সি উইকেটে, ভারতের জয় পাওয়ার খিদে তৈরি করেছিলেন তিনিই। আজ ভারত বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটের এক নম্বর শক্তিতে পরিণত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর ভিত্তিপ্রস্তরটা স্থাপন করেছিলেন কোহলি। আর সেই পথচলায় তাঁর সবচেয়ে বড় অনুরাগী ও পরবর্তীতে দায়িত্ব নেওয়া মানুষটি আর কেউ নন—স্বয়ং রোহিত শর্মা।
পরিসংখ্যান ছাড়িয়ে রূপকথা (Rohit-Virat)
কোহলিকে কেন ভারতের সর্বকালের সেরা ও সফলতম টেস্ট অধিনায়ক বলা হয়, তার জবাব পরিসংখ্যানের পাতাতেই স্পষ্ট। ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বের মেয়াদকালে ভারতীয় দল খেলেছে ৬৮টি টেস্ট, যার মধ্যে জয় এসেছে অবিশ্বাস্য ৪০টি ম্যাচে। তবে শুধু জয় নয়, বিদেশের মাটিতে ভারতের খেলার ধরনই বদলে দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৮-১৯ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি জয় সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। যে দল আগে বিদেশের মাটিতে ড্র করতেই সন্তুষ্ট থাকত, সেই দলকে জয় ছাড়া আর কিছুই ভাবতে শেখাননি কোহলি।
‘রো-কো’ বন্ধুত্ব (Rohit-Virat)
বাইরে থেকে যতই রেষারেষির গল্প ছড়ানো হোক না কেন, ময়দানের ভেতরে ‘রো-কো’ কেমিস্ট্রি ছিল নিখাদ বন্ধুত্বের। সম্প্রতি ‘জিওস্টার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেই স্পষ্ট হয়েছে সেই ভাইচারা। বিরাটের টেস্ট নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে রোহিত বলেন, “টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে কোহলি যা করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। ওই দলটাকে এক সুতোয় বেঁধে ও যেভাবে টেনে নিয়ে গেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। আমরা দু’জন সবসময় নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতাম কীভাবে দল ও নিজেদের খেলাকে এগিয়ে নেওয়া যায়। আমার ব্যাটিংয়ে কোনও খামতি হলে ওর কাছে ছুটে গিয়েছি, আবার কোহলিও একইভাবে আমার মতামত নিয়েছে। আমাদের যোগাযোগটা ছিল অত্যন্ত সহজ ও প্রাতিষ্ঠানিক।”
অধিনায়ক বদল (Rohit-Virat)
কোহলি সরে দাঁড়ানোর পর টেস্টের অধিনায়কত্ব ওঠে রোহিতের হাতে। দায়িত্ব নিয়ে কোহলির গড়ে তোলা সেই আগুনে মনোভাব বজায় রেখে ২৪টি টেস্টের মধ্যে ১২টিতে জয় ছিনিয়ে নেন রোহিত। দু’জনে মিলে ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছেন, যেখান থেকে ফেরা অসম্ভব। তবে সময়ের নিয়মে বদলেছে অনেক কিছু। দু’জনেই আজ টি-টোয়েন্টি ও লাল বলের ফর্ম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন। সাদা জার্সির লাল বল আর হাতে না থাকলেও, তাঁদের গড়া সেই স্বর্ণযুগ আজও ভারতীয় ক্রিকেটের ধমনীতে বইছে।
দূরত্ব এবং নীরব বন্ধুত্ব (Rohit-Virat)
এখন দু’জনেই শুধুই ওডিআই দলের সদস্য (Rohit-Virat)। ফলে আর আগের মতো প্রতিদিন দেখা হয় না, নেই এক সফর থেকে আরেক সফরে যাওয়ার তাড়া। রোহিতের গলায় কিছুটা নস্টালজিয়া আর কিছুটা স্বস্তির সুর— “আমাদের বাড়ি বেশ কিছুটা দূরে, তাই এখন আর আগের মতো প্রতিদিন দেখা হয় না। হয়তো এক-দেড় মাস অন্তর ওয়ানডে সিরিজ থাকলে দেখা হয়। অথচ বছরখানেক আগেও পাঁচ-সাত দিন পর পরই আমাদের কোনও না কোনও সফরে যেতে হতো। তখন নিজের পরিবারকে সময় দেওয়াই কঠিন ছিল। এখন পরিবারের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটানো যায়, এই শান্ত জীবনটাও দারুণ উপভোগ করছি।”
আরও পড়ুন: Asian Games 2026: দশম দিনে একের পর এক সাফল্য, ভারতের পদক ভাণ্ডারে বড় সুখবর!
মাঠের মধ্যে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে উদযাপন, ড্রেসিংরুমে কৌশলের আদান-প্রদান আর ভারতীয় ক্রিকেটকে বিশ্বসেরা করার এক যৌথ স্বপ্ন—’রো-কো’ জুটির এই পথচলা চিরকাল ভারতীয় ক্রিকেটের রূপকথায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। লাল বল থেকে তাঁরা দূরে সরেছেন ঠিকই, কিন্তু যে ঐতিহ্য তাঁরা রেখে গেলেন, তা আগামী কয়েক প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।



