Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
রুহুল আমিন, মালদহ: নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের অবৈধ সম্পর্ক। প্রায়শই স্কুলের নির্ধারিত সময়ের বাইরে, কখনও ভোরে আবার কখনও বিকেলে বা ছুটির দিনে তাঁরা দুজনে স্কুলে প্রবেশ করতেন। ভেতরে ঢোকার পরই স্কুলের মূল দরজায় বাইরে থেকে বা ভেতর থেকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হত (Malda)। দীর্ঘদিন ধরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেখে সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করে স্থানীয়দের মধ্যে। এর পরই তুমুল উত্তেজনা।
নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে পরকীয়া! (Malda)
স্কুলের প্রৌঢ় শিক্ষকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই এক নাবালিকা ছাত্রীর অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ। সোমবার সকালে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মালদহের (Malda) হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকার টাউন লাইব্রেরি সংলগ্ন বেসরকারি স্কুল। শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা কলঙ্কিত করার অভিযোগে শিক্ষককে হাতেনাতে ধরে ধোলাই স্থানীয়দের। উত্তেজিত জনতার রোষের মুখে পড়তে হল ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশ বাহিনীকেও।
আরও পড়ুন: Hotel Harassment: হোটেলের লবিতে দুই মহিলাকে হেনস্থার অভিযোগ, গ্রেফতার ৫৬ বছরের ব্যক্তি
সোমবার সকালেও একইভাবে অসময়ে ওই শিক্ষক ও নাবালিকা ছাত্রীকে একসঙ্গে স্কুলে ঢুকতে দেখেন এলাকার বাসিন্দারা। সন্দেহ বাড়ায় স্থানীয়রা নজর রাখতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে আপত্তিকর অবস্থায় তাঁদের দেখতে পেয়েই আর ধৈর্য রাখতে পারেননি জনতা (Malda)। সঙ্গে সঙ্গে তালা ভেঙে ঘরের ভেতর ঢুকে দুজনকে আটক করা হয়। ঘটনার পর শিক্ষাঙ্গনের ভেতরে এই জাতীয় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা এলাকা।
শিক্ষককে বেধড়ক ‘মার’
শিক্ষককে ধরে বেধড়ক মারধর শুরু করে উত্তেজিত জনতা। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা পুলিশকেও ছেঁকে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। শিক্ষককে উদ্ধার করতে গিয়ে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ ও বাধার মুখে পড়তে হয় পুলিশ কর্মীদের (Malda)। পুলিশি উপস্থিতির মধ্যেই চলতে থাকে জনরোষ। দীর্ঘ সময় ধরে টানা ধস্তাধস্তি ও বোঝাপড়ার পর অবশেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ ওই শিক্ষক এবং নাবালিকা ছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা হরিশ্চন্দ্রপুর (Malda) জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শিক্ষকতা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পবিত্র পেশা, সেখানে এই ধরনের জঘন্য আচরণ কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্ত প্রৌঢ় শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


