Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রয়াত হলেন বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সাহিত্যিক জেফ্রি আর্চার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর (Jeffrey Archer)। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তাঁর লেখা বই বিক্রি হয়েছে ৩০ কোটিরও বেশি। দশকের পর দশক বেস্টসেলার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে তাঁর একের পর এক উপন্যাস। এই সপ্তাহেই প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল তাঁর নতুন উপন্যাস ‘Adam and Eve’। কিন্তু বইটি পাঠকের হাতে পৌঁছনোর আগেই থেমে গেল লেখকের কলম।
দেউলিয়া হওয়ার মুখ থেকে সাহিত্যজগতে উত্থান (Jeffrey Archer)
১৯৪০ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তর লন্ডনে জন্ম জেফ্রি আর্চারের। পরে তাঁর পরিবার চলে যায় সমারসেটে। জীবনের এক কঠিন সময়ে, ১৯৭৪ সালে আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। সেই সময়ই লেখা শুরু করেন তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘Not a Penny More, Not a Penny Less’। সেই বই দিয়েই সাহিত্যজগতে নিজের জায়গা তৈরি করতে শুরু করেন আর্চার।
‘কেইন অ্যান্ড অ্যাবেল’-এ খ্যাতির শিখরে (Jeffrey Archer)
১৯৭৯ সালে প্রকাশিত ‘Kane and Abel’ তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। দুই ভিন্ন জীবনপথের মানুষের গল্প নিয়ে লেখা এই উপন্যাস হয়ে ওঠে তাঁর সর্বাধিক বিক্রীত বই। বইটি ১৩৪ বার পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে ‘A Twist in the Tale’, ‘The Fourth Estate’, ‘The Prodigal Daughter’-সহ তাঁর বহু লেখা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়।
সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও ছিল সঙ্গী (Jeffrey Archer)
তবে আর্চারের জীবন শুধুই সাফল্যের ছিল না। ১৯৮৮ সালে লেখিকা ক্যাথলিন বার্নেট অভিযোগ করেন, তাঁর একটি গল্পের ধারণা আর্চার নিজের ছোটগল্প সংকলনে ব্যবহার করেছেন। পরে আর্চার বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেছিলেন, তিনি মূলত গল্পটির ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। বাণিজ্যিক সাফল্য বিপুল হলেও সাহিত্য সমালোচকদের একাংশ তাঁর লেখাকে বরাবর খুব ইতিবাচকভাবে দেখেননি।
সাহিত্যের পাশাপাশি সক্রিয় ছিলেন রাজনীতিতেও
লেখালেখির পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন আর্চার। ১৯৬৯ সালে কনজারভেটিভ দলের এমপি হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে নানা বিতর্ক ও ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। ২০০১ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাবাসও করতে হয় তাঁকে। ২০০৩ সালে মুক্তির পরও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ সালে অবসর নেন।
আরও পড়ুন: Suvendu on Mamata: মমতার পায়ে “ভুয়ো” চোট, তদন্তের দাবি শুভেন্দুর
রয়ে গেল অমর সাহিত্যকীর্তি
স্ত্রী মেরি, দুই পুত্র এবং পাঁচ নাতি-নাতনিকে রেখে গেলেন জেফ্রি আর্চার। এবছরই মেরির সঙ্গে তাঁর ৬০তম বিবাহবার্ষিকী পালনের কথা ছিল। তার আগেই চলে গেলেন তিনি। মানুষটি আর নেই, কিন্তু তাঁর লেখা রয়ে গেল—বিশ্বজুড়ে অগণিত পাঠকের বইয়ের তাকে, স্মৃতিতে এবং সাহিত্যের ইতিহাসে।



