Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে ফের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি (Rabiul Alam Chowdhury)। ভোটের দিনেই ‘ভোট চুরি’ এবং ‘ভোট লুট’-এর গুরুতর অভিযোগ তুললেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। তাঁর দাবি, রেজিনগর বিধানসভার ১৪টি অঞ্চলের মোট ৩১৫টি বুথেই ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে সমস্ত বুথে ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এজেন্টদের বুথ থেকে বার করে দেওয়ার অভিযোগ (Rabiul Alam Chowdhury)
রবিউল আলম চৌধুরীর অভিযোগ, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই একাধিক বুথে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। কোথাও আবার এজেন্টদের বুথ থেকে বার করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। তাঁর অভিযোগ, বহিরাগতদের বুথে ঢুকিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় অবাধে ছাপ্পা ভোট করানো হয়েছে।
‘ভোট দিতে গিয়ে শুনতে হয়েছে ভোট হয়ে গিয়েছে’ (Rabiul Alam Chowdhury)
রিটার্নিং অফিসারকে দেওয়া চিঠিতে রবিউল আলম দাবি করেছেন, সাধারণ ভোটারদেরও ভয় দেখানো এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভোট দিতে নির্দিষ্ট বুথে পৌঁছনোর পর বহু ভোটারকে বলা হয়েছে, তাঁদের ভোট ইতিমধ্যেই পড়ে গিয়েছে। ফলে প্রকৃত ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন তিনি।
বেগুনবাড়িতে কিছুটা স্বাভাবিক ভোট, পরে পরিস্থিতি বদলায়?
রবিউল আলমের দাবি, সকালবেলায় শুধুমাত্র বেগুনবাড়ি অঞ্চলের কিছু বুথে তুলনামূলকভাবে ভোটাররা ভোট দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তাঁর অভিযোগ, দলের এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদেরও নানা অজুহাতে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
সব বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি (Rabiul Alam Chowdhury)
এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর দাবি, ৭০ নম্বর রেজিনগর বিধানসভার সমস্ত বুথের ভোট বাতিল করে নতুন করে ভোটগ্রহণ করতে হবে। তাঁর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
‘আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন ঘটনা প্রথম’ (Rabiul Alam Chowdhury)
সমাজমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে রবিউল আলম লিখেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন ঘটনা তিনি আগে দেখেননি। তিনবারের রেজিনগরের প্রাক্তন বিধায়ক দাবি করেছেন, অতীতে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার সময় কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে লড়লেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তাঁকে হতে হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির মানুষের ভোটের উপর আস্থা নেই বলেই কমিশনকে কাজে লাগিয়ে জয় পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:Cyber Crime: নিউটাউনে আন্তর্জাতিক ফেক কল সেন্টারের হদিস, গ্রেফতার ২৪
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে ফের রেজিনগরে রবিউল
রবিউল আলম চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনে রেজিনগরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ২০১৩ সালে কংগ্রেসের প্রতীকে হুমায়ুন কবীরকে হারিয়ে প্রথমবার বিধায়ক হন তিনি। পরবর্তীতে কংগ্রেস এবং তৃণমূল—দুই দলের টিকিটেই রেজিনগর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে বেলডাঙা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এবার রেজিনগর উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ভোটের দিনই তাঁর এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।



