Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পলাশ নস্কর: নিউটাউনে ফের আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের হদিস। বিধাননগর পুলিশ কমিশনার রাঠোর অমিত কুমার ভরতের সাংবাদিক সম্মেলনে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য (Cyber Crime)। ইকোস্পেস বিল্ডিংয়ের 3B ব্লকে অভিযান চালিয়ে একটি আন্তর্জাতিক ফেক কল সেন্টারের সন্ধান পেয়েছে সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ১৩ জন মহিলা। পুলিশের দাবি, মূলত আমেরিকার নাগরিকদের টার্গেট করেই চলছিল এই প্রতারণা।
টেক সাপোর্টের নামে প্রতারণা (Cyber Crime)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘এক্সট্রা সোর্স প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে ওই কল সেন্টারটি পরিচালিত হচ্ছিল। আমেরিকার নাগরিকদের টেক সাপোর্ট দেওয়ার নাম করে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করা হত। পাশাপাশি সোলার সিস্টেম ইনস্টলেশন-সহ একাধিক পরিষেবার নাম করেও প্রতারণার জাল ছড়ানো হয়েছিল।
প্রতারণার জন্য আলাদা আলাদা টিম (Cyber Crime)
তদন্তে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতারণার কাজকে একাধিক ভাগে ভাগ করে আলাদা আলাদা টিম তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। কোথায় এবং কাকে ফোন করা হবে, তা নির্ধারণের জন্য ছিল পৃথক টিম। এরপর গ্রাহককে নিজেদের কথায় রাজি করানো বা ‘কনভিন্স’ করার জন্য ছিল আরেকটি দল।
টাকা কোন অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে, সেই ব্যবস্থার জন্যও আলাদা টিম কাজ করত। এরপর সেই টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে রাউটিং করার দায়িত্বে ছিল অন্য একটি দল। অর্থাৎ পরিকল্পিতভাবেই গোটা প্রতারণা চক্রটি পরিচালিত হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান।
উদ্ধার বিপুল ইলেকট্রনিক্স (Cyber Crime)
তল্লাশি অভিযানে পুলিশ ৫৩টি কম্পিউটার, ৪টি ল্যাপটপ, ২৪টি মোবাইল ফোন-সহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী খতিয়ে দেখে প্রতারণার পদ্ধতি এবং আর্থিক লেনদেনের আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
ধৃতদের মধ্যে ‘মূল পান্ডা’ (Cyber Crime)
২৪ জন ধৃতের মধ্যে একজনকে এই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলে মনে করছে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আন্তর্জাতিক এই প্রতারণা চক্রের মূল মাথার কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। ধৃতদের মধ্যে ভিন্রাজ্যের বাসিন্দারাও রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ভাবনা (Cyber Crime)
এই চক্রের মূল মাথা কে, তার সন্ধানের পাশাপাশি প্রতারণার টাকা ও সম্পত্তির হদিসও করছে পুলিশ। অভিযুক্তদের সম্পত্তির সঙ্গে প্রতারণার অর্থের যোগসূত্র পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হবে। এমনকি আইন মেনে সেই সম্পত্তি নিলাম করে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের টাকা ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Delhi Temperature Drop: বৃষ্টি-মেঘে কমল পারদ, দিল্লিতে ২১°! শীত কী এবার আগেই?
সিল থাকবে কল সেন্টারের জায়গা
যে বিল্ডিংয়ে কল সেন্টারটি চলছিল, সেটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সম্পত্তির মালিকদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। তাঁদের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসূত্র পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের এই জাল কতদূর বিস্তৃত, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।



