Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিনটা যে একদিন আসবে, তা জানা ছিল সবারই (Messi Last Match)। কিন্তু ফুটবলের ঈশ্বর বলে যাদের মানা হয়, তাদের বিদায়ের জন্য বোধহয় কোনো মানসিক প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়। স্বয়ং লিওনেল আন্দ্রেস মেসিও কি পুরোপুরি তৈরি ছিলেন? এখনও তো আর্জেন্টিনার জার্সিতে তিনি অনায়াসে জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি করতে পারেন। বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের রাতেও যেভাবে গোল ও অ্যাসিস্ট করলেন, তাতে আফসোস থেকে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে তিনি নিজের ভাগ্য নিজে লিখেছেন। মাঠে জয় করেছেন সম্ভাব্য সব ট্রফি, আর মাঠের বাইরে জয় করেছেন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়। বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে তাই কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ আয়োজিত হলো না, যেন রচিত হলো এক অতিমানবের মহাপ্রস্থানের অলৌকিক লোকগাথা।
প্রিয়জনের অনুপস্থিতি (Messi Last Match)
বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত দানা বাঁধছিল। বাবা হোর্হের প্রয়াণ হয়তো সেই সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত সিলমোহর দেয়। বিদায়লগ্নে মনুমেন্তালের গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন মা সেলিয়া, স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো এবং তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। শুধু ছিলেন না জর্জ—যাঁর হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই অবিশ্বাস্য যাত্রা। সেই শূন্যতা যেমন পূরণ হওয়ার নয়, তেমনই আর্জেন্টিনার ফুটবলে মেসির অভাবও অধরা থেকে যাবে। নিকো পাজ বা হুলিয়ান আলভারেজদের হাতে নতুন প্রজন্মের ব্যাটন তুলে দেওয়া হলেও, বিদায়ি সন্ধ্যার প্রতিটি মুহূর্তে পরিষ্কার হয়ে গেল—মেসি আজও অনন্য, অপ্রতিরোধ্য।
বেদনার নীল-সাদা কোলাজ (Messi Last Match)
বিদায়ী ম্যাচের জন্য তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ নীল-সাদা জার্সি, যাতে ঝলমল করছিল বিশ্বজয়ের সোনালি ছোঁয়া। আলোর রোশনাই আর আতশবাজির ঝলকানিতে ভেসে যাচ্ছিল ৮৫ হাজারের মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম। বুয়েনস আইরেসের রাস্তা থেকে দেওয়ালে দেওয়ালে তখন বাজছে বিদায় সংগীত। পুরো দেশ মেতেছিল এক অদ্ভুত উৎসবে, যেখানে কান্নার জল আর গর্বের আনন্দ মিলেমিশে একাকার। প্রতিপক্ষ বেনিনও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের শরিক হতে সানন্দে রাজি হয়েছিল। ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীতের সময় নিজের অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি অধিনায়ক মেসিও। গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল ‘ওলে ওলে মেসি’ গর্জন, আর মাঠের মাঝখানে মেলে ধরা হয়েছিল বিশাল এক জার্সি, যাতে লেখা ছিল—‘গ্রাসিয়াস ১০’।
মাঠের জাদুতে শেষ তুলির টান (Messi Last Match)
শুরু থেকেই মেসি ছিলেন নিজের চেনা ছন্দে (Messi Last Match)। ১০ মিনিটের মাথায় খেলা থামিয়ে পুরো স্টেডিয়াম তাঁকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানায়। প্রথমার্ধে গোল না এলেও দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় মূল নাটক। মেসির মাপা কর্নার থেকেই হেডে প্রথম গোল পান ৩৮ বছর বয়সি ওটামেন্ডি, যাঁর জন্যও এটি ছিল বিদায়ী ম্যাচ। এরপর ৬১ মিনিটে মেসির বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে ব্যবধান বাড়ান নিকো পাজ। অবশেষে এল সেই কাঙ্ক্ষিত ৭১ মিনিট—পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ালেন মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে ১২৬ নম্বর গোল।
আরও পড়ুন: India vs Uruguay: লড়াই সত্ত্বেও উরুগুয়ের কাছে ১-৬ ব্যবধানে হার ভারতের
বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জিতে দেশকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেওয়ার পর, এর চেয়ে মহিমান্বিত বিদায় আর কী-ই বা হতে পারত! বিদায় লিওনেল মেসি, সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।



