Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হিন্দু ধর্মের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হল (Akhand Diya) নবরাত্রি। এই উৎসবে মা দুর্গার নয় রূপের পুজো করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা রীতি ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে এই উৎসব পালন করা হয়।
বিশেষ রীতি (Akhand Diya)
এর মধ্যে একটি বিশেষ রীতি হল অখণ্ড (Akhand Diya) জ্যোতি জ্বালানো। ‘অখণ্ড’ শব্দের অর্থ যা ভাঙে না বা থামে না, আর ‘জ্যোতি’ মানে আলো। অর্থাৎ, যে প্রদীপ একটানা জ্বালিয়ে রাখা হয়, তাকেই অখণ্ড জ্যোতি বলা হয়।
কেন জ্বালানো হয়? (Akhand Diya)
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নবরাত্রির প্রথম দিন (Akhand Diya) থেকে শেষ দিন পর্যন্ত অখণ্ড জ্যোতি জ্বালিয়ে রাখলে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই প্রদীপের আলো নেতিবাচক শক্তি দূর করে এবং জীবনে ইতিবাচক ভাবনা নিয়ে আসে। প্রদীপের শিখাকে জ্ঞান, পবিত্রতা, শক্তি ও আশার প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।

নবদুর্গা (Akhand Diya)
নবরাত্রির নয় দিনে মা দুর্গার নয়টি রূপের পুজো করা হয়। এই নয়টি রূপকে একসঙ্গে নবদুর্গা বলা হয়। প্রতিটি রূপের আলাদা পরিচয়, বিশেষত্ব এবং ধর্মীয় মাহাত্ম্য রয়েছে।
- ১. মা শৈলপুত্রী
‘শৈল’ অর্থ পাহাড়, আর ‘পুত্রী’ অর্থ কন্যা। মা শৈলপুত্রী হলেন পর্বতরাজ হিমালয়ের কন্যা। তাঁর বাহন বৃষ বা ষাঁড়। এক হাতে ত্রিশূল এবং অন্য হাতে পদ্ম থাকে। তিনি শক্তি, স্থিরতা ও প্রকৃতির প্রতীক। নবরাত্রির প্রথম দিনে তাঁর পুজো করা হয়।

- ২. মা ব্রহ্মচারিণী
মা ব্রহ্মচারিণী তপস্যা, ধৈর্য ও সংযমের প্রতীক। তাঁর এক হাতে জপমালা এবং অন্য হাতে কমণ্ডলু থাকে। বিশ্বাস করা হয়, তাঁর পুজো ভক্তদের ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও মনের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। নবরাত্রির দ্বিতীয় দিনে তাঁর আরাধনা করা হয়।

- ৩. মা চন্দ্রঘণ্টা
মায়ের কপালে ঘণ্টার মতো অর্ধচন্দ্র রয়েছে, তাই তাঁর নাম চন্দ্রঘণ্টা। তিনি সাহস, বীরত্ব ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক। তাঁর বাহন বাঘ বা সিংহ হিসেবে চিত্রিত হয়। নবরাত্রির তৃতীয় দিনে তাঁর পুজো করা হয়।

- ৪. মা কুষ্মাণ্ডা
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মায়ের মৃদু হাসি থেকেই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছিল। তাই তাঁকে সৃষ্টির উৎস ও শক্তির প্রতীক মনে করা হয়। তাঁর বাহন সিংহ। নবরাত্রির চতুর্থ দিনে তাঁর পুজো করা হয়।

- ৫. মা স্কন্দমাতা
স্কন্দ বা কার্তিকেয়ের মা হওয়ায় তিনি স্কন্দমাতা নামে পরিচিত। তাঁর কোলে শিশু কার্তিকেয়কে দেখা যায়। তিনি মাতৃত্ব, স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসার প্রতীক। নবরাত্রির পঞ্চম দিনে তাঁর আরাধনা করা হয়। - ৬. মা কাত্যায়নী
ঋষি কাত্যায়নের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে মা দুর্গা তাঁর কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে পুরাণে বর্ণিত রয়েছে। মা কাত্যায়নী সাহস, শক্তি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জয়ের প্রতীক। নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে তাঁর পুজো করা হয়। - ৭. মা কালরাত্রি
নবদুর্গার অন্যতম ভয়ংকর রূপ হলেন মা কালরাত্রি। তাঁর রূপ অন্ধকারের মতো কালো এবং তিনি অশুভ শক্তির বিনাশ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। ভয় দূর করা, সাহস জোগানো এবং অশুভের বিরুদ্ধে শক্তির প্রতীক তিনি। নবরাত্রির সপ্তম দিনে তাঁর পুজো হয়।
আরও পড়ুন: Trigrahi Yog: চন্দ্র, বুধ ও শুক্রের মিলনে ত্রিগ্রহী যোগ! কোন ৩ রাশির জীবনে আসতে পারে সুখবর?
- ৮. মা মহাগৌরী
‘মহা’ অর্থ মহান এবং ‘গৌরী’ অর্থ উজ্জ্বল বা শুভ্র। মা মহাগৌরী পবিত্রতা, শান্তি ও ক্ষমার প্রতীক। সাধারণত তাঁকে সাদা পোশাকে এবং বৃষের পিঠে বসে থাকতে দেখা যায়। নবরাত্রির অষ্টম দিনে তাঁর পুজো করা হয়। - ৯. মা সিদ্ধিদাত্রী
‘সিদ্ধি’ অর্থ বিশেষ সাফল্য বা আধ্যাত্মিক ক্ষমতা, আর ‘দাত্রী’ অর্থ যিনি প্রদান করেন। মা সিদ্ধিদাত্রী ভক্তদের সিদ্ধি, জ্ঞান ও সাফল্য প্রদান করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। তিনি নবদুর্গার নবম রূপ। নবরাত্রির নবম দিনে তাঁর আরাধনা করা হয়।

