Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নদিয়ার শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী বামা কালীর বিসর্জনকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই উপচে পড়ে মানুষের ভিড় (Bama Kali)। মাকে কাঁধে নিয়ে ভক্তদের সেই বিশেষ নৃত্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ হাজির হন। তবে এবার সেই উৎসবকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে পুলিশ ও প্রশাসন। কলকাতার চোরবাগানে সাম্প্রতিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই এবার বদলে গেল বামা কালীর নাচের স্থানও।
বড়বাজারের পরিবর্তে বেজপাড়া মাঠে নাচের আয়োজন (Bama Kali)
প্রতি বছর শান্তিপুরের বামা কালীর বিসর্জন উপলক্ষে মাকে কাঁধে নিয়ে বিশেষ নৃত্যের আয়োজন করা হয়। এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান ঘিরে কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। আগে বড়বাজার এলাকায় এই নাচ অনুষ্ঠিত হলেও এবার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। মন্দিরের কাছেই বেজপাড়ার বিশাল ফাঁকা মাঠে এবার বামা কালীর নাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসনের আশা, অপেক্ষাকৃত বড় ও খোলামেলা মাঠে অনুষ্ঠান হলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটাই সহজ হবে।
বাঁশের ব্যারিকেড, সিসিটিভি, জায়ান্ট স্ক্রিনে নজরদারি (Bama Kali)
উৎসবের দিন যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেজপাড়া মাঠ বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। বসানো হয়েছে একাধিক অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে জায়ান্ট স্ক্রিন বসানোরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর ফলে মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মানুষজন সহজেই অনুষ্ঠান দেখতে পারবেন। ভিড়ের চাপ কমানোর পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা এড়াতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।
মাঠ থেকে বিসর্জন ঘাট (Bama Kali)
শুক্রবার নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লী, মহকুমা শাসক এবং রানাঘাট পুলিশ জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা শান্তিপুরের একাধিক প্রতিমা নিরঞ্জন ঘাট পরিদর্শন করেন। বেজপাড়া মাঠের ব্যবস্থাপনাও সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন তাঁরা। পাশাপাশি বামা কালীর মন্দির প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পরিদর্শন করা হয়। কারণ, পুজোর দিন মন্দির চত্বরে অসংখ্য ভক্তের সমাগম হয়। ফলে মন্দির থেকে নৃত্যস্থল এবং সেখান থেকে বিসর্জন ঘাট পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: Kalipuja Weather 2026: শীতের আমেজ এখনই নয়, আগামী তিন দিনে কতটা নামবে বাংলার তাপমাত্রা?
ঐতিহ্য বজায় রেখেই নিরাপদ উৎসবের বার্তা
প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, শান্তিপুরের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবেগ অক্ষুণ্ণ রেখেই উৎসবকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করা। চোরবাগানের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কোনওরকম ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন। জেলাশাসকও জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নজরদারির ক্ষেত্রে এবার বিশেষ কড়াকড়ি থাকবে। এখন দেখার, প্রশাসনের এই বাড়তি প্রস্তুতি ও সতর্কতায় লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগমের মধ্যেও কতটা সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয় শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী বামা কালীর বিসর্জন উৎসব।



