Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
কেটিভি বাংলা ডিজিটাল : বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে এক মাসের উপর জেলবন্দী ছিলেন (Ranji Trophy)। কয়েকদিন আগে ক্রিকেট কেরিয়ারটাই শেষ হয়ে যেতে বসেছিল। ব্যক্তিগত জীবনের সেই ঝড় সামলেই ২২ গজে দূরন্ত প্রত্যাবর্তন করলেন বাংলার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অভিষেক পোড়েল। যে বাইশ গজে ফেরা একটা সময় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, সেই ২২ গজই নতুন জীবন দিল বাংলার তরুণ এই কিপার-ব্যাটারকে।
দুরন্ত প্রত্যাবর্তন অভিষেকের (Ranji Trophy)
কল্যাণীতে দিল্লির বিরুদ্ধে মরশুমের প্রথম রঞ্জি ম্যাচেই শতরান করলেন অভিষেক পোড়েল। ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় তাঁর খেলায় কোনও প্রভাব ফেলতে যে পারেনি, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজের দশম শতরান করে তা প্রমাণ করে দিলেন। তাঁর ও সুদীপ ঘরামির জোড়া শতরানের সুবাদে দ্বিতীয় দিনের শেষে ৬৪ রানে লিড নিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে গেল বাংলা।
অভিষেক-ঘরামির জোড়া শতরান
৪ উইকেট নেওয়া মহম্মদ সামি, তিন উইকেট নেওয়া আমির গনি, জোড়া উইকেটের মালিক আকাশদীপ এবং এক উইকেট পাওয়া মুকেশ কুমারদের আগুনে পেসের সামনে ২৪০ রানেই গুটিয়ে যায় দিল্লির প্রথম ইনিংস। জবাবের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১০৫ রানের মধ্যেই অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরন (৩৪), অপর ওপেনার অঙ্কুর পাল (১৭) এবং সুদীপ চ্যাটার্জির (২) উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলা। সেখান থেকে ঝকঝকে ইনিংস খেলে দিনের শেষে দলকে সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে দেন অভিষেক ও সুদীপ। দু’জনেই করলেন শতরান। ২২১ বলে ১৭ বাউন্ডারির সাহায্যে ১২২ রান করে অপরাজিত রয়েছেন সুদীপ। অপরদিকে, দুরন্ত প্রত্যাবর্তনে ১৬১ বলে ১৩ বাউন্ডারি ও এক ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ১১৪ রান করে অপরাজিত রয়েছেন অভিষেক। দু’জনের এই দায়িত্বশীল ১৯৯ রানের পার্টনারশিপে ভর করে দ্বিতীয় দিনের শেষে তিন উইকেটে ৩০৪ রান তুলেছে বাংলা। ইতিমধ্যেই প্রথম ইনিংসে মুল্যবান ৬৪ রানের লিড নিয়ে ফেলেছে অভিমুন্য ঈশ্বরনের দল। প্রথম দিন দাপট দেখিয়েছিলেন বোলাররা। দ্বিতীয় দিনে দিল্লিকে শাসন করলেন বাংলার ব্যাটাররা।
আরও পড়ুন : SHAMI-BHUVI: মাঠে পারফরম্যান্সই সেরা জবাব, জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে বড় মন্তব্য মহম্মদ সামির
অভিষেকে ভরসা সিএবি-র
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা এবং ধর্ষণের অভিযোগে প্রায় ৩৬ দিন জেলে ছিলেন অভিষেক। গত ১৭ সেপ্টেম্বর অবশেষে জামিনে মুক্তি পান তিনি। এই ঘটনায় অভিষেকের ক্রিকেট কেরিয়ার নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বাংলা ক্রিকেট মহলে। আইনি জটিলতার মধ্যেও অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সিএবি। প্রাথমিক রঞ্জি দলে প্রথমে রাখা না হলেও জেল মুক্তির পর এই মরশুমে বাংলা রঞ্জি টিমে অভিষেককে রাখা হয়। সব সময় অভিষেকের পাশে ছিলেন বাংলার হেড কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লাও। প্রত্যাবর্তনে রঞ্জির প্রথম ম্যাচেই শতরান করে সিএবি এবং কোচ লক্ষ্মীর রাখা ভরসার মর্যাদা দিলেন অভিষেক।
আরও পড়ুন : Ishan Kishan: বাইশ গজে সিরিয়াস ঈশান, মাঠের বাইরের অন্য রূপ, সিক্রেট ফাস অভিষেকের
উচ্ছসিত হেড কোচ লক্ষ্মী
সোমবার তাই অভিষেকের এই ইনিংসে সব থেকে খুশি হেডকোচ লক্ষ্মী। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাস অভিষেক যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তারপরে মাঠে ফিরে ওর এই পারফর্মেন্স ভাবাই যায় না। মানসিকভাবে ও যাতে ভেঙে না পড়ে, তার জন্য প্রতি মুহূর্তে নজর রেখেছি আমরা।’ বরাবরই লড়াকু মানসিকতার খেলোয়াড় বলে ক্রিকেট মহলে পরিচিত অভিষেক। মামলা ও গ্রেফতারির কারণে বেশ কিছুদিন ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। ঠিকমতো প্রস্তুতির সুযোগও পাননি। কিন্তু হাল ছাড়েননি অভিষেক। কঠোর পরিশ্রম করে এই অল্প কয়েকদিনের প্রস্তুতিতেই নিজেকে ধারালো করেছেন। এই জেদ, একাগ্রতা এবং কঠোর পরিশ্রম, ২২ গজে অভিষেকের দুরন্ত প্রত্যাবর্তনের চাবিকাঠি বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল। সোমবার বাইশ গজে প্রত্যাবর্তন করে তা প্রমাণ করে দিলেন অভিষেক।


