Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ঠাকুর দেখতে গিয়ে মানুষের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনা যেন অবশেষে টনক নড়াল প্রশাসনের (Hooghly)। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবার বড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। হুগলির শ্রীরামপুরের নেহেরু নগর সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপ দর্শন বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৭৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই পুজোয় এমন সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ করেছে পুজোপ্রেমীদের। তবে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাই যে সবার আগে, সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা।
আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল বিশাল মণ্ডপ (Hooghly)
শ্রীরামপুরের নেহেরু নগর সর্বজনীন দুর্গাপুজো বরাবরই দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র। এ বছর ফাইবারের তৈরি কৈলাসের আদলে মা দুর্গার থিম দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল। প্রায় ৭০ ফুট উঁচু এই মণ্ডপ দেখতে ভিড়ও জমছিল ভালোই। প্রতিমা ও মণ্ডপের অভিনব ভাবনা ঘিরে দর্শনার্থীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু উৎসবের আনন্দের মাঝেই নিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় হয়ে ওঠে। বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা এবং দর্শনার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের তরফে পুজো কমিটিকে মণ্ডপ দর্শন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুজোর চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি (Hooghly)
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে নেহেরু নগর পুজো কমিটি। কমিটির সদস্যদের বক্তব্য, এমন ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তবে একটি পুজোকে ঘিরে মানুষের আবেগ যতই থাকুক, মানুষের জীবনের মূল্য তার চেয়ে অনেক বেশি। তাই প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই তাঁদের কর্তব্য।
শ্রীপর্ণার মৃত্যুতে শোক, সতর্কতার বার্তা বৈদ্যবাটি জুড়ে (Hooghly)
চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বৈদ্যবাটির মালির বাগানের বাসিন্দা শ্রীপর্ণা পোদ্দার। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বৈদ্যবাটি কেন্দ্রীয় দুর্গাপুজো কমিটির তরফে সব পুজোমণ্ডপে মাইক বাজানো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: South 24 Parganas: আট মাসের ব্যবধানে ফের নাজিরাবাদের মোমো গোডাউনে আগুন!
উৎসবের আনন্দের আগে নিরাপত্তা
দুর্গাপুজো বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও মিলনের উৎসব। কিন্তু সেই উৎসবের আনন্দ যেন কোনও পরিবারের কাছে আজীবনের কান্না হয়ে না থাকে। নেহেরু নগরের পুজো বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং বৈদ্যবাটিতে মাইক বাজানো বন্ধ রাখার উদ্যোগ সেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাই সামনে আনছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ যাতায়াত এবং প্রশাসনিক নির্দেশ মেনে চলা—সব ক্ষেত্রেই দায়িত্বশীলতা জরুরি।



