Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফুটবল মাঠে গোলের ঝড় তুলে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দেন তিনি (Kylian Mbappe)। কিন্তু মাঠের বাইরের একটি মন্তব্যই এবার বিপাকে ফেলেছে কিলিয়ান এমবাপেকে! ফুটবলমহলে মজার ছলে তাঁকে ডাকা হয় ‘ডিক্টেটর’। সেই ডাকনাম নিয়ে নিজেও নাকি বেশ মজা পেতেন ফরাসি তারকা। কিন্তু সেই হাসি-মজার মিম ঘিরেই এবার চিনে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। দেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাও জেদংকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ একাংশের চিনা নাগরিক। তারই মধ্যে একাধিক সংস্থা এমবাপের সঙ্গে বিজ্ঞাপনী সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বলে খবর। মাঠে ব্যালন ডি’অর হাতছাড়া, আর মাঠের বাইরে বাণিজ্যিক ধাক্কা—সময়টা যেন একেবারেই ভালো যাচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদের তারকার!
‘ডিক্টেটর’ মিমে মজেছিলেন এমবাপে (Kylian Mbappe)
কী এমন ঘটালেন এমবাপে, যার জেরে শুরু হল এত বিতর্ক? আসলে বেশ কিছুদিন ধরেই সমাজমাধ্যমে ঘুরছে একটি মিম। চিনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাও জেদংয়ের ছবিতে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে এমবাপের মুখ। সেখান থেকেই ফরাসি তারকার নামের সঙ্গে জুড়ে যায় ‘ডিক্টেটর’ তকমা। মজার বিষয়, সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এই মিম নিয়ে নিজের পছন্দের কথাও জানিয়েছিলেন এমবাপে। কিন্তু মাও জেদংয়ের নাম মনে করতে না পেরে তিনি বলে বসেন, “উনি যেন কে, মনে হয় চিনের একজন ডিক্টেটর।” আর সেই মন্তব্যের পরেই শুরু হয় বিতর্কের নতুন ইনিংস!
ক্ষোভে ফুঁসছে চিনের নেটপাড়া! (Kylian Mbappe)
এমবাপের মন্তব্য সামনে আসতেই চিনের সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন একাংশের নেটিজেন। তাঁদের অভিযোগ, দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এমন মন্তব্য করা অসম্মানজনক। পাশাপাশি, মাও জেদংয়ের ছবি ব্যবহার করে এই ধরনের মিম তৈরি করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ফুটবলের মাঠে এমবাপে যতই জনপ্রিয় হোন, দেশের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে মন্তব্যের ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল বলেই মত সমালোচকদের। ফলে একটি আপাত নিরীহ মিম নিয়ে শুরু হওয়া রসিকতা এখন রীতিমতো বিতর্কের কেন্দ্রে।
বিজ্ঞাপনী বাজারে ধাক্কা! (Kylian Mbappe)
চিনে এমবাপের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েছিল একাধিক ব্র্যান্ড। তাঁর তারকাখ্যাতি ও বিপুল অনুরাগীকে সামনে রেখে পণ্যের প্রচার করত বিভিন্ন সংস্থা। কিন্তু সাম্প্রতিক বিতর্কের পর অন্তত তিনটি ব্র্যান্ড তাঁর সঙ্গে বিজ্ঞাপনী চুক্তি শেষ করেছে বলে সূত্রের খবর। তালিকায় রয়েছে এনার্জি ড্রিঙ্ক প্রস্তুতকারী ডংপেং, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী মেংনিউ এবং চিজ উৎপাদক মিল্কগ্রাউন্ড। এই সংস্থাগুলির সঙ্গে বিজ্ঞাপনী সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার খবর সামনে আসতেই এমবাপের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ঠিক কত টাকার ক্ষতি হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য হিসাব এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাই কোটি কোটি টাকার লোকসানের দাবি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি।
ব্যালন ডি’অর হাতছাড়া (Kylian Mbappe)
এমবাপের জন্য সময়টা যেন একের পর এক হতাশার গল্প লিখছে! ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পরেই এবার চিনে বিজ্ঞাপনী চুক্তি নিয়ে বিতর্ক। ফুটবলের ব্যক্তিগত সম্মান জেতার স্বপ্ন পূরণ হয়নি, তার উপর মাঠের বাইরের মন্তব্যের জেরে বাণিজ্যিক ক্ষতির আশঙ্কা। যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগ নেই, তবু পরপর এই পরিস্থিতি ফরাসি তারকার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতেই পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বাজারে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা যে কোনও বিশ্বতারকার কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: IND VS NZ: অভিষেক-বৈভবের তাণ্ডবে ছারখার নিউজিল্যান্ড, সিরিজ পকেটে ভারতের
এমবাপে কি মুখ খুলবেন? (Kylian Mbappe)
গোটা বিতর্ক নিয়ে এখনও এমবাপের প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি (Kylian Mbappe)। তিনি কি নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেবেন, নাকি বিষয়টি এড়িয়ে যাবেন, তা নিয়েই এখন কৌতূহল। চিনের বাজারে তাঁর জনপ্রিয়তা কতটা প্রভাবিত হবে, সেটাও সময়ই বলবে। আপাতত একটি মিম, একটি মন্তব্য এবং তার পরের প্রতিক্রিয়া ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। মাঠে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে সমালোচকদের জবাব দিতে অভ্যস্ত এমবাপে এবার মাঠের বাইরের বিতর্ক কীভাবে সামলান, সেদিকেই নজর ফুটবলবিশ্বের।



