Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চেন্নাই সুপার কিংস মানেই ধোনির জাদু, হলুদ জার্সির দাপট আর আইপিএলের মঞ্চে একের পর এক ট্রফি জয়ের গল্প (Chennai Super Kings)। কিন্তু সাম্প্রতিক মরশুমগুলিতে সেই চেন্নাইয়ের ছবিটা যেন অনেকটাই ফিকে! পরপর তিন মরশুমে প্লে-অফের টিকিট অধরা। তাই কি এবার ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের? আইপিএল ২০২৭-এর আগে কোচিং স্টাফে কার্যত বড়সড় রদবদল ঘটাল সিএসকে। নতুন হেড কোচ জাহির খানের হাতে দল সাজানোর দায়িত্ব, আর তাঁর নতুন পরিকল্পনায় জায়গা করে নিচ্ছেন মোহিত শর্মা, আলবি মর্কেল এবং গ্যারেথ ব্যাটি। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের ব্যাটিং কোচ মাইকেল হাসির বিদায়ও নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন একটাই—পুরনোদের সরিয়ে নতুনদের হাত ধরে কি ফের চেনা ছন্দে ফিরবে চেন্নাই?
জাহিরের ‘নতুন ইনিংস’! (Chennai Super Kings)
দীর্ঘদিন স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের অধীনে চলার পর এবার চেন্নাইয়ের ড্রেসিংরুমে নতুন হাওয়া। হেড কোচের দায়িত্বে জাহির খানকে এনে সিএসকে বুঝিয়ে দিয়েছে, আগামী মরশুমের জন্য তাদের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন রয়েছে। নতুন কোচকে নিজের পছন্দমতো কোচিং টিম গড়ার স্বাধীনতাও দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি। ফলে শুধু মুখ বদল নয়, দলের কাজের ধরনেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। তবে জাহিরের এই নতুন ছক মাঠে কতটা কার্যকর হবে, তার উত্তর দেবে আইপিএল ২০২৭।
বোলিং কোচের চেয়ারে মোহিত শর্মা (Chennai Super Kings)
চেন্নাইয়ের নতুন বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন ভারতের প্রাক্তন পেসার মোহিত শর্মা। সিএসকের জার্সিতে তাঁর পুরনো অভিজ্ঞতাই হতে পারে বাড়তি ভরসা। ২০১৩ সালে আইপিএলে চেন্নাইয়ের হয়ে অভিষেক, ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত দলের সঙ্গে থাকা, তারপর ২০১৯ সালে প্রত্যাবর্তন—হলুদ জার্সির সঙ্গে মোহিতের সম্পর্ক নতুন নয়। পরে গুজরাট টাইটান্সের হয়েও নজর কেড়েছিলেন তিনি। আইপিএলে ১২০ ম্যাচে ১৩৪ উইকেট তাঁর অভিজ্ঞতারই প্রমাণ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর এবার কোচিংয়ের মঞ্চে নতুন চ্যালেঞ্জ। এরিক সিমন্সের জায়গায় দায়িত্ব নিয়ে চেন্নাইয়ের বোলিং আক্রমণকে কতটা ধারালো করতে পারেন মোহিত, সেদিকেই নজর থাকবে।
ডেপুটি হিসেবে আলবি মর্কেল (Chennai Super Kings)
আলবি মর্কেলও চেন্নাইয়ের কাছে একেবারে নতুন মুখ নন। ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সিএসকের হয়ে খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই প্রাক্তন অলরাউন্ডার। এবার ব্যাট-বল হাতে নয়, কোচিং স্টাফের সদস্য হিসেবে ফিরছেন তিনি। জাহির খানের ডেপুটি হিসেবে তাঁর নিয়োগ চেন্নাইয়ের পুরনো সম্পর্ককে নতুন করে কাজে লাগানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ লিগে জোবার্গ সুপার কিংসের হেড কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন মর্কেল। সেই অভিজ্ঞতা এবার আইপিএলের মঞ্চে কাজে লাগাতে চাইবে সিএসকে। পুরনো চেন্নাইকে চেনেন, আবার নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও রয়েছে—মর্কেলের সামনে তাই বড় পরীক্ষা।
সহকারী কোচ ব্যাটি (Chennai Super Kings)
নতুন কোচিং সেট আপে সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দিচ্ছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অফস্পিনার গ্যারেথ ব্যাটি। কিন্তু নতুন নিয়োগের পাশাপাশি পুরনো মুখদের বিদায়ও কম আলোচনার বিষয় নয়। দীর্ঘদিনের ব্যাটিং কোচ মাইকেল হাসির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে চেন্নাই। ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচিং সেট আপে যোগ দিয়েছেন সিএসকের ফিল্ডিং কোচ জেমস ফস্টার এবং বোলিং কোচ এরিক সিমন্সও। ফলে একসঙ্গে একাধিক পরিচিত মুখকে হারিয়ে নতুন করে কোচিং টিম সাজাতে হচ্ছে জাহিরকে। এই বদল কি নতুন কৌশলের অংশ, নাকি সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন—তার উত্তর অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
পরপর তিন মরসুমে প্লে-অফের বাইরে (Chennai Super Kings)
পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। পরপর তিন মরশুমে প্লে-অফে উঠতে না পারায় দলকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। তাই আইপিএল ২০২৭-এর আগে কোচিং স্টাফে এই রদবদলকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে শুধু কোচ বদলালেই যে ট্রফি ফিরে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। মাঠের পারফরম্যান্স, ক্রিকেটারদের ফর্ম এবং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত—সব কিছুরই পরীক্ষা হবে আগামী মরসুমে।
১৫ নভেম্বরের আগে আরও বড় চমক? (Chennai Super Kings)
কোচিং স্টাফ সাজানোর পর এবার চেন্নাইয়ের সামনে গুরুত্বপূর্ণ কাজ স্কোয়াড নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া (Chennai Super Kings)। ১৫ নভেম্বরের রিটেনশন ডেডলাইনের আগে কাদের ধরে রাখা হবে, আর কাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়বেই। নতুন কোচ জাহির খান এবং সিএসকে ম্যানেজমেন্টকে এমন দল গড়তে হবে, যারা শুধু নামের জোরে নয়, মাঠের লড়াইয়েও নিজেদের প্রমাণ করতে পারে। পুরনো পরিচিত মুখের অভিজ্ঞতা আর নতুন কোচিং ভাবনার মিশেলে কি ফের আইপিএলের মুকুটের দাবিদার হবে চেন্নাই? আপাতত হলুদ শিবিরে বদলের হাওয়া বইছে—কিন্তু সেই হাওয়া ট্রফির দিকে বইবে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭-এর লড়াই পর্যন্ত।



