Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রথম দিনের ব্যাটিং বিপর্যয় দেখে যাঁরা বাংলার কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখেছিলেন, দ্বিতীয় দিনেই তাঁদের মুখে হাসি ফোটাল লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল (Bengal Ranji)! রনজি ট্রফিতে কেরলের ঘরের মাঠে কার্যত দাপট দেখাচ্ছে বাংলা। ব্যাট হাতে শাহবাজ আহমেদের দুরন্ত শতরান, বল হাতে তাঁরই স্পিনের বিষ, আর সঙ্গে মহম্মদ শামির আগুনে পেস—সব মিলিয়ে ম্যাচের রাশ এখন বাংলার হাতেই। বাংলার ৩৫০ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে মাত্র ১০১ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে কেরল। পিছিয়ে ২৪৯ রানে! প্রথম দিনের ধাক্কা সামলে এমন প্রত্যাবর্তন যে বাংলার জয়ের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে, তা বলাই যায়। এখন প্রশ্ন, তৃতীয় দিনেই কি কেরলকে গুটিয়ে দিয়ে ৭ পয়েন্টের লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বাংলা?
বাংলার ব্যাটিংয়ে যেন অশনিসংকেত! (Bengal Ranji)
রনজি ট্রফির প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলা। কিন্তু কেরলের বিরুদ্ধে তৃতীয় ম্যাচের শুরুটা একেবারেই সুখকর হয়নি। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় চাপে পড়ে যায় দল। অভিমন্যু ঈশ্বরণ, সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক পোড়েল—কেউই বড় রান করতে পারলেন না। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় বাংলার ইনিংসে যেন বিপদের ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছিল। সেই সময় অঙ্কুর পালের ৬৬ রান কিছুটা স্বস্তি দিলেও বড়সড় ধাক্কা সামলানোর মতো ইনিংস তখনও আসেনি। আর ঠিক সেই জায়গাতেই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন শাহবাজ আহমেদ!
শাহবাজের ব্যাটে শতরানের বিস্ফোরণ (Bengal Ranji)
দলের যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন শাহবাজ। সুমন্ত গুপ্তকে সঙ্গে নিয়ে গড়লেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। আর সেই জুটির ভরসাতেই বাংলার ইনিংস পেল নতুন প্রাণ। ২০৩ বলে ১২১ রানের দুরন্ত ইনিংস খেললেন শাহবাজ। তাঁর ব্যাট থেকে এল আটটি চার ও চারটি ছক্কা। একদিকে উইকেট বাঁচিয়ে রাখা, অন্যদিকে সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি—দুইয়ের নিখুঁত মিশেলে কেরলের বোলারদের যাবতীয় পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিলেন তিনি। সুমন্তও ৪৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেন। মাত্র এক রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও বাংলার লড়াইয়ে তাঁর অবদান কম নয়।
৩৫০-এ বাংলা (Bengal Ranji)
শাহবাজের কাজ অবশ্য সেঞ্চুরি করেই শেষ হয়নি। প্রদীপ্ত প্রামাণিককে সঙ্গে নিয়ে দলের রান এগিয়ে নিয়ে গেলেন তিনি। শুরুতে যে ইনিংস ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেটাই ধীরে ধীরে পরিণত হল লড়াকু সংগ্রামে। কেরলের বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে বাংলা পৌঁছে গেল ৩৫০ রানে। প্রথম দিনের বিপর্যয়ের পর এই স্কোর যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা দ্বিতীয় দিনের খেলা দেখেই বোঝা গেল। বাংলার ব্যাটাররা যে শুধু রান করেছেন, তা নয়—কেরলের সামনে লড়াই করার মতো যথেষ্ট বড় লক্ষ্যও রেখে দিয়েছেন।
শাহবাজের অলরাউন্ড ম্যাজিক (Bengal Ranji)
একই ম্যাচে ব্যাটে শতরান, বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট—শাহবাজ যেন একাই দুই ভূমিকায় বাংলার ভরসা হয়ে উঠলেন। কেরলের ইনিংসে মাত্র আট রান খরচ করে শচীন বেবি ও আদিত্য সারওয়াতকে ফিরিয়ে দিলেন এই স্পিন-অলরাউন্ডার। বাংলার ব্যাটিং বিপর্যয় সামলানোর পর এবার প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ডে আঘাত। এমন পারফরম্যান্সে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে ধরল বাংলা। কেরলের ব্যাটারদের কাছে শাহবাজ এখন যেন এক কঠিন ধাঁধা—যার উত্তর খুঁজতে গিয়েই একের পর এক উইকেট হারাচ্ছে দল।
শামির নজর শুধু উইকেটে! (Bengal Ranji)
মহম্মদ শামির গল্পটাও কম নাটকীয় নয়। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে আলোচনা-জল্পনা থাকলেও মাঠে নিজের কাজটাই করে চলেছেন বাংলার এই অভিজ্ঞ পেসার। প্রথম ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর কেরলের বিরুদ্ধেও বল হাতে আগুন ঝরালেন তিনি। দ্বিতীয় দিনের শেষে তাঁর ঝুলিতে তিনটি উইকেট। শামির পেস ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে কেরলের ব্যাটাররা যে স্বস্তিতে নেই, তা স্কোরবোর্ডই বলে দিচ্ছে। বাংলার হয়ে নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে নিজের ছন্দ ধরে রাখছেন তিনি। জাতীয় দলের দরজায় ফের কড়া নাড়তে হলে এমন পারফরম্যান্সই যে তাঁর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
১০১ রানে ৬ উইকেট! (Bengal Ranji)
বাংলার ৩৫০ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে কেরলের স্কোর ৬ উইকেটে ১০১। অর্থাৎ এখনও ২৪৯ রানে পিছিয়ে তারা। একদিকে শাহবাজের স্পিন, অন্যদিকে শামির পেস—বাংলার বোলিং আক্রমণের সামনে কেরলের ইনিংস এখন কার্যত অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। প্রথম ইনিংসে এই বিশাল ব্যবধান ঘোচাতে হলে তৃতীয় দিনে তাদের ব্যাটারদের অসাধারণ কিছু করতে হবে। আর বাংলা চাইবে যত দ্রুত সম্ভব বাকি চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে আরও বড় সুবিধা আদায় করতে।
আরও পড়ুন: Chennai Super Kings: ধোনির চেন্নাইয়ে বড়সড় বদল! জাহিরের সঙ্গী কারা হবেন?
তৃতীয় দিনেই কি শেষ হবে লড়াই? (Bengal Ranji)
দ্বিতীয় দিনের শেষে ম্যাচের যা পরিস্থিতি, তাতে বাংলার শিবিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি আত্মবিশ্বাস থাকার কথা (Bengal Ranji)। তবে ক্রিকেটে আগাম জয় ঘোষণা করার সুযোগ নেই। তৃতীয় দিনের শুরুতে কেরলের বাকি উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়াই হবে বাংলার প্রথম লক্ষ্য। তার পর পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ইনিংসের পরিকল্পনা করতে হবে লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলকে। কেরলের মাটিতে গিয়ে প্রথম দিনের ধাক্কা সামলে যেভাবে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়েছে বাংলা, তাতে জয়ের আশা জোরালো হয়েছে। এখন দেখার, শাহবাজের অলরাউন্ড ঝড় আর শামির পেসের দাপট কাজে লাগিয়ে বাংলা কি সত্যিই ৭ পয়েন্টের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে!



