Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফুটবলের শহর কলকাতায় ব্রাজিলের ছোঁয়া (Douglas Maicon) যেন কিছুতেই ফুরোচ্ছে না! কয়েকদিন আগেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সাম্বার ছন্দে মেতেছিল তিলোত্তমা। ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছিল উৎসবের আবহ। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কলকাতায় আসছেন আরও এক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি—ডগলাস মাইকন। তবে তাঁর এই সফর শুধুই তারকাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ গড়ার এক বড় পরিকল্পনাও।
পেলের স্মৃতি থেকে মেসির মুগ্ধতা (Douglas Maicon)
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের সঙ্গে কলকাতার সম্পর্ক আজকের নয়। ইডেন গার্ডেন্সে পেলের পা রাখা থেকে মারাদোনার উপস্থিতিতে শহরের উন্মাদনা, দু’বার লিওনেল মেসির তিলোত্তমা সফর—ফুটবল তারকাদের বরাবরই দু’হাত বাড়িয়ে আপন করে নিয়েছে ‘সিটি অফ জয়’। সেই তালিকায় রয়েছেন বেবেতো, দুঙ্গা এবং কাফুর মতো ব্রাজিলীয় মহাতারকারাও। এবার সেই দীর্ঘ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করতে চলেছেন মাইকন। আগামী ১৩ নভেম্বর রাতে কলকাতায় পা রাখবেন ব্রাজিলের প্রাক্তন তারকা। পরের দিন, ১৪ নভেম্বর, কিং স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
বিশেষ অনুষ্ঠান (Douglas Maicon)
দু’দিনের কলকাতা সফরে মাইকনের মূল কর্মসূচি রয়েছে ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে। সেখানে তাঁকে ঘিরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে এই সফরের গুরুত্ব শুধুমাত্র প্রচারমূলক কর্মসূচি কিংবা ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতীয় ফুটবলের তৃণমূল স্তরে প্রতিভা চিহ্নিত করা এবং তাদের আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন ব্রাজিলের এই প্রাক্তন তারকা।
‘মিশন ২০৩৭‘ (Douglas Maicon)
ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যারা করেন তাদের মধ্যে অন্যতম কিং স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট। তাদেরই প্রকল্প ‘মিশন ২০৩৭’। এই মিশনের লক্ষ্য ভবিষ্যতে এমন ভারতীয় ফুটবলারদের তৈরি করা, যারা নিজেদের দক্ষতায় ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন। সেই লক্ষ্যে দেশজুড়ে প্রতিভাবান ফুটবলারদের খুঁজে বের করে আবাসিক ফুটবল অ্যাকাডেমিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রতিশ্রুতিমান যুব ফুটবলারদের ধারাবাহিক উন্নতির উপর জোর দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগে মাইকনের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ পারে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের প্রতিভা চিহ্নিত করার কাঠামো আরও শক্তিশালী করা, আধুনিক ফুটবলের কৌশল ও প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে পরামর্শ দেওয়া এবং ভারতীয় ফুটবলারদের সামনে আন্তর্জাতিক সুযোগের দরজা খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একজন বিশ্বমানের প্রাক্তন ফুটবলারের অভিজ্ঞতা কীভাবে পরবর্তী প্রজন্মের উন্নতিতে কাজে লাগানো যায়, সেই দিকেও নজর থাকবে।
ভারত-ব্রাজিল ফুটবল এক্সচেঞ্জ (Douglas Maicon)
মাইকনের কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের ঘোষণা হতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম ভারত-ব্রাজিল ফুটবল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ভারতীয় ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করা এবং তাঁদের প্রতিভার তুলে ধরার নতুন সুযোগ তৈরি করা। ব্রাজিলের ফুটবল সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণপদ্ধতি এবং প্রতিভা তৈরির কাজের সঙ্গে ভারতীয় ফুটবলের সংযোগ তৈরি হলে তা ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হতে পারে, তা এখন আলোচনার বিষয়।
অবশ্য পরিকল্পনাগুলির বাস্তবায়ন, প্রতিভা বাছাইয়ের পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ফুটবলারদের সুযোগ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া কতটা এগোয়, সেটাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভারতীয় ফুটবলে প্রতিভার অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রতিভাকে সঠিক প্রশিক্ষণ, পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সুযোগ দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বকাপের অবিস্মরণীয় গোল (Douglas Maicon)
মাইকন কেন বিশ্ব ফুটবলে এতটা পরিচিত, তার ব্যাখ্যা খুঁজতে ফিরে যেতে হবে তাঁর বর্ণময় কেরিয়ারে। হোসে মোরিনহোর কোচিংয়ে ২০০৯-১০ মরসুমে ট্রেবলজয়ী ইন্টার মিলান দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। ইতালীয় ক্লাবটির হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক রাইট-ব্যাক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণে উঠে এসে গোল করার দক্ষতাও ছিল তাঁর অন্যতম বড় অস্ত্র।
২০১০ বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মাইকনের অবিশ্বাস্য কোণাকুণি শট থেকে করা গোল আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। ব্রাজিলের হয়ে দু’টি বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চের অভিজ্ঞতা—দুইয়ের মিশেলই তাঁকে তরুণ ফুটবলারদের কাছে অনুপ্রেরণার এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ করে তুলতে পারে।
নজরে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ (Douglas Maicon)
কলকাতায় মাইকনের আগমন নিঃসন্দেহে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বড় আকর্ষণ (Douglas Maicon)। কিন্তু এই সফরের সার্থকতা নির্ভর করবে মাঠের বাইরের উদ্যোগগুলি কতটা বাস্তব রূপ পাবে, তার উপর। ব্রাজিলীয় কিংবদন্তির উপস্থিতি যদি ভারতীয় ফুটবলের তৃণমূল স্তরে প্রতিভা খোঁজা, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ তৈরির কাজে গতি আনে, তা হলে এই সফর নিছক তারকা-দর্শনের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: Bengal Ranji: বাংলার কামব্যাক! শাহবাজের অলরাউন্ড ঝড়, শামির আগুন বোলিংয়ে চাপে কেরল
পেলে, মারাদোনা, মেসিদের স্মৃতিতে সমৃদ্ধ কলকাতার ফুটবল-ইতিহাসে মাইকনের আগমন তাই আরও একটি নতুন অধ্যায়। তবে এবার শহরের অপেক্ষা শুধু একজন কিংবদন্তিকে স্বাগত জানানোর নয়—সেই কিংবদন্তির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় ফুটবলের আগামী দিনের তারকাদের গড়ে তোলার সম্ভাবনার দিকেও তাকিয়ে রয়েছে তিলোত্তমা।



