Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতি—সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং (Stock Market)। তার মধ্যেও বৃহস্পতিবার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল ভারতীয় শেয়ার বাজার। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের শেয়ারগুলিতে কেনাকাটার জেরে বাড়ল সেনসেক্স ও নিফটি। তবে বাজারে এই উত্থান কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সতর্ক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কর্পোরেট সংস্থাগুলির ত্রৈমাসিক ফলাফল, বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ এবং অপরিশোধিত তেলের দামের গতিবিধিই আগামী দিনে বাজারের দিশা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সেনসেক্স-নিফটিতে উত্থান (Stock Market)
বৃহস্পতিবার প্রাথমিকভাবে কার্যত স্থিতিশীল অবস্থায় লেনদেন শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে কেনাকাটা বাড়ে। সেনসেক্স ৫৫১.৯২ পয়েন্ট বা ০.৭৫ শতাংশ বেড়ে ৭৩,৭৯৭.৯৫ পয়েন্টে পৌঁছয়। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ সূচক ১৫৬.১৫ পয়েন্ট বা ০.৬৯ শতাংশ বেড়ে ২২,৭৩৫.৩৫-এর স্তরে লেনদেন করতে দেখা যায়।
বাজারের এই উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের একাধিক শেয়ারেও কেনাকাটা দেখা যায়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম বাজারের ঊর্ধ্বগতিকে কতটা ধরে রাখতে দেবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
রিলায়েন্স ও IT শেয়ারে ঊর্ধ্বমুখী বাজার (Stock Market)
বৃহস্পতিবার বাজারের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। লেনদেনের সময় সংস্থাটির শেয়ারে প্রায় ১.৭ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা যায়। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। IT সূচকে প্রায় ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়।
বিস্তৃত বাজারেও কেনাকাটার ছবি দেখা যায়। অটো, মেটাল, ফার্মা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং টেলিকম ক্ষেত্রের শেয়ারগুলিতে আগ্রহ দেখান বিনিয়োগকারীরা। স্মল-ক্যাপ ও মিড-ক্যাপ সূচকেও প্রায় ০.৪ শতাংশ করে বৃদ্ধি দেখা যায়। সামগ্রিকভাবে প্রধান ১৬টি ক্ষেত্রের মধ্যে ১৫টিতে উত্থানের প্রবণতা বাজারের মনোভাব কিছুটা উন্নত করেছে।
কোন শেয়ারে লাভ? (Stock Market)
বৃহস্পতিবারের লেনদেনে আদানি পোর্টস, পাওয়ার গ্রিড, TCS, টাইটান, কোল ইন্ডিয়া, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, HCL টেকনোলজিস, ইনফোসিস, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক এবং ভারতী এয়ারটেলের মতো শেয়ারে উল্লেখযোগ্য কেনাকাটা দেখা যায়।
অন্যদিকে, ট্রেন্ট, হিন্ডালকো, মারুতি সুজুকি, নেসলে ইন্ডিয়া, L&T, বাজাজ ফিনান্স, HDFC ব্যাঙ্ক এবং ICICI ব্যাঙ্কের মতো শেয়ারে বিক্রির চাপ বা দুর্বল প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ, সামগ্রিক বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলেও সমস্ত ক্ষেত্র বা শেয়ারে সমানভাবে লাভের সুযোগ তৈরি হয়নি।
চড়া অপরিশোধিত তেল (Stock Market)
ভারতের শেয়ার বাজারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ অপরিশোধিত তেলের দাম। প্রদত্ত বাজার-তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৪.০৫ ডলার এবং অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০১.৪৫ ডলারের আশপাশে ছিল।
ভারত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘদিন উঁচু স্তরে থাকলে দেশের আমদানি খরচ বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে টাকার বিনিময়মূল্য, মূল্যবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সংস্থার উৎপাদন খরচ ও মুনাফার উপর। বিশেষ করে পরিবহণ, বিমান পরিষেবা এবং তেলনির্ভর শিল্পের সংস্থাগুলি এই পরিস্থিতিতে চাপে পড়তে পারে।
মার্কিন ফেডের নীতির দিকেও নজর (Stock Market)
বাজারের গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তও। সুদের হার অপরিবর্তিত থাকলেও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার নীতি এবং ভবিষ্যতের আর্থিক পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলতে পারে।
মার্কিন সুদের হার ও ডলারের গতিবিধির প্রভাব পড়তে পারে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে। বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ দুর্বল হলে ভারতীয় বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি সংস্থাগুলির ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফলও বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
নিফটির কোন স্তরে নজর বিনিয়োগকারীদের? (Stock Market)
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিফটির ক্ষেত্রে ২২,৭৫০ থেকে ২২,৮০০ পয়েন্টের অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধের স্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সীমার উপরে সূচক ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারলে বাজারের মনোভাবে আরও উন্নতি হতে পারে।
অন্যদিকে, ২২,৬০০ থেকে ২২,৫০০ পয়েন্টের অঞ্চলকে গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট জোন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিফটি এই স্তরের নিচে নেমে গেলে বিক্রির চাপ বাড়তে পারে। তাই শুধুমাত্র এক দিনের উত্থান দেখে বাজারের দীর্ঘমেয়াদি দিশা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
বিনিয়োগকারীদের জন্য কী কৌশল হতে পারে? (Stock Market)
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় থাকলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন (Stock Market)। সংস্থার আর্থিক ফলাফল, ঋণের পরিমাণ, নগদ প্রবাহ এবং ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বাজারের প্রতিটি উত্থানকে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে না দেখে, সূচকের ধারাবাহিকতা ও সংস্থার মৌলিক অবস্থান যাচাই করা জরুরি।
আরও পড়ুন: Stock Market: ফল প্রকাশের পরেই চমক, এই ব্যাঙ্কের শেয়ারে বাড়ছে লগ্নিকারীদের নজর!
সব মিলিয়ে, বৃহস্পতিবারের উত্থান ভারতীয় শেয়ার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে চড়া তেলের দাম, মার্কিন আর্থিক নীতি এবং বিদেশি বিনিয়োগের গতিপ্রকৃতি এখনও বড়সড় অনিশ্চয়তার কারণ। আগামী দিনে সেনসেক্স ও নিফটি এই ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখতে পারে কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের।



