Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মাঠের মধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে ফের শিরোনামে নেইমার (Neymar jr)। প্রতিপক্ষ ফুটবলারের সঙ্গে ঝগড়ার সময় মুখ ঢেকে কথা বলার ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়তে হল ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলারকে। তাঁকে দু’ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করেছে লিগ কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে একাধিক হলুদ কার্ড দেখার কারণে আরও একটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না স্যান্তোসের এই তারকা। ফলে সব মিলিয়ে তিন ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে নেইমারকে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁর ক্লাবের হয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলিতে খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাহিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচেই বিতর্ক (Neymar jr)
ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে বাহিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল স্যান্তোস। সেই ম্যাচেই এক প্রতিপক্ষ ফুটবলারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন নেইমার। একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সেই সময় হাত দিয়ে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের উদ্দেশে কিছু বলতে দেখা যায় ব্রাজিলীয় তারকাকে।
ম্যাচের পর এই ঘটনার বিরুদ্ধে লিগ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানায় বাহিয়া। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরই নেইমারকে দু’ম্যাচ নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে মাঠের পারফরম্যান্সের বদলে বিতর্কের জেরেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে স্যান্তোসের তারকা।
কেন এত কড়াকড়ি? (Neymar jr)
ফুটবল মাঠে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার ঘটনা নতুন নয়। তবে মুখ ঢাকা থাকায় কী বলা হচ্ছে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। অতীতে এই ধরনের ঘটনার আড়ালে বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে একাধিকবার। সেই কারণেই মাঠে ফুটবলারদের আচরণ নিয়ে আরও সতর্ক হচ্ছে ফুটবল প্রশাসন।
চলতি বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটি ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়রও অভিযোগ করেছিলেন, মুখ ঢেকে তাঁকে বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য করেছেন এক প্রতিপক্ষ ফুটবলার। এই ধরনের ঘটনা আটকাতে ফিফাও নতুন নিয়ম চালু করেছে বলে জানা গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার ঘটনায় পরিস্থিতি ও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রেফারি লাল কার্ড দেখাতে পারেন। বিশ্বকাপেও প্যারাগুয়ের এক ফুটবলারকে এই নিয়মে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেইমারকে হলুদ কার্ডেরও শাস্তি (Neymar jr)
নেইমারের সমস্যা শুধু দু’ম্যাচের নির্বাসনেই সীমাবদ্ধ নয়। একাধিক হলুদ কার্ড দেখার কারণে নিয়ম অনুযায়ী একটি ম্যাচে এমনিতেই খেলতে পারতেন না তিনি। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে লিগ কর্তৃপক্ষের দেওয়া আরও দু’ম্যাচের নির্বাসন। ফলে তিনটি ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে।
এই পরিস্থিতিতে নভেম্বরের শেষ দিকের আগে তাঁর মাঠে ফেরার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে নির্বাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন জানানোর সুযোগ রয়েছে নেইমার ও স্যান্তোসের সামনে। সেই আবেদন করা হলে শাস্তির মেয়াদ বা সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন আসে কি না, সেটাই দেখার।
জাতীয় দলেরও হতাশায় বছর শেষ (Neymar jr)
ক্লাবের হয়ে নির্বাসনের ধাক্কার পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতেও চলতি বছর খুব একটা স্বস্তিতে ছিলেন না নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে খেললেও বেশিরভাগ সময় বেঞ্চেই কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। শেষ দু’টি ম্যাচে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোলও করেছিলেন ব্রাজিলের সর্বাধিক গোলের মালিক।
তবে ব্যক্তিগত সাফল্য সত্ত্বেও বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে প্রত্যাশিত সাফল্য নিয়ে ফিরতে পারেনি ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হয় নেইমারকে। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করেন তিনি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Hardik Pandya: মুম্বই ছাড়ছেন হার্দিক? কেকেআরেই কি নতুন ঠিকানা?
নজর নির্বাসনের বিরুদ্ধে আবেদনে (Neymar jr)
কেরিয়ারের এই পর্যায়ে এসে মাঠের বাইরের বিতর্কে জড়িয়ে পড়া নেইমারের জন্য বড় ধাক্কা (Neymar jr)। একদিকে ক্লাবের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অনুপস্থিতি, অন্যদিকে শাস্তি ঘিরে বিতর্ক—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে ব্রাজিলীয় তারকার উপর। এখন দেখার, নির্বাসনের বিরুদ্ধে আবেদন করে শাস্তি কমাতে পারেন কি না নেইমার ও স্যান্তোস।



