Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে বিরোধীদের ‘ভোট চুরি’ প্রচারের বিরুদ্ধে সরব হলেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেত্রী তথা জাতীয় সাধারণ সম্পাদিকা স্মৃতি ইরানি (Election Commission)। ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নির্বাচন ব্যবস্থা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিরোধী জোটের রাজনৈতিক অবস্থান—একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানান তাঁরা।

‘ভোট চুরি’র অভিযোগে পালটা আক্রমণ (Election Commission)
স্মৃতি ইরানির অভিযোগ, কংগ্রেস ও তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলি নির্বাচন কমিশন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই ‘ভোট চুরি’র মতো অভিযোগকে সামনে আনা হচ্ছে। নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করার এই প্রচেষ্টা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৫২ থেকে ২০২৫—এসআইআর নিয়ে কী দাবি স্মৃতির? (Election Commission)
ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রসঙ্গ তুলে স্মৃতি ইরানি দাবি করেন, ১৯৫২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে ১২ বার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এর মধ্যে ১০ বারই কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল। মৃত, স্থানান্তরিত কিংবা ডুপ্লিকেট ভোটারের নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল করার লক্ষ্যেই এই প্রক্রিয়া চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

বাংলায় এসআইআর ঘিরে শাসক-বিরোধী চাপানউতোর (Election Commission)
পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গেও সরব হন স্মৃতি ইরানি ও শমীক ভট্টাচার্য। তাঁদের অভিযোগ, অতীতে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া হয়েছে এবং বিজেপি কর্মীদের উপর রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে নিয়ম মেনে ভোটার তালিকা যাচাই হলে আরও বহু নাম বাদ পড়ত। এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার পিছনে রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: Government Job: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে রাজ্য, মিলবে গ্রুপ-ডি চাকরি
‘রেজিম চেঞ্জ’ স্লোগান নিয়েও কড়া বার্তা
বিরোধী জোটের ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের ডাক নিয়েও স্মৃতি ইরানি আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের একমাত্র পথ হল ভোট। জোর করে কিংবা বিদেশি মদতে কোনও সরকার পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও কড়া বার্তা দেন তিনি।

‘৯০ কোটি ভোটারই গণতন্ত্রের শক্তি’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্মৃতি ইরানি দাবি করেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার যে কোনও প্রচেষ্টা সাধারণ মানুষ প্রতিহত করবে। তাঁর কথায়, দেশের সচেতন নাগরিক এবং প্রায় ৯০ কোটি ভোটারই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি। কলকাতার সাংবাদিক বৈঠক থেকে সেই ভোটারদের উদ্দেশেই কার্যত রাজনৈতিক বার্তা দিল বিজেপি—নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখুন, আর বিরোধীদের ‘ভোট চুরি’র প্রচারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে জবাব দিন।



