Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বীরভূমের মাটিতে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন ইতিহাস, লোককথা ও অলৌকিক বিশ্বাসের কাহিনি (Birbhum Kali Puja)। সেইসব রহস্যময় কাহিনির অন্যতম ইলামবাজারের সুগড় গ্রামের বক্সিবাড়ির কালীপুজো। প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই পুজো। তবে এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ শুধুমাত্র দেবী কালীর আরাধনা নয়, বরং একটি প্রাচীন রহস্যময় পুঁথি। লোকবিশ্বাস, সেই পুঁথির পাতা খুললেই নাকি নেমে আসে মৃত্যু! তাই কয়েক শতাব্দী ধরে পুঁথিটি বন্ধ অবস্থাতেই পূজিত হয়ে আসছে।

অজয় নদের তীরে সন্ন্যাসীর সাধনা (Birbhum Kali Puja)
লোককথা অনুযায়ী, অজয় নদের তীরে হদের ঘাটে এক সন্ন্যাসী দীর্ঘদিন ধরে সাধনায় মগ্ন ছিলেন। কথিত আছে, বক্সি পরিবারের পূর্বপুরুষ কানুমোহিনী বক্সি ও যোগেশ্বর বক্সি একই দিনে স্বপ্নাদেশ পেয়ে ওই সন্ন্যাসীর কাছে পৌঁছেছিলেন। সেই সন্ন্যাসী তাঁদের হাতে একটি প্রাচীন পুঁথি তুলে দেন। একইসঙ্গে নির্দেশ দেন, কোনওভাবেই যেন পুঁথিটি খোলা না হয়। সেই পুঁথিকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় বক্সিবাড়ির কালীপুজো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পুজো পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে এলাকার অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
পুঁথির পাতা খুললেই মৃত্যু! কী লুকিয়ে রয়েছে তার ভিতরে?
বক্সিবাড়ির কালীপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি ভয়ংকর লোককথা। শোনা যায়, একসময়ে এক ব্যক্তি ওই প্রাচীন পুঁথির পাঠোদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পুঁথি খোলার পরেই তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস। যদিও এই ঘটনার কোনও প্রামাণ্য ঐতিহাসিক তথ্য নেই, তবুও সেই কাহিনি আজও স্থানীয় মানুষের মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে। তারপর থেকে পরিবারের কেউ আর পুঁথিটি খোলার সাহস দেখাননি। পুঁথির পাতায় কী লেখা রয়েছে, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। কোনও প্রাচীন ধর্মীয় আখ্যান, তন্ত্রসাধনার পদ্ধতি, নাকি অজানা কোনও ইতিহাস—উত্তর আজও অধরা(Birbhum Kali Puja)।
পঞ্চমুণ্ডির আসনে দেবী, নিত্যপুজো হয় রহস্যময় পুঁথিরও
বক্সিবাড়ির কালীপ্রতিমার রূপও বেশ স্বতন্ত্র। পঞ্চমুণ্ডির আসনে অধিষ্ঠিত দেবীর আরাধনা করা হয় বিশেষ রীতিতে। রয়েছে বলি প্রথাও। তবে এই পুজোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, দেবীর পাশাপাশি পূজিত হয় সেই প্রাচীন পুঁথি। পরিবারের সদস্য প্রদীপ বক্সির কথায়, পুঁথিটিকেই কালীরূপে পুজো করা হয়। শনি ও মঙ্গলবার কালীমন্দিরে এনে পুঁথির বিশেষ পুজো করা হয়। পরিবারের সদস্য সমীরণ বক্সির দাবি, বংশপরম্পরায় তিনশো বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পুজো চলে আসছে। গবেষণার স্বার্থে কেউ পুঁথির রহস্য উদঘাটন করতে চাইলে পরিবারের আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: Kalipuja Weather 2026: শীতের আমেজ এখনই নয়, আগামী তিন দিনে কতটা নামবে বাংলার তাপমাত্রা?
লোকবিশ্বাস, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের মেলবন্ধন (Birbhum Kali Puja)
জয়দেব-কেন্দুলির ঐতিহ্যবাহী রাধাবিনোদ মন্দিরের অদূরে অবস্থিত সুগড় গ্রাম। কবি জয়দেবের স্মৃতি, গীতগোবিন্দের ঐতিহ্য এবং নানা লৌকিক-অলৌকিক কাহিনিতে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয়। সেই ঐতিহ্যেরই এক বিশেষ অধ্যায় বক্সিবাড়ির কালীপুজো।



