Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: হামাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের জেরে গাজ়া ভূখণ্ড এখন কার্যত মৃত্যুপুরী (Hunger Crisis In Gaza)। প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যা, ক্ষতবিক্ষত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এরই মাঝে দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সঙ্কট, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে পড়ে নিজেদের অবস্থান ‘আংশিক’ পরিবর্তন করেছে ইজ়রায়েল।
নেতানিয়াহু কী বলেছেন? (Hunger Crisis In Gaza)
সোমবার একটি ভিডিয়ো বার্তায় ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) বলেন, “আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলিও গাজ়ার ‘ক্ষুধার চিত্র’ দেখে উদ্বিগ্ন (Hunger Crisis In Gaza)। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই অবস্থায় তারা আমাদের সম্পূর্ণ সমর্থন করতে পারবে না।” এই মন্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট—হামাস বিরোধী অভিযান চালিয়ে যেতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন হারাচ্ছে ইজ়রায়েল।মার্চের গোড়ায় প্রথম দফার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে গাজ়ায় খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছিল ইজ়রায়েল। সে সময় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, রাষ্ট্রসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে। অভিযোগ ওঠে, খাদ্য ও ওষুধ আটকে রেখে যুদ্ধকে ‘মানবিক বিপর্যয়’-এ পরিণত করা হচ্ছে।
গাজ়ায় খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রীর অনুমতি (Hunger Crisis In Gaza)
এই পরিস্থিতিতে রবিবার ইজ়রায়েল জানায়, তারা সীমিত পরিমাণে গাজ়ায় খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী প্রবেশের অনুমতি দেবে (Hunger Crisis In Gaza)। তবে কী পরিমাণ সাহায্য দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে কোনও পরিস্কার ব্যাখ্যা দেয়নি তেল আবিব। বরং নেতানিয়াহু আবারও কড়া সুরে বলেন, “গাজ়া পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আসবে। সেই সঙ্গে আমরা নিশ্চিত করব, কোনও ত্রাণসামগ্রী হামাসের হাতে না যায়।”

আরও পড়ুন: Britain EU Relation : বিচ্ছেদের পর নতুন সমঝোতা! EU-এর সঙ্গে নয়া চুক্তি ব্রিটেনের
অনাহারে দিন কাটছে গাজ়ায় (Hunger Crisis In Gaza)
মানবিক সংস্থাগুলির মতে, এই সঙ্কটের মধ্যে গাজ়ায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ খাদ্য, ওষুধ ও পানীয় জলের অভাবে দিন কাটাচ্ছেন (Hunger Crisis In Gaza)। অন্তত ৪০ শতাংশ শিশু অপুষ্টির শিকার। বোমাবর্ষণ ও সেনা অভিযানে ইতিমধ্যেই নিহতের সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সাধারণ মানুষ।এই আবহে আবারও শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে কাতার, আমেরিকা ও মিশর। দোহায় নতুন দফার আলোচনা শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সংঘর্ষবিরতির আশার আলো দেখা যায়নি।

নেতানিয়াহুর সরকারের নরম ‘বার্তা’ (Hunger Crisis In Gaza)
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইজ়রায়েল এমন এক কূটনৈতিক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে সেনা অভিযান চালিয়ে গেলেও, বন্ধুরাষ্ট্রগুলির নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে (Hunger Crisis In Gaza)। ফলে নেতানিয়াহুর সরকার চাপের মুখে পড়ে ‘নরম বার্তা’ দিচ্ছে, যদিও মাটিতে তার বাস্তব প্রতিফলন এখনও অনুপস্থিত।এদিকে, ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলি দাবি করছে, শুধুমাত্র ত্রাণ প্রবেশ করালেই সমস্যার সমাধান হবে না। যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, গাজ়া থেকে ইজ়রায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে—এই দাবিই এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে চাইছে তারা।বস্তুত, এই মুহূর্তে গাজ়া শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্র নয়, আন্তর্জাতিক নৈতিকতা ও মানবাধিকারের অন্যতম বড় পরীক্ষা।


