Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের প্রথম দশ মাসে ১.৪৩ লক্ষ কোটি টাকার আন্তর্জাতিক সাহায্য পেয়েছে পাকিস্তান। এই অর্থের মধ্যে রয়েছে ঋণ ও অনুদান উভয়ই (Pakistan Economy)। পাকিস্তানের সরকারি অর্থনৈতিক সংস্থা ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের (EAD) সদ্যপ্রকাশিত এক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।
পাকিস্তানের অর্থ ঘাটতি (Pakistan Economy)
পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন প্রথম এই রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ প্রকাশ করে (Pakistan Economy)। ইএডি রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সাহায্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১.৬৩ লক্ষ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এখনও প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে ইসলামাবাদের সামনে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে পাক প্রশাসন। তবে পরিসংখ্যান বলছে, আগের বছরের তুলনায় এ বছর সাহায্য প্রাপ্তির হারে স্পষ্ট পতন ঘটেছে।
পাকিস্তানের অর্থ সহায়তা কত? (Pakistan Economy)
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে পাকিস্তানের সাহায্যের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১.৪৯ লক্ষ কোটি টাকা(Pakistan Economy)। বাস্তবে তার থেকে কিছুটা বেশি অর্থ সহায়তা পেয়েছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষে ১০ মাস শেষে যে অঙ্কে সাহায্য মিলেছে, তা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম। আন্তর্জাতিক সাহায্যপ্রাপ্তির এই নিম্নগামী প্রবণতা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই চিন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অর্থসাহায্য চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহায়তা পেয়ে আসছে। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জুলাই থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সৌদি আরব ও চিন উভয়ই পাকিস্তানকে ২৫.৫ হাজার কোটি টাকা করে দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দিয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া তিন দেশের বাইরে থেকে পাকিস্তান যে ঋণ পেয়েছে, তার পরিমাণ ৫১.৮ হাজার কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: Amit Shah On Pakistan : পাকিস্তানকে সরাসরি আক্রমণ অমিত শাহের, ‘সন্ত্রাসের মদত দিচ্ছে ওরাই’
আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার থেকে পাওয়া ঋণ (Pakistan Economy)
তবে এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার (IMF) থেকে পাওয়া ঋণ(Pakistan Economy)। এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফেসিলিটি (EFF) প্রকল্পের অধীনে পাকিস্তানকে মোট ৫৯.৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে IMF। এর মধ্যে অক্টোবর মাসে ৮.৫ হাজার কোটি এবং মে মাসে আরও ৮.৫ হাজার কোটি টাকা ইসলামাবাদ পেয়েছে।বর্তমানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট প্রণয়ন নিয়ে পাকিস্তান ও IMF-এর মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা চলছে। এই আলোচনা শুরু হয়েছে ১৯ মে থেকে। IMF-এর পাকিস্তান মিশনের প্রধান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “বাজেট নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা গঠনমূলক ছিল। আমরা আগামী দিনেও আলোচনা চালিয়ে যাব।” বাজেট বিষয়ক অনিশ্চয়তার কারণে পাকিস্তান সরকার আগামী ১০ জুন পর্যন্ত বাজেট ঘোষণা স্থগিত রেখেছে।

আন্তর্জাতিক ঋণের উপরে নির্ভরশীলতা(Pakistan Economy)
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্রমাগত আন্তর্জাতিক ঋণের উপরে নির্ভরশীলতা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে (Pakistan Economy)। বাজেট প্রস্তুতি ও অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কারে স্থিতিশীল নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।


