Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: গাজায় এখন জীবন মানেই অনিশ্চয়তা। রাস্তায় বেরোলে মৃত্যু নিশ্চিত, ঘরে থাকলেও অনাহারে মরার আশঙ্কা(Crisis in Gaza)। ইজরায়েল ও হামাসের চলমান সংঘাতে ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হয়েছে। রাফা, খান ইউনিস, তাল আল-সুলতান কিংবা ওয়াদি গাজ়া— সর্বত্রই একই করুণ চিত্র। বেঁচে থাকার তাগিদে খাদ্য ও জ্বালানির সন্ধানে যারা ঘর ছাড়ছেন, তারা ফিরতে পারছেন না অনেকেই।
প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন বহু গাজাবাসী (Crisis in Gaza)
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলি গোলাবর্ষণে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন বহু গাজাবাসী(Crisis in Gaza)। আল জাজিরা জানিয়েছে, সম্প্রতি ইজরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৪৪ জন। অনেকে নিহত হয়েছেন শুধুমাত্র ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়েই। ত্রাণ শিবির এখন আর নিরাপদ আশ্রয় নয়— সেটাই যেন হয়ে উঠেছে নতুন ‘মৃত্যুফাঁদ’।
গাজার অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, জাতিসংঘ জানিয়েছে, সময়ের আগে জন্ম নেওয়া ১০০-র বেশি শিশু জ্বালানির অভাবে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসা, বিদ্যুৎ বা পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ইজরায়েল গাজায় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। হাসপাতালগুলি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
গাজার শিশুদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন (Crisis in Gaza)
খাদ্যাভাবের ফলে গাজার শিশুদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন। স্থানীয় এনজিও নেটওয়ার্কের প্রধান আমজাদ শাওয়ারের মতে, অন্তত দু’লক্ষ শিশু অনাহার ও অপুষ্টিতে ভুগছে(Crisis in Gaza)। রাষ্ট্রপুঞ্জ বহুবার মানবিক সহায়তা পাঠাতে চাইলেও ইজরায়েলের অনুমতি মেলেনি। ফলে গাজাবাসী প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ইজরায়েল সমর্থিত ত্রাণ সংস্থা গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)। সংস্থাটি গাজায় চারটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালায়— সৌদিপাড়া, খান ইউনিস, তাল আল-সুলতান এবং ওয়াদি গাজা। কিন্তু সমস্যার জায়গা হল, এই কেন্দ্রগুলি খোলে দিনে মাত্র একবার, তাও মাত্র ৮–১১ মিনিটের জন্য। এ সময়েই শত শত মানুষ ত্রাণ নিতে ভিড় করেন। ফলে পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।

আরও পড়ুন: Asim Munir US Visit : শেষ দু-মাসে দ্বিতীয়বার মার্কিন সফরে মুনির! কারণ কী?
যুদ্ধবিরতি না হওয়ায় বাড়ছে ভয়বহতা (Crisis in Gaza)
এর উপর, ইজরায়েলি সেনাবাহিনী অনেক জায়গায় গাজাবাসীদের চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে(Crisis in Gaza)। ফলে অনেক সময় ত্রাণ শিবির থেকে ত্রাণকেন্দ্রে পৌঁছাতে গিয়েও প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেক ক্ষেত্রেই পরিবারকে না জানিয়েই খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ছে মানুষজন, আর তারা আর ফিরছে না।
রাজনৈতিক অচলাবস্থাও এই মানবিক বিপর্যয়কে প্রশমিত করতে পারছে না। এখনও পর্যন্ত ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে কোনও যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি। কূটনৈতিক তৎপরতা থাকলেও বাস্তবে তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। মানবিক সহায়তা কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গাজা আজ মৃত্যুপুরীতে রূপান্তরিত।

আরও পড়ুন: US Russia Relations : রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কোয় মার্কিন দূত! ‘শান্তির ইঙ্গিত’ নাকি ‘কূটনৈতিক কৌশল’ ?
বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে রাষ্ট্রপুঞ্জ (Crisis in Gaza)
এই অবস্থা চলতে থাকলে গাজায় আরও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রাষ্ট্রপুঞ্জ(UNO)। আন্তর্জাতিক মহলের এখনই উচিত নিরপেক্ষভাবে সংঘর্ষ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া ও অবিলম্বে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা(Crisis in Gaza)। নইলে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষের জীবন আরও করুণ পরিণতির দিকে এগোবে।


