Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘ দেড় দশকের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব পেল বাঁকুড়া জেলা (Khudiram Tudu)। পরিবর্তনের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় রানীবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই জঙ্গলমহল জুড়ে শুরু হয়েছে উচ্ছ্বাসের ঢেউ। রবিবার প্রথমবার মন্ত্রী হিসেবে বাঁকুড়ায় পৌঁছাতেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের আবেগ, উন্মাদনা এবং উচ্ছ্বাস যেন বাঁধ মানেনি।

বিজেপি কার্যালয়ে উৎসবের আবহ (Khudiram Tudu)
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ক্ষুদিরাম টুডুর এদিনের বাঁকুড়া সফর ঘিরে সকাল থেকেই বিজেপির জেলা কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন অসংখ্য কর্মী ও সমর্থক। ঢাক-ঢোল, আবির, ফুলের মালা এবং ‘জঙ্গলমহলের গর্ব’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। গাড়ি থেকে নামতেই ফুলের তোড়া, মালা এবং শুভেচ্ছার বন্যায় কার্যত ভেসে যান নবনিযুক্ত মন্ত্রী। বহু কর্মীর চোখেমুখে ধরা পড়ে আবেগঘন মুহূর্ত কারণ তাঁদের মতে, এই প্রথম জঙ্গলমহলের মাটি থেকে উঠে আসা একজন জনপ্রতিনিধি পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন।
১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান (Khudiram Tudu)
বাঁকুড়া জেলার শেষ পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন বাম আমলের পার্থ দে। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ১৫ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে জেলার একাধিক জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আর কেউ পাননি। বিশেষ করে জঙ্গলমহল অঞ্চল বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে সেই গুরুত্ব অনেক সময়ই অধরা থেকেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। সেই জায়গা থেকেই ক্ষুদিরাম টুডুর মন্ত্রীত্বকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং জঙ্গলমহলের সামাজিক ও প্রশাসনিক মর্যাদার স্বীকৃতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

জঙ্গলমহলের প্রথম পূর্ণমন্ত্রী (Khudiram Tudu)
স্বাধীনতার পর বহু রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। বাম আমল থেকে তৃণমূল আমল একাধিক সরকার এসেছে-গিয়েছে। কিন্তু জঙ্গলমহলের বুক থেকে উঠে আসা কোনো নেতা পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পাননি কখনও। সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড এবার ভাঙলেন রানীবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। ফলে তাঁর এই সাফল্যকে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, গোটা আদিবাসী অধ্যুষিত জঙ্গলমহলের গর্ব হিসেবেই তুলে ধরছেন স্থানীয় মানুষ।
শংসাপত্র বাতিলে কড়া অবস্থান (Khudiram Tudu)
বাঁকুড়ায় পৌঁছেই ক্ষুদিরাম টুডু স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং উন্নয়ন নিয়েই এগোতে চান তিনি। তাঁর বক্তব্য, বহুদিন ধরে রাজ্যে ভুয়ো তপশিলী উপজাতি শংসাপত্র ব্যবহার করে প্রকৃত আদিবাসী সমাজ বঞ্চিত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রকৃত উপভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত করতে ভুয়ো শংসাপত্র বাতিলের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসনিক স্তরে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বন্ধ স্কুল চালু করাই প্রধান লক্ষ্য (Khudiram Tudu)
জঙ্গলমহলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে শক্তিশালী করার আশ্বাসও দিয়েছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় বহু স্কুল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা শিক্ষক সংকটে থাকা স্কুলগুলিকে পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত আদিবাসী অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।

রাস্তা, পানীয় জল ও পরিকাঠামোয় জোর (Khudiram Tudu)
শুধু শিক্ষা নয়, জঙ্গলমহলের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি বলেন, গ্রামের রাস্তা, পানীয় জলের সমস্যা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে জঙ্গলমহলকে উন্নয়নের মূল স্রোতে নিয়ে আসাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: Sujan Chakraborty: মমতার ডাকে সাড়া দেবে বামেরা? কড়া জবাব সুজন চক্রবর্তীর
রাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়লো বাঁকুড়ার
রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষুদিরাম টুডুকে পূর্ণমন্ত্রী করা শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর মধ্যে রয়েছে বড় রাজনৈতিক বার্তাও। জঙ্গলমহল অঞ্চলে নিজেদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে এবং আদিবাসী সমাজের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই প্রথম জঙ্গলমহলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে।



