Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: মোসাদ (Mossad) — ইজরায়েলের বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা — আধুনিক তথ্যচর্চা ও গুপ্তচরবৃত্তির এক বিখ্যাত নাম। দেশের পরিমণ্ডলীয় নিরাপত্তা, প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র, অতি-দূরপাল্লার হুমকি ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে মসাদের ভূমিকা কেন্দ্রীয়। সাধারণভাবে মসাদকে মানুষের ওপর ভিত্তিক গোয়েন্দ, গোপন অপারেশন, অননুমোদিত বা স্বল্প-প্রকাশ্য সাড়া-জবাব এবং বৈদেশিক কৌশলগত সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা সংস্থা হিসেবে দেখা হয়।
মোসাদ কাকে রিপোর্ট করে? (Mossad)
মসাদিরা আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রের কাছে দায়িত্বপ্রাপ্ত; তার প্রধান সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট করেন (Mossad)। নানান শাখা থাকে — গোয়েন্দা সংগ্রহ, অপারেশন হ্যান্ডলিং, কুষ্টি, প্রযুক্তি ও কভার-অফিস কার্যক্রম। মাঠে কাজ করে ‘ক্যাটসা’ নামক ফিল্ড অফিসাররা, যারা এজেন্ট খোঁজে, নিয়োগ করে এবং যোগাযোগ রক্ষা করে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন দেয় এমন স্বেচ্ছাসেবী ও অস্থায়ী সহযোগীদের একটি নেটওয়ার্কও ব্যবহৃত হয় — এগুলোকে বলা হয় ‘সায়ানিম’, যারা স্থানীয় সুবিধা, লোকবল বা লজিস্টিক দিয়ে মসাদের কার্যক্রমকে গ্লোবাল অপারেশন হিসেবে চালাতে সহায়তা করে। এই ভিন্ন স্তরের কাজে মসাদ কম সময় ও বিপুল সুযোগে কাজ করতে পারে।
কীভাবে কাজ করে মোসাদ? (Mossad)
মসাদের কাজের মূলত তিনটি স্তর আছে — (১) গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ, (২) গোপন অপারেশন (সামাজিক-মানবিক, রাজনৈতিক বা সামরিক এজেন্টদের উপর নির্ভর করে), এবং (৩) কৌশলগত আঘাত বা লক্ষ্যমাত্রা চিন্হিত করে তা কার্যকর করা (যা কখনো কখনো সিগনালিং বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার উদ্দেশ্যেও হয়)। মসাদ মাঠে দীর্ঘ মেয়াদের কারওরূপে না থেকে দ্রুত-সক্রিয়, খণ্ডকালিক দল পাঠিয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হাসিল করে থাকে। কাজে সাধারণত কভার প্রতিষ্ঠান, বদলানো পরিচয়, জাল কাগজপত্র ও প্রযুক্তিগত তৎপরতা ব্যবহার করা হয় (Mossad)।
মোসাদের বিভিন্ন অভিযান (Mossad)
১) আসাদেম অ্যাডলফ আইনমান (Adolf Eichmann)–এর গ্রেপ্তার (১৯৬০)
১৯৬০ সালে আর্জেন্টিনায় লুকিয়ে থাকা নাৎসি অপরাধী অ্যাডলফ আইনম্যানের অবস্থান শনাক্ত করে মসাদ একটি জটিল অপারেশন পরিচালনা করে—অস্তিত্ব, পর্যবেক্ষণ, গ্রেপ্তার ও গোপনে ইসরায়েলে অভিযোজন (Mossad)। অপারেশনটি আন্তর্জাতিক নজর কাড়া এবং পরবর্তীতে আইনমানের বিচারের কারণে নাৎসি অপরাধের বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক বার্তা গঠিত হয়। অপারেশনটি মসাদের কার্যক্ষমতা ও মানবচালিত গোয়েন্দার গুরুত্ব প্রমাণ করেছিল।
২) ‘অপারেশন ডায়মন্ড’ — মিগ-২১ অর্জন (১৯৬৬)
শীতলযুদ্ধ কালে মধ্যপ্রাচ্যে সদ্যপ্রবেশ করা সৌভিয়েত-মেড মিগ-২১ ফাইটার বিমানের চালেন্নিত তথ্যের অভাব পূরণ করতে মসাদ এক অস্বাভাবিক কৌশল গ্রহণ করে: ইরাকি পাইলট মুনির রেদফাকে প্রলোভনে ফেলে তাকে ইসরায়েলে আনানো হয়, ফলে মিগ-২১টি ইসরায়েলের হাতে পড়ে (Mossad)। এই সফল অপারেশন পশ্চিমা বিমানগত গবেষণায় বড় ভূমিকা রাখে।
৩) ‘র্যাথ অফ গড’/অপারেশন বেয়োনেট — মিউনিখ হামলার পর প্রতিশোধ
১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে নিহত ইসরায়েলি ক্রীড়াবিদদের ঘটনার পর মসাদ দীর্ঘমেয়াদি অনুসরণ ও লক্ষ্যনির্ধারণ অভিযানে নেমে পড়ে — সন্দেহভাজন সদস্যদের প্রতি আঘাতের সিরিজ পরিচালিত হয়। পরে উদঘাটিত নথি ইঙ্গিত দেয় যে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাও অনানুষ্ঠানিকভাবে তথ্যবিনিময়ে অংশ নিয়েছিল; এই অভিযান এবং সঙ্গী-হত্যার কৌশল আন্তর্জাতিক নৈতিকতা ও আইনি প্রশ্ন তোলায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ (Mossad)।
৪) ভুল শনাক্তকরণ: লিলেহামার কাণ্ড
মসাদের তৎপরতা সবসময় সঠিক ছিল না। ১৯৭৩ সালে নরওয়ের লিলেহামারে একটি ভুল শনাক্তকরণে এক নিরীহ ব্যক্তি হত্যা হয়—এ ঘটনাটি গোয়েন্দা ত্রুটি ও কম সময়ের চাপের ফল বারবার স্মরণ করিয়েছে (Mossad)। এরপর মসাদ-নির্ধারকদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ে এবং অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণের গুরুতর নৈতিক প্রশ্ন উঠতে থাকে। ২০১০-এর পর ইরানি পারমাণবিক কর্মী-নির্দেশক লক্ষ্য করে থাকা সিকোয়েন্সগুলোতে বহুজাতিক তদন্তে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ পাওয়া গেছে; অনেকেই মসাদের জড়িত থাকার কথা বলে থাকলেও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। এই ঘটনাগুলোতে কল্পিতভাবে বায়োটেকনিক্যাল কৌশল, ইলেক্ট্রনিক ট্র্যাকিং ও কভার অপারেশন সহ আধুনিক প্রযুক্তি দেখা যায়।

আরও পড়ুন : India Russia Relation : ডোভালের পর রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন জয়শঙ্কর! লক্ষ্য় ভারত রুশ সম্পর্ক মজবুত করা
অপারেশনাল নীতি ও নৈতিকতা (Mossad)
মসাদের কৌশলগত লক্ষ্য পরিষ্কার: ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—কিন্তু অপারেশনগুলো মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো ও নৈতিকতার সঙ্গে সংঘাতও তৈরি করে (Mossad)। সন্দেহাতীত লক্ষ্যে আঘাত, ত্রুটিপূর্ণ শনাক্তকরণ বা কভার-অপারেশনে বেসরকারি জনসাধারণের ক্ষতি হলে আন্তর্জাতিক নিন্দা ও কূটনৈতিক পরিণতি হয়। ইতিহাসে মসাদের কিছু অভিযান (যেমন লিলেহামার) এসব প্রশ্নকে তীব্র করেছে; আবার অন্য অভিযানে (আইনমান গ্রেপ্তার) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও বিচারের স্বার্থেও কাজ হয়েছে।
কিভাবে তারা সফল হয় ? (Mossad)
১) লোকাল নেটওয়ার্ক ও সায়ানিম ব্যবহার: বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা সহযোগী-জালিনাকরা লজিস্টিক ও কভার দেয়।
২) উৎসাহ-ভিত্তিক ইন্টেল ও বিশ্লেষণ: ব্যক্তি পর্যবেক্ষণ, মানবচালিত সূত্রের ক্রস-চেক ও প্রযুক্তিগত সাপোর্ট একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়।
৩) দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ক্ষুদ্র দলে কাজ: গোপন অপারেশন অধিকারে হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তৎপর হওয়া যায়—তাই কিছুমাত্র চাপ থাকলেও ফল আসে।

আরও পড়ুন : Kim Keon Hee Arrest : দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথমবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি দু’জনেই জেলে
মসাদ তথা ইস্রায়েলের বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা — ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তীকালে দেশ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক হুমকি মোকাবেলায় কার্যকরি ভূমিকা রেখেছে (Mossad)। তাদের সফলতা ও কৌশল আধুনিক গোয়েন্দাবৃত্তির পাঠ; তবু একই সঙ্গে তাদের কিছু অভিযান আন্তর্জাতিক আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন তোলে। মসাদের কাজকে কেবল ‘রোমাঞ্চকর স্পাই গল্প’ হিসেবে দেখা চলে না—এটি জাতীয় নিরাপত্তার কঠোর বাস্তবতা, যেটির প্রভাব কড়া রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও মানবিক ফল নিয়ে আসে।


